শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

লে. জে. হাসান সারওয়ার্দীর আচরণ অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর: আইএসপিআর

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

খবর > বাংলাদেশ
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্টে জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, এ ধরনের ‘আচরণ’ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর’।

রোববার আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সম্প্রতি ‘সেনানিবাসে প্রবেশ এবং সেনাবাহিনী সম্পর্কে’ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ‘মিথ্যাচার’ করেন, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

“তিনি লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর এনডিসির কমান্ড্যান্ট থাকা অবস্থায় একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এনডিসিতে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সের সাথে বিদেশে ভ্রমণকালেও অনেক মেয়েকে নিয়ে চলাফেরা করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার এই অশোভন আচরণ এবং মেলামেশার ছবি কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে উপদেশ দেওয়া হয়।”

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্টে জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীঅবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্টে জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি (হাসান সারওয়ার্দী) এলপিআর এ থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রথম স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন এবং সেনা আইন বর্হিভূতভাবে মেসকিট (সামরিক পোশাক) পরে ২১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিবাহ করেন।
“কিন্তু তিনি বিবাহের পূর্বে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে ০৩ নভেম্বর ২০১৮ থেকে একই বাসায় অনৈতিকভাবে অবস্থান করেন। এমনকি তিনি বিবাহের পূর্বে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বর্তমান স্ত্রীকে সাথে নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন, সাজেক রিসোর্ট, খাগড়াছড়িতে অবকাশ যাপন, বিভিন্ন সময় ভারত, থাইল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ ও অবস্থান করেন, যার সচিত্র আলামত সামরিক ও অসামরিক পরিমণ্ডলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এছাড়াও তিনি যাকে বিয়ে করেন সে একজন বিতর্কিত নারী হিসেবে পরিচিত।”

আইএসপিআর বলছে, “লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর (অবসরপ্রাপ্ত) এ ধরনের আচরণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। এ ধরনের ঘটনা সেনাবাহিনীতে কর্মরত অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর মধ্যে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে ও বিরূপ প্রভাব ফেলে।

“সামগ্রিক বিবেচনায় গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ উক্ত অফিসারকে সেনানিবাস ও সেনানিবাস আওতাভুক্ত এলাকায় অবাঞ্ছিত (Persona non grata) ঘোষণা করা হয়।”

সেনা কর্তৃপক্ষ ঘোষিত ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’র জন্য সেনানিবাস ও সেনানিবাসের আওতাভুক্ত সব স্থাপনা এবং সেনানিবাসের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা, যেমন- সিএমএইচ এ চিকিৎসা সেবা, অফিসার্স ক্লাব, সিএসডি শপে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ বলে জানানো হয় আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।


আরও সংবাদ