বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

রংপুরের পোল্ট্রি আঞ্চলিক গন্ডি ছাড়িয়ে একটি নীরব বিপ্লব সাধন করেছে!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৭
রংপুরের পোল্ট্রি আঞ্চলিক গন্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় চাহিদা পূরণ করছে

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরের পোল্ট্রি এখন আঞ্চলিক গন্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যেই পোল্ট্রি শিল্পে একটি নীরবের ফলে শুধু প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণই নয় বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের দারিদ্র ঘুচিয়ে জাতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ১২ আগস্ট শনিবার বিকেলে এসোড মিলনায়তনে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ওয়াচডগ বাংলাদেশ আয়োজিত পোল্ট্রি রিপোর্টিং বিষয়ক দিনব্যাপী এক মিডিয়া কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা একথা বলেন।

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন রংপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও জেলায় গত ১০ বছরে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিয়েছে। রংপুর জেলায় বার্ষিক ডিমের উৎপাদন ৬২ কোটি ৩৯ লাখ। মাংসের উৎপাদন ১.১৯ লাখ মেট্রিক টন। বছরে ডিমের মাথাপিছু কনজাম্পশন প্রায় ১০১টি এবং মাংসের কনজাম্পশন প্রায় ১২১ গ্রাম।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি এন্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর এবং রিসোর্স পার্সন ড. তাহেরা ইয়াসমিন বলেন, পোল্ট্রি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অথচ সবচেয়ে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে পোল্ট্রি’র ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদন করা হয়। নকল ডিম নিয়ে অনেক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু দেশে নকল ডিমের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, রংপুর বিভাগে পোল্ট্রি খামারি এবং শিল্প উদ্যোক্তারা আধুনিক ফিড মিল, হ্যাচারি এবং পোল্ট্রি খামার স্থাপনের দিক থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে সারাদেশে রংপুরের পোল্ট্রি শিলাপ লীড করবে।

রিসোর্স পার্সন দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহযোগী হিসেবেও গণমাধ্যম কাজ করছে।

রিসোর্স পার্সন যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বিপিআইসিসি’র মিডিয়া উপদেষ্টা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পৃথিবী জুড়ে পোল্ট্রি বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি এবং মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদার পাশাপাশি রুচির ভিন্নতা আনার ক্ষেত্রে পোল্ট্রি শিল্পের যে বিকাশ হয়েছে, তার যতসামান্যই এপর্যন্ত আমাদের মিডিয়ায় উঠে এসেছে। পোল্ট্রি রিসাইক্লিং কিংবা পোল্ট্রিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রভৃতিগুলো বিষয়গুলো মিডিয়ার দর্শক-পাঠকের জন্যও আগ্রহোদ্দীপক হতে পারে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রংপুর পোল্ট্রি শিল্প মালিক সমিতি’র যুগ্ম-সচিব মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য কৃষির মতই সাবসিডাইজড রেটে বিদ্যুৎ বিল এবং নূন্যতম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, পোল্ট্রি শিল্প না থাকলে দেশের মানুষের ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিলনা। পোল্ট্রি শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটার ফলে শুধু প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণই নয় বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের দারিদ্রতা ঘুচেছে। আগামী দিনের চাহিদা মেটাতে একদিকে যেমন বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়াতে হবে অপরদিকে তেমনি ক্ষুদ্র খামারিদের সুরক্ষার কথাও ভাবতে হবে।

স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক, বার্তা সংস্থা এবং টেলিভিশন চ্যানেলের মোট ৩০ জন সাংবাদিক উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র এবং পোল্ট্রি রিপোর্টিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


আরও সংবাদ