রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সেকাল-একাল

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ

চিকিৎসা আমাদের মৌলিক অধিকার, কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তৎকালীন পূর্ব-বাংলার স্বাস্থ্য সেক্টর ছিল অবহেলিত। তখন কলেরা ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ছিল তবুও প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের অবস্থা ছিল নাজুক। চিকিৎসকরা ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও চাকরির মর্যাদা কিংবা সামাজিক মর্যাদা কোনটাই আশানুরূপ ছিল না। ৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরকে পুনর্গঠিত করার কাজে হাত দেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ন্যায় আমাদের দেশের চিকিৎসকরা মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ৬৯ জন চিকিৎসক শহীদ হন। চিকিৎসকদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অগাধ আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করে যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিল-

ক্স স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একজন চিকিৎসককে (ডা. টি হোসেন) স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।

ক্স চিকিৎসকদের মর্যাদাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ করেন।

ক্স নবীন চিকিৎসকদের ইন-সার্ভিস প্রথা চালু করে চাকরির ধারাবাহিকতা রাখার সুযোগ করে দেন।

ক্স প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন সাব-সেন্টার এবং থানা (বর্তমানে উপজেলা) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স পরিবার-পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার (বিএমআরসি) স্থাপন করেন।

ক্স উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে উন্নিতকরণ করেন যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সালে এমবিবিএস কোর্সের প্রথম ব্যাচ চালু হয়।

ক্স পুরোনো আইপিজিএম অ্যান্ড আর- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শাহবাগে স্থানান্তর এবং উন্নীতকরণ করেন।

ক্স জনস্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স শিশু স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিয়ে শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স সংক্রমক রোগের চিকিৎসায় মহাখালীতে সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

ক্স ড. আর জে গাস্টের পরামর্শক্রমে পঙ্গু হাসপাতালের সম্প্রসারণ করেন।

ক্স শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫ (পাঁচ) শয্যার প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন।

ক্স বারডেম ও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের জন্য জায়গা বরাদ্ধ করেন।

এছাড়াও ওষুধনীতি প্রস্তুত এবং ভিটামিন এ এবং এন্টিহেলমেনথিকডে আরম্ভ করেন। এসব কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু দেশ পরিচালনায় স্বাস্থ্য সেক্টরে জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য সেক্টরে আমূল পরিবর্তনের নতুন নতুন ধারার সূচনা করেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো সারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও আবারও অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হয় এবং বঙ্গবন্ধুর সেই উদ্যোগগুলো আবারও উপেক্ষিত এবং অবহেলিত হয়। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে সব শ্রেণী-পেশার মানুষই নির্যাতিত ও বঞ্চিত হতে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে ১৯৭৮ সালে আমরা পে-কমিশনের একটি বড় আন্দোলনও হতে দেখেছি। চিকিৎসকরাও তখন সংগঠিত হতে থাকেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের দাবি দাওয়া এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে তারাও সোচ্চার হতে শুরু করেন। জিয়ার অবৈধ সরকারের পতনের পর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শাসন আমল শুরু হয়। তখনও অবশ্য ১৯৮৫-৮৬ সালে প্রকৃচির মাধ্যমে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ মেডিকেল

অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ডাক্তারদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্মিলিত ২১-দফা এবং ২৩-দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। চিকিৎসকদের ইন-সার্ভিস প্রথা বন্ধ করে দেয়ার ফলে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়। এক পর্যায়ে স্বৈরাচারী এরশাদ গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি ঘোষনা করল সারা দেশের চিকিৎসক সমাজ উত্তাল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বিএমএ’র কাছে সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেয়। বিএমএ তিন জোটের রূপ রেখার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানে তখনকার বিএমএ’র যুগ্ম-সম্পাদক ডা. শামসুল আলম খান মিলনের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন হয়। আমরা চিকিৎসক এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা আশা করেছিলাম পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের কাক্সিক্ষত দাবি দাওয়াগুলোর সমূহ সমাধান করবে কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম ভিন্ন অবস্থা।

৯৬’র আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের ভোট ও ভাতের আন্দোলনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে চিকিৎসক সমাজ আবারও রাজনৈতিক আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে মাঠে নামে এবং তৎকালীন স্বৈরাচারী খালেদা সরকারের পতন হয়।

১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর আবারও ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ এবং ঘুরে দাঁড়ায় স্বাস্থ্য সেক্টর এবং আবারও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বাস্থ্য খাতে স্বায়ত্তশাসন এবং সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবি গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রতিষ্ঠা সেই সময়ে বিএমএ’র সঙ্গে সমন্বয় করে সংসদে উপস্থাপিত হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ৬০০০ (ছয় হাজার) মানুষের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আজকে বিশ্বনন্দিত এবং রোল-মডেল হিসেবে অনেক দেশেই অনুকরণ করছে।

অষুধ শিল্পে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে দেশীয় ওষুধ শিল্পগুলোকে উন্নত ও শক্তিশালী করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়যার ফলশ্রুতিতে আজকে ১৫১টি দেশে আমাদের দেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে এবং যা আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি শুল্কমুক্ত করার নীতি গ্রহণ করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হার্টের বাইপাস সার্জারি, কিডনি প্রতিস্থাপনসহ আরও উন্নত জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি একসময় আমাদের দেশে অকল্পনীয় ছিল, যা আজকের দিনে বাস্তবতা। ২৩ দফার অন্যান্য দাবি দাওয়াগুলোও নিষ্পত্তি করা হয়।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের পর আবারও আমরা এক অন্ধকার জগতে প্রবেশ করি। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বিগত সরকারের উল্লেখযোগ্য অনেক পদক্ষেপই উপেক্ষিত করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার দেশ পরিচালনায় দায়িত্বে আসেন ঠিক তখন আবারও উন্নয়নের ধারা শুরু হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে একের পর এক স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষও এখন আত্মবিশ্বাসী এবং তারা মনে করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ এবং উন্নয়ন সম্ভব। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত তিন মেয়াদে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আবার চালু করা হয়েছে, আজ প্রায় সাড়ে তেরো হাজার (১৩, ৫০০) কমিউনিটি ক্লিনিক সারা দেশে চালু আছে এবং এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বৃহৎ একটি অংশ এমসিএইচ সার্ভিস চালু করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ৬টি টিকা থেকে বৃদ্ধি করে ১১টি টিকা দেয়া হচ্ছে। মায়ের স্বাস্থ্য উন্নয়নে উদ্ভাবনামূলক ও কার্যকর ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল হেলথ পুরস্কার গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য সেক্টরের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নতুন পদ সৃষ্টি এবং শেখ হাসিনার সরকার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। নতুন হাসপাতাল ও নতুন বেড/শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কুর্মিটোলায় ৫০০ শয্যা হাসপাতাল, মুগদায় মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, আগারগাঁও এ বিশ্বমানের নিউরো-সাইন্স ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও এ ইএনটি ইনস্টিটিউট, মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বমানের আরও অনেক বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। সর্বশেষ শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ঢাকা মেডিকেলের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা বিশ্বে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ বার্ন ইনস্টিটিউট। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে গাজীপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

এ মুহূর্তে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ১১১টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এছাড়াও ১৯টি ডেন্টাল কলেজ, ৩৭টি নার্সিং কলেজ, ২২টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১৭১টি মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস), ৫৪টি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশে ইতোমধ্যে ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং খুলনায় আরও ১টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা আছে বর্তমান সরকারের।

নার্সিং পেশাকে আরও যুগোপযোগী করতে মুগদাতে বিশ্বমানের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান সরকারের সহযোগিতায় ১০০০ শয্যার বঙ্গবন্ধু সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালকে ৫০০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক হাসপাতাল করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়নে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা হেলথ কেয়ার নামে একটি সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ধাপে ধাপে এ কর্সূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাস্থ্য সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে উন্নতির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নার্সিং অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছে। কালোবাজারে ওষুধ বিক্রি রুখতে লাল-সবুজের মোড়কের প্রচলন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে ডিপিসি পদ্ধতি চালু হওয়ার পরে চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের প্রমোশনের জটিলতা লাঘব হয়েছে। ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু ও টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠা করার ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মানুষের কাছে এখন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে দেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার চিকিৎসক এবং নার্স নিয়োগ দিয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় সব চিকিৎসা সুরক্ষাসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে। চীন দেশের মেডিকেল টিম এসে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আমাদের আরও সমৃদ্ধ করেছে। এবারের বাজেটে গতবারের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ১০ হাজার কোটি টাকা কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। ৮৫০ কোটি টাকা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাতা হিসেবে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে ৩১ দফা স্বাস্থ্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রণোদনাসহ আর্থিক এবং খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। বৈশ্বিক সম্মেলনে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। গ্লোবাল সিটিজেন ফান্ডে ভ্যাকসিনের জন্য ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) ডলার জমা দিয়েছেন। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বৈশ্বিক মহামারী মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আমাদের দেশের চিকিৎসক সমাজ ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন সংগ্রাম এবং জাতীয় দুর্যোগ প্রেক্ষাপটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিগত সময়ের কলেরা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, গুটিবসন্ত ইত্যাদি মহামারী মোকাবিলায় চিকিৎসকের ভূমিকা অনেক। নিকট অতীতেও ডেঙ্গু জ্বর ও চিকনগুনিয়া চিকিৎসায়ও অনেক সাফল্যে রয়েছে আমাদের চিকিৎসক সমাজের। এ বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারীকালেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক শহীদ হয়েছেন, তারপরও দৃঢ়তার সঙ্গে এই মহামারী মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই দেশ পরিচালনায় দায়িত্বে এসেছে তখনই অন্যান্য খাতের ন্যায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এ উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঢেলে সাজাতে হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আমরা বিশ্বাস করি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর হবে এবং আমরা ফিরে পাব গণমুখী ও উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এ প্রত্যাশায় …।

[লেখক : মহাসচিব স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)]


আরও সংবাদ