1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
এই ডিসেম্বরেই জাহাজ ভিড়বে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
এই ডিসেম্বরেই জাহাজ ভিড়বে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে - ebarta24.com
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

এই ডিসেম্বরেই জাহাজ ভিড়বে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে

নাজিম আজাদ
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

ডিসেম্বরেই জাহাজ ভিড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে। ১৪৪৮ কোটি টাকায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বিদেশী অপারেটর দিয়ে টার্মিনাল পরিচালনার সিদ্ধান্ত থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই নিয়োগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না। বরং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপারেশন শুরু করে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজ শেষ করার সময়সীমা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাহাজ ভেড়ানোর মতো অবস্থা হয়ে যাবে। এখন চলছে একেবারে শেষ সময়ের কাজ। তৈরি হয়ে গেছে ৪শ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে জেটি। ইয়ার্ডের ওপর দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য ওভারপাস নির্মাণের কাজও শেষ। পতেঙ্গায় প্রায় ২৬ একর জায়গার ওপর নির্মিত টার্মিনালটি পুরোপুরি অপারেশনে গেলে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বেড়ে যাবে বছরে আরও সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস, যা বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের (পিসিটি) প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরকার বলেন, সময়সীমা আগামী জুন পর্যন্ত হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি চালু করা। অতি সম্প্রতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার ওপর কারও হাত নেই। সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে এই বছরেই পিসিটিকে অপারেশনের উপযোগী করে গড়ে তোলার।

পিসিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। ২০১৭ সালে এর কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরে বেসরকারী খাতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অপারেটরই ক্রয় করবে। ফলে প্রকল্প ব্যয় হ্রাস পেয়ে ১৪৪৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই টার্মিনালের বার্ষিক কন্টেনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা হবে সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস। ফলে পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যমান বন্দরের ওপর চাপ কমবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা নানা কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়। পিসিটির জন্য যন্ত্রপাতি নিজেদেরই কেনার কথা ছিল। কিন্তু গত মার্চ মাসে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি পিপিপির (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) আওতায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। ফলে বিদেশী অপারেটর যে আসবে, সেই সংগ্রহ করবে যন্ত্রপাতি। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ হতে পারে ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রাক সমীক্ষা অনুযায়ী পিসিটি পরিচালনায় বার্ষিক ব্যয় হবে ৮ মিলিয়ন ডলার। বেশকিছু বিদেশী বিনিয়োগকারী এরই মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোঃ জাফর আলম বলেন, সেনাবাহিনী যদি ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলতে পারে তাহলে বিদেশী অপারেটরের অপেক্ষায় না থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এতে জাহাজ ভেড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভেড়ানো হবে গিয়ার ভেসেল (ক্রেনযুক্ত জাহাজ)। বন্দরের কাছে থাকা অতিরিক্ত স্ট্যাডল ক্যারিয়ার, রিচ স্টেকারসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় জাহাজ থেকে কন্টেনার ওঠানামা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান বলেন, সেখানে জাহাজ ভেড়াতে হলে খুব সামান্য ড্রেজিং প্রয়োজন। টার্মিনাল চালু করার সিদ্ধান্ত হলে অল্প সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করা যাবে। তিনি জানান, পিসিটিতে একসঙ্গে চারটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। মোহনার কাছাকাছি হওয়ায় এখানে জাহাজ ভিড়তে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগবে। বন্দরের জেটিসংখ্যা বেড়ে গেলে জাহাজগুলোর অপেক্ষার সময়ও কমবে।

ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম পিসিটির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা সময়ের দাবি। কারণ দেশের আমদানি-রফতানি এবং অর্থনীতির আকার যেভাবে বাড়ছে তাতে করে বিদ্যমান বন্দর দিয়ে আর বেশিদিন সেবা প্রদান করা যাবে না। সে জন্যই আমাদের নিজেদের গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণকাজ অতি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021