রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

সংশোধন হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা সংশোধনে আগামী সপ্তাহে খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়। দণ্ড কমিয়ে এবং অপরাধ জামিনযোগ্য করে এ ধারায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৯ ধারায়।

৫৭ ধারা যথার্থভাবে সংশোধন না হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় হবে বলে আশংকা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের। এতে শুধু গণমাধ্যমই নয়, যেকোনও মানুষের মুক্ত চিন্তা বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এ আইনের অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। অনলাইনে সাইবার ক্রাইমসহ এমন অনেক প্রচার হয় যা প্রতিরোধে আইন প্রয়োজন। কিন্তু ৫৭ ধারার সমস্যা হচ্ছে, কেউ চাইলেই থানায় ৫৭ ধারায় মামলা করতে পারে না, পক্ষান্তরে থানাকে ম্যানেজ করা গেলে মামলা করা যায়। একবার ৫৭ ধারায় মামলা হলে অভিযুক্তকে যে দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তি পোহাতে হবে তারচেয়ে আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধের মামলা থেকে রেহাই পাওয়া সহজ। তাই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে মামলা হলে প্রতিকার নেই, নেই ক্ষতিপূরণের অপশন! ফলে ৫৭ ধারায় ক্ষমতাবানদের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।

গত দুই বছরে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শতাধিক মামলা হয়েছে। ৫৭ ধারায় যেসব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এবং অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারণে সরকারকার দলীয় কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়েছে।

এই ধারা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বির্তকের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৫৭ ধারাকে যুক্ত করতে চাচ্ছে নতুন হতে যাওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে।

জানা গেছে, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ‘উদ্ধুদ্ধ হতে পারে, সম্ভাবনা থাকে’ এমন শব্দ পরিবর্তন করে শাস্তির মেয়াদ ১৪ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করা হয়েছে। অপরাধ জামিনযোগ্য রাখা হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়ে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।

এছাড়া মানুষের বাক স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয় বা গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কিছু নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৯ ধারায় থাকছে না বলে জানা গেছে।


আরও সংবাদ