1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বিসিএসে সবচেয়ে বড় ‘প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি’ বিএনপি-জামায়াত আমলেই

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪

জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খানের মা অধ্যাপক ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ২০০২ সালের ৯ মে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট জিনাতুন নেসা দায়িত্ব নেয়ার পরই ২৪তম (২০০২-২০০৩) বিসিএস পরীক্ষার সবচেয়ে বড় প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। এমনকি সেই পরীক্ষাও বাতিল করা হয়।

সেই সময়কার জাতীয় সংবাদপত্র বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০০৩ সালের ৪ মার্চের দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় শিরোনাম করা হয় ‘২৪তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিল’। সেই খবরে উল্লেখ করা হয়, ‘২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল (সোমবার) বিকেলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় আকস্মিকভাবেই এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবশ্য এর আগে গতকাল সকালেই পিএসসি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে না করতেই রহস্যজনকভাবে পুরো পরীক্ষা বাতিলেরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

২০০২ সালে প্রফেসর ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম চেয়ারম্যান হওয়ার পর নিয়োগ বাণিজ্যে হাতেখড়ি শুরু হয় ড্রাইভার আবেদ আলীর। অতঃপর হাওয়া ভবনের নিয়োগকৃত পিএসসির সদস্য মাহফুজুর রহমানের গাড়ীচালক হওয়ার পর আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান আবেদ আলী। ২০০৮ সাল থেকে আলোচনায় থাকলেও ইকরাম আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপর ২০১৩ সালে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ধরা পড়েন ও সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বিএনপি-জামায়াত আমলের ২৪তম বিসিএসের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কিছু কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে, সেই সময়ে দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হয়। সারাদেশে সেই ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিসিএস প্রশ্নফাঁসে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী সেই সময়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগমের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। এর আগে ছিলেন পিএসসির সদস্য মাহফুজুর রহমানের গাড়ীচালক।

জানা যায়, সেই সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তাহসান খানের মা ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সমন্বিত ও মুদ্রণসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে পিএসসির প্রতিটি সদস্যই জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে পরীক্ষা বাতিলের দাবি নাকচ করে দেন। এমনকি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায়ও পিএসসি চেয়ারম্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম কোনো তদন্ত কমিটি গঠন থেকেও বিরত থাকেন। পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র রমনা থানায় হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ও উত্তরের কপি নিয়ে জিডি করতে গিয়েছিলেন; সে সম্পর্কেও তিনি কোনো খোঁজ-খবর নেননি এবং সংশ্লিষ্ট ওসিকেও ডেকে এ ব্যাপারে কোনো সত্যতা যাচাই করেনি।

সেই সময়ে এই ঘটনার পর সংবাদপত্রে প্রশ্নফাঁস সম্পর্কে প্রতিদিন লেখালেখি অব্যাহত থাকায় এবং পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে মত দেওয়া হয়। এরপরই ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে চার দলীয় জোটের দলীয় নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঢুকেছে বিসিএস ক্যাডারে। তবে দলের পরিচয় থাকলেও টাকা দেওয়া লেগেছে প্রত্যককেই।

জানা গেছে, প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন’-এর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত অষ্টম চেয়ারম্যান। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দ্বারা ২০০২ সালের ৯ মে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৭ সালের ৭ মে পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।


সর্বশেষ - অভিমত