শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০২:৩২ অপরাহ্ন

সারওয়ার্দীর রেশমাকান্ডে সরকার ও ছিল বিব্রত!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল । সেই দূর্ঘটনার ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বের করা হয় পোশাককর্মী রেশমা বেগমকে । অনেকের মতে সেটি ছিল একটি সাজানো নাটক। আর এই নাটকের নেপথ্য নায়ক ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের তৎকালিন জিওসি, বর্তমান সময়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত নানা অঘটন পটিয়সী উচ্চাবিলাসী সাবেক সেনাকর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। ৭ বছর আগের সেই অপকর্মে বিব্রত হয়েছিলেন সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা যায় সেনাপ্রধান হবার অভিলাসেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়তে এমন বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন। এমনকি ওই উদ্ধার অভিযানে তার অধীনে কর্মরত মধ্যপর্যায়ের সেনা কর্তারা এই নাটকের বিরোধিতা করেছিলেন। উদ্ধার অভিযানে সরাসরি জড়িত থাকা তৎকালিন একজন মেজর ( নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ) জানান, এই ঘটনার কথা আমরা কিছুই জানতাম না। সারওয়ার্দী স্যার আমাদের যেভাবে বলেছেন আমরা তাই করেছি। তবে তিনি সেনাপ্রধান হবেন এটা আমাদের প্রায়ই গল্পচ্ছলে জানাতেন। উনার সেনাপ্রধান হওয়ার খুব খায়েশ ছিলো। এমনকি এই রেশমা উদ্ধার নিয়ে মিডিয়ায় প্রশ্ন ওঠলে তিনি জানান , এসব কিচ্ছুই হবেনা। আমি সব ম্যানেজ করে নিচ্ছি।

যদিও ওই সময়ে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠেছিল।ওই সময়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর এবং ডেইলি মেইলে সরকার বিরোধী নেতিবাচকসেংবাদ প্রকাশিত হয়। যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড মিররে সাইমন রাইটের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ দিন পর পোশাককর্মী রেশমা বেগমকে উদ্ধারের ঘটনাটি ছিল সাজানো নাটক।

রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় রেশমার সঙ্গে কাজ করতেন এমন একজন পুরুষ কর্মী জানিয়েছেন ভবন ধসে পড়ার পর ওই দিনই তিনি এবং রেশমা একসঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসেন।

ওই সহকর্মী বলেন, ‘আমরা দুজন একসঙ্গেই হেঁটে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর দুদিন একই হাসপাতালে চিকৎসাধীন ছিলাম। এরপর রেশমা উধাও হয়ে যান। ১৭ দিন পর তাকে দেখলাম টেলিভিশনে। তারা এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলে জানাল। কিন্তু এটা ছিল ধোঁকাবাজি।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রেশমা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই বাড়ির কর্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ওই দিনই রেশমাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর পাশের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন।
মিরর-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়ার সময় রেশমার শারীরিক অবস্থা এবং তার জামা-কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

‘ধ্বংসস্তূপ থেকে যখন বের করা হয় তখন রেশমার চোখ খোলা ছিল। এত দিন অন্ধকারে থাকার পর দিনের আলোতে চোখ মেলতে যে সমস্যা হওয়ার কথা তা তার হয়নি। তার পোশাকও কোঁচকানো বা অপরিচ্ছন্ন ছিল না।

রেশমার ‘নতুন’ ড্রেস পরার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওই সময় মেজর জেনারেল সারওয়ার্দী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানে সে পড়েছিল সেখানে কয়েকটি কাপড় ও খাবারের দোকান ছিল। ১৭ দিন ধ্বংসস্তূপে থাকার কারণে তার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ায় উদ্ধারের আগে সে ওইসব দোকানের একটি থেকে কাপড়গুলো সংগ্রহ করে রেশমা নিজেই গায়ে দেয়।’

মূলত এটিও ছিলো তার পরিকল্পনার অংশ। যদিও তার বুদ্ধির কারণে উদ্ধার কাজটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে। উদ্ধারের সময় এই সারওয়ার্দীর বুদ্ধিতেই নতুন জামা পরিয়ে রেশমাকে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়, যে কারণে কিছু গুজবপ্রচারকারী সরকার বিরোধী অপপ্রচারে হালে পানি পায়! এ নিয়ে সে সময় অহেতুক বিতর্ক তৈরি হয়।

এদিকে উদ্ধারের পর রেশমাকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা নিয়ে রীতিমতো মিথ্যাচার করেছিলেন সারওয়ার্দী।

তিনি রেশমার কাছে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন, রেশমা কি আমেরিকা যেতে চায়, নাকি দেশে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যে হোটেল (হোটেল রেডিসন) আছে সেখানে চাকরি করতে চায়? এভাবেই দেশে ও দেশের বাইরে গণমাধ্যমে বিতর্কিত ইস্যু তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সারওয়ার্দী।

রানা প্লাজা ইস্যুতে নিজেকে বারবার হিরো’ মনে করলেও সাত বছর পর পুরোপুরি যেন ভোল পাল্টেছেন নারী কেলেঙ্কারী ও সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে দেশের সব সেনানিবাসে অবাঞ্চিত’ এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

কথায় আছে মদ, নারী আর তাস তিনে মিলে সর্বনাশ। একজন মানুষ সফলতার যত শীর্ষেই যান না কেন, এই বদগুণ যদি তাকে পেয়ে বসে তবে ধ্বংস অনিবার্য। যুগ যুগ ধরে এই প্রবাদ প্রমাণিত হয়ে এসেছে। সেনা কর্মকর্তা সারওয়ার্দী শুধুমাত্র তার নারী লোলুপতা ও নেশার কারণে ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন। নারী কেলেঙ্কারী ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার কারণে সামরিক উচ্চ পদধারী হয়েও নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সকল সেনানিবাসে। বিশৃঙ্খল, মদ্যপ ও কুরুচীপূর্ণ যৌনাচারের কারণে তার ১ম স্ত্রী তাকে ছেড়ে যায়। সন্তানেরা তার কাছে থাকে না।

একাধিক নারীর সাথে বিবাহবহির্ভুত অনৈতিক সম্পর্কে রয়েছেন হাসান সারওয়ার্দী। হাই সোসাইটি কলগার্লদের সাথে প্রায়শই ঘনিষ্ট মেলামেশায় দেখা যেত তাকে। একাধিক বিয়ে আর নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা তো রয়েছেই। সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী এসব কর্মকান্ডের কারণেই বছর দেড়েক আগেই তাকে দেশের সব সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে সেনা সদর দপ্তরের শাস্তিমূলক এমন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি রীতিমতো গোপন’ করেছেন।

সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে ২০১৮ সালের ১ জুন অবসরে গিয়ে ডুব দিলেও হঠাৎ করেই পুরনো স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় যেন পুড়ছেন। যুক্তরাজ্যে পলাতক ও দন্ডিত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অঙ্গুলী হেলনে নীতি বাক্যে ফেনা তুলছেন মুখে।


আরও সংবাদ