সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

একনেকে ৯ প্রকল্পের অনুমোদন: ৬৪ জেলায় সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম: নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া করা ভবনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যয়সাধ্য হওয়ায় ৬৪ জেলায় সবাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিসহ ৯ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৩২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সভায় উপস্থাপিত ৯টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পে ব্যয় করা হবে ১০ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। সরকারি কোষাগার থেকেই এসব ব্যয় করা হবে। ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সমাজসেবা অধিদফতরের ম্যান্ডেট হল সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করা। কিন্তু নিজস্ব কোনো অফিস নেই। তাই এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যথাযথ দাফতরিক স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা করা হবে। মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত সব কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিবীক্ষণ করা, কর্মজীবী মায়েদের কর্মের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, প্রতিবন্ধীদের জন্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন, এবং উপকারভোগী জনগোষ্ঠীকে অধিকতর উন্নত সেবা দেয়া হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে- সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পগু। ১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনে শেষ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প-৩য় পর্যায় (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। সংশোধিত এ প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ করতে হবে। তাতে ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। ৮৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। এটি ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হবে। নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪-লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ করতে হবে।

এ ছাড়া গতকাল একনেকে বাংলাদেশ-মায়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুনধুম) বর্ডার রোড নির্মাণ প্রকল্পটির (১ম সংশোধিত) অনুমোদন দেয়া হয়। ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে এটি শেষ করতে হবে। কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ করতে হবে। রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সড়ক নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটিরও অনুমোদন দেয়া হয়। ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলাধীন ধলেশ্বরী নদীর বাম তীরবর্তী গাছ-কুমুল্লী, বারপাখিয়া এবং নাগরপুর উপজেলার ঘোনাপাড়াসহ বাবুপুর-লাউহাটি এফসিডি প্রকল্প এলাকায় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ জুনে এটি বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।


আরও সংবাদ