বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

বর্তমান ব্যবস্থাপনায় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপক মুনাফা অর্জন!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
গ্রামীণ ব্যাংক

(বিশেষ প্রতিবেদক : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম): নতুন ব্যবস্থাপনায় দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে দেয়া ঋণের সুদের হারও কমানো সত্ত্বেও গ্রামীণ ব্যাংক এ বছর ব্যাপক মুনাফা অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে মোট ১৩৯ কোটি টাকা মুনাফার বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে ১০২ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে গ্রামীন ব্যাংক।

গ্রামীন ব্যাংকের পূর্বের ও বর্তমানের তুলনামূলক আর্থিক চিত্র:

বর্তমানে দেশের ক্ষুদ্র ঋণদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সবচেয়ে কম। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্দিষ্টকৃত ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ, গ্রামীন ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদ ২০ শতাংশ।
বিশেষ ক্ষেত্রে সুদের হার আরও কম, যেমন: শিক্ষা ঋণের সুদ পাঁচ শতাংশ এবং গৃহনির্মাণ ঋণের সুদ আট শতাংশ।
উল্লেখ্য, আগে গ্রামীন ব্যাংকের সুদ ছিল ৩৫% এর বেশি।

অধিক সংখ্যাক মানুষকে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে নতুন নতুন খাতে ঋণদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটি এ পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার জন্য ৫২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে অপেক্ষাকৃত ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটদের সহযোগিতা করতে তাদেরকে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এছাড়া গ্রামাঞ্চলের যে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রযোজন তাদেরকেও ঋণ দিচ্ছে এ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ৯ হাজার ৬১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এবং ২০১৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৮ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঋণ আদায়ের হার ২০১০ ছিল ৯৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৯৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য বা ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ২০১০ সালে ছিল ৮৩ লাখ ৪১ হাজার এবং ২০১৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ দুই হাজার এ। এছাড়াও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে কমে চলতি বছরের জুন মাসে শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে এই হার ছিল শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ছিল দুই শতাংশ।

মুনাফা, ঋণ ছাড় ও আদায় এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যাসহ ব্যাংকের সব সূচকই ধীরে ধীরে বাড়ছে।


আরও সংবাদ