মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে নাশকতা চালাতে আইএসকে বৃটেন থেকে অর্থের জোগান : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

(ইবার্তা ডেস্ক:) সারা বিশ্বে, বিশেষত বাংলাদেশে নাশকতা ও হামলা চালাতে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট আইএসকে অর্থের জোগান দিচ্ছে ব্রিটেনের ওয়েলেস শহরের কিছু কোম্পানি। এই অর্থায়নের পথকে সুগম করতে একটি নেটওয়ার্কও ইতোমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এফবিআইএর সূত্র উল্লেখ করে বাংলাদেশের জন্য ব্রিটেন থেকে আইএস-এর অর্থ সংগ্রহের কৌশল ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বলছে, বার্সেলোনার হামলার পিছনে রয়েছে আইএস নেটওয়ার্ক। আর তার সত্যতা পাওয়া গেছে সিরিয়ায় নিহত বাংলাদেশি জঙ্গি সাইফুল হক সুজনকে নিয়ে তদন্তে।

জানা গেছে, জঙ্গি সুজন আইব্যাকস নামে নিজের একটি আইটি কোম্পানি থেকে অনলাইন শপিং সাইট “ইবে”তে কম্পিউটার, প্রিন্টার ও এক্সেসরিজ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিত। পরবর্তিতে পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুয়া পন্য বিক্রি দেখিয়ে টাকা আনা হতো বাংলাদেশে এবং তা পৌঁছে যেত জঙ্গি তৎপরতায়।

ফেডারেল আদালতে এফবিআইয়ের দেওয়া এক এফিডেভিটের ভিত্তিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, আসলে প্রিন্টার বিক্রির আড়ালে ব্রিটেন থেকে জঙ্গি অর্থায়নের টাকা সংগ্রহ করত আইএসের কম্পিউটার অপারেশন বিভাগের প্রধান সুজন।

সন্দেহভাজন এক আইএস জঙ্গির বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা অর্থপাচার ও জঙ্গি অর্থায়নের নেটওয়ার্ক খুঁজে পান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, দেড় বছর আগে মেরিল্যান্ডে অভিযান চালিয়ে মহম্মদ এলশিনাওয়ি নামে ৩০ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা জঙ্গিদের অর্থ পাচার নেটওয়ার্কের ‘ক্লু’ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন নজরদারির পর ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এলশিনাওয়িকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তার বিরদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বাল্টিমোরের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। সেখানে বলা হয়, এলশিনাওয়ি ইবে’র মাধ্যমে প্রিন্টার বিক্রির নাটক সাজিয়ে পেপ্যালের মাধ্যমে আইএসের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থ তোলে। সেই অর্থ জঙ্গি হামলায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

এফবিআইয়ের দেওয়া এফিডেভিটের সূত্র উল্লেখ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও লিখেছে, এই পদ্ধতিতেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের জঙ্গি অর্থায়ন হয়ে থাকে। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আইএস নেটওয়ার্ক যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশেও টাকা পাঠিয়েছে। আর এর পেছনে ছিলেন আইএসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ‘বাংলাদেশি কম্পিউটার প্রকৌশলী’ সাইফুল হক সুজন। আইএসের ওই নেটওয়ার্কে যুক্ত বেশ কয়েকজন পরে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে গ্রেফতার বা নিহত হয় বলে এফবিআইয়ের এফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের নথি অনুযায়ী, আইএসের কম্পিউটার অপারেশনস বিষয়ক পরিচালক হিসাবে নিয়োজিত ছিল সুজন। জঙ্গি সুজনের প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ প্রযুক্তি কোম্পানি আইব্যাকসের মাধ্যমে ওই আর্থিক নেটওয়ার্কটি পরিচালিত হতো। সেই নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশে সুজনের কোম্পানির একটি শাখা রয়েছে। তুরস্কেও ওই কোম্পানির একটি শাখা খুলেছিল সুজন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়া পাশাপাশি প্রিন্টার কনফিগার করে দেওয়ার কাজও করত সুজনের কোম্পানি আইসব্যাক। কিন্তু ওই কোম্পানির নামে ১৮ হাজার ডলারে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মিলিটারি গ্রেড সার্ভেইল্যান্স ইকুইপমেন্ট কেনা হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছেন এফবিআইয়ের তদন্তকারীরা। এছাড়া আমেরিকার একটি কোম্পানিতে তারা আড়িপাতা সরঞ্জাম খুঁজে বের করার যন্ত্রপাতি কেনার অর্ডার দিয়েছিল, যা পাঠানোর কথা ছিল তুরস্কে।

এফবিআইয়ের এফিডেভিটে বলা হয়েছে, আইএসের এই নেটওয়ার্ক থেকে মোট ৮,৭০০ ডলার পেয়েছিলেন মহম্মদ এলশিনাওয়ি। এর মধ্যে পেপ্যালের মাধ্যমে পাঁচটি পেমেন্ট সে পেয়েছিল সুজনের কোম্পানির কাছ থেকে। এফবিআইএয়ের তথ্য অনুযায়ী, এলশিনাওয়ি ওই অর্থ খরচ করে একটি ল্যাপটপ, একটি সেলফোন ও ভিপিএন কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক কেনার পিছনে। আইএস নেটওয়ার্কে যোগাযোগের জন্য ওইসব যন্ত্রপাতি সে ব্যবহার করত। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত আইএসের সম্ভাব্য যে কটি আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। ওই নেটওয়ার্কের সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
অ্যাপ ও ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস টেকনোলজিসের মূল কাজকর্ম চলত ব্রিটেনের কার্ডিফ থেকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, তুরস্ক ও আমেরিকায় এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ছিল। ওই ব্যবসার আড়ালে সুজন জঙ্গিদের কাছে অর্থপাচারে যুক্ত ছিল বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা।


আরও সংবাদ