শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০১:২১ অপরাহ্ন

ভিশনারি লিডার সজীব ওয়াজেদ জয়

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

মিল্টন বিশ্বাস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় একজন ‘ভিশনারি লিডার’। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যে এই নেতার কথা আমাদের সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনা আর তার পুত্র জয় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান রূপকার। তার পরামর্শে ২০০৯ সালে যে ডিজিটালাইজেশনের সূচনা হয় তারই বিকশিত রূপটি এখন আমরা দৈনন্দিন জীবনে উপভোগ করছি। মারণব্যাধির চিকিৎসা থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রযুক্তি। এর জন্য গত এক যুগ ধরে যিনি অন্তরালে থেকে কাজ করেছেন তিনিই আমাদের ভিশনারি লিডার সজীব ওয়াজেদ জয়।

আজ ২৭ জুলাই ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন। তিনি বাংলাদেশের সমান বয়সী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা জয়ের শিক্ষাজীবন বেশ বর্ণাঢ্য। তিনি ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক শেষ করেন। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এরপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষে একজন আইটি প্রফেশনাল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠিত করেন জয়। হয়ে ওঠেন একজন সফল আইটি উদ্যোক্তা। তার এই শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের উন্নয়নে কাজে লেগেছে। জয়ের পরামর্শেই ২০০৯ সালেই এদেশে ‘আইসিটি পলিসি’ করা হয়। তখনই তিনি এই পলিসি বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কী কী করতে হবে সেগুলো বলে দিয়েছিলেন। অ্যাকশন প্ল্যান, টাইম ফ্রেম, মিশন-ভিশন, রোডম্যাপ এগুলো তার মস্তিষ্ক থেকে এসেছে। সেই অনুযায়ী কাজ করেই গত এক যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। দ্রুত পাল্টে যাওয়া পৃথিবীর সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে তাও তিনি নির্দেশনা দিয়ে দেখিয়েছেন।

জয়ের নেতৃত্বেই শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এ দেশ এগিয়ে গেছে। ২০০৭ সালে তিনি ২৫০ জন তরুণ বিশ্বনেতার মধ্যে একজন হিসেবে সম্মানিত হন। তিনি অনেক আগে থেকেই রাজনীতিসচেতন। ২০০৮ সালের জুন মাসে শেখ হাসিনাকে সামরিক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
জয়ের ভেতর রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মতো প্রচণ্ডতা। রয়েছে পরিশ্রমী ও তারুণ্যের প্রাণময়তা। এজন্য আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশে বেশি থাকা, মায়ের সঙ্গে চলা এবং রাজনীতিতে যোগ দেয়া আমাদের জন্য শুভ সূচনা ছিল। দেশের মধ্যে যারা একসময় দুর্নীতি ও নাশকতার পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তাদের মসনদ কেঁপে উঠেছিল তার দেশকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসার দেখে। তিনি মূলত বঙ্গবন্ধুর মতোই মানুষকে আশাবাদী করে জাগিয়ে তোলার জন্য কথা বলেন ও কাজ করেন। একসময় তার মতো বয়সে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে জাগিয়েছিলেন; জয়ও তেমনি সরকারের সঙ্গে থেকে দেশের সামগ্রিক সমস্যার সমাধান করে আওয়ামী লীগকেও গড়ে তুলতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। ভাষণ দেয়ার সময় তার ভেতর থেকে বঙ্গবন্ধুর মতোই সম্মোহনী চেতনা স্ফুরিত হয়।

লেখা বাহুল্য, সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৯ সাল থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা দিয়ে এদেশের আইসিটি সেক্টরকে উন্নতির শিখরে নিয়ে গেছেন। তরুণদের উজ্জীবিত করছেন মৌলিক গবেষণায়। বিএনপি-জামায়াতের গাত্রদাহের কারণ এজন্য যে জয় উচ্চশিক্ষিত এবং যে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার পুরোভাগে তিনি আছেন। শেখ হাসিনা যেমন নির্লোভ, মানুষকে ভালোবাসেন নিজের অন্তর থেকে, জয়ও মা’র সেই দীক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। বিরুদ্ধ মানুষের মন জয় করতে হয়েছে তাকে। তিনি মাঠে নেমেছেন, তার সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন।

সাধারণ মানুষকে শেখ হাসিনা সরকারের কর্মসূচি, সাফল্য বর্ণনা করতে হয়েছে ডিজিটাল দেশ গড়ার জন্য। অনেকে ভাবতে পারেন তিনি আমেরিকান সিটিজেন। সেটা সত্য হলেও, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে শেখ হাসিনাও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন। যেহেতু জয়ের মা নিজে এই মাটি, মানুষের নিকটজন সেহেতু তিনিও তারই ধারাবাহিকতায় মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
আগেই লিখেছি, সজীব ওয়াজেদ জয় ভিশনারি লিডার। তিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে ২০০৯ সালে দেখতে পেয়েছিলেন বলেই আজ দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। শিক্ষা খাতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ বেড়েছে। বিশেষত করোনা মহামারিতে সব প্রতিষ্ঠান এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পাঠ্যসূচিতে যেমন শিশুরা আইসিটি অধ্যয়ন করছে তেমনি তৈরি হয়েছে প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার’। এমনকি দেশের ‘বিপিও’ খাতে বর্তমানে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করা হচ্ছে। আইসিটিতে ৫০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সাড়ে ছয় লাখ মানুষ এই মুহূর্তে এই সেক্টরে চাকরি করছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষের কাজ করার সুযোগ হবে এ খাতে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী। গত একযুগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে গেছে তেমনি তার পুত্রের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে এদেশ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠেছে।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অপর এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, ‘সৎ সাহস ও নিজের আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো কঠিন কাজ করা যায়। আমরা কারো চেয়ে কম নই। বিদেশের সঙ্গে আমরা সমানে সমান। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে বিদেশি সার্টিফিকেট প্রয়োজন নেই।’ অর্থাৎ এই তরুণ নেতৃত্বের কাছে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরির ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে সততা এবং আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। সৎ না থাকলে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আর মানুষের ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের দেশকে টেনে উঠাতে দেশপ্রেম দেখাতে হবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে টেনে তোলার মধ্যেই দেশপ্রেম নিহিত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা বহমান তা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয় এই তৃতীয় প্রজন্মের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমাদের সব আকর্ষণ এখন কেন্দ্রীভ‚ত।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সজীব ওয়াজেদ জয় সবসময়ই পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন। মহামারি মোকাবিলায় প্রযুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ সচল করে রেখেছে। জয়ের পরামর্শে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে ৯৪টি যন্ত্রাংশের ওপর থেকে উচ্চ আমদানি শুল্ক উঠিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। জয় জানেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে মহামারি মোকাবিলা করেই।

ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও সংবাদ