1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

ড্রাইভার আবেদ আলী ছিলেন ‘হাওয়া ভবন’ সিন্ডিকেটের সদস্য

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪

সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় পিএসসির চাকরিচ্যুত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ওরফে জীবন। প্রশ্নফাঁস করার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার অঢেল সম্পদের তথ্য। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসই তার বিপুল সম্পদের উৎস। প্রশ্ন উঠেছে- ২০০২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ২০১৩ সালে বরখাস্তকৃত এই আবেদ আলী এত অর্থ-সম্পদ পেলেন কোথায়?

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পিএসসিতে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন আবেদ। তখন পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফয়েজ। ২০০২ সালে প্রফেসর ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম চেয়ারম্যান হওয়ার পর নিয়োগ বাণিজ্যে হাতেখড়ি শুরু হয় আবেদ আলীর। অতঃপর হাওয়া ভবনের নিয়োগকৃত পিএসসির সদস্য মাহফুজুর রহমানের গাড়ীচালক হওয়ার পর আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান আবেদ আলী। ২০০৮ সাল থেকে আলোচনায় থাকলেও ইকরাম আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপর ২০১৩ সালে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ধরা পড়েন ও সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

জানা যায়, পিএসসিতে মাহফুজুর রহমানের আলাদা একটি কক্ষ ছিল। পিএসসির সদস্য হলেও সেই কক্ষে তিনি মূলত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পিএসসির চেয়ারম্যানসহ অনেকে সবাই তাকে ভয় পেতেন । অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে চার দলীয় জোটের দলীয় নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঢুকেছে বিসিএস ক্যাডারে। তবে দলের পরিচয় থাকলেও টাকা দেওয়া লেগেছে প্রত্যককেই।

গুলশানের একটি ভবনে এবং নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ‘ভিন্ন জগৎ’ নামক একটি রিসোর্ট ছিল মাহফুজুর রহমানের।

যারা টাকা দিত, তাদের এই দুই স্থানে রেখে পরীক্ষার একদিন আগে প্রশ্নপত্র দেওয়া হতো। সেখানে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হতো। পরের দিন পরীক্ষায় তারাই সর্বোচ্চ মার্ক পেত। এভাবে মাহফুজুর রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। ওই সময় দলীয় নেতাদের তালিকাও আসত। সেই তালিকা অনুযায়ী তিনি টাকা নিতেন এবং নেতাদের ভাগ দিতেন। সেসময় আবেদ আলীর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ কাজ করতো যাদের কাজ ছিল কাস্টমার যোগাড় করা। এভাবে এক একটি ব্যাচ থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছে এই সিন্ডিকেট। জিজ্ঞাসাবাদে আবেদ আলী সবকিছুর স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমানের অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। পরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক মাহফুজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

আবেদ আলী সামান্য গাড়ীচালক হয়ে যদি এত অর্থসম্পদের মালিক হন, তাহলে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের কত হাজার কোটি টাকা থাকতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে আবেদ আলীর সঙ্গে প্রশ্নফাঁসে জড়িত আরও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে ১০ কোটি টাকার চেকসহ মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে তিনি জড়িত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার মাধ্যমে বের হবে কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত এবং এই টাকার ভাগ কারা পেত।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, এই ঘটনার অনেকের নাম আসছে। জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রশ্নফাঁস ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, ছাড় দেওয়া হবে না। যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।


সর্বশেষ - অভিমত