1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

হৃদয়বিদারক হিরোশিমা-নাগাসাকি ট্র্যাজেডি

আনিকা তাহসিন অর্না : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানি সময় ঠিক সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জাপানের হিরোশিমা শহরে পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হিরোশিমায় যে বোমাটি ফেলা হয়েছিল, মার্কিনিরা তার নাম দিয়েছিল ‘লিটল বয়।’ এটির শক্তি ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টন টিএনটির বিস্ফোরণক্ষমতার সমান। দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যত স্থাপনা ছিল সবই মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। চোখের নিমিশে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে শহরের অধিকাংশ স্থান।

১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটে মার্কিন বিমান বাহিনী অতর্কিতভাবে ‘ফ্যাটম্যান’ নামের তাদের দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করে নাগাসাকিতে যাতে পুরো শহরটি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বোমাটির আনুমানিক ওজন ছিল ৪ হাজার ৬৩৩ কেজি, লম্বায় ছিল ১০ দশমিক ৭ ফুট (৩ দশমিক ৩ মিটার), ব্যাসরেখা ছিল মোটামুটি পাঁচ ফুট (১ দশমিক ৫ মিটার) বহনকারী বিমানের নামটি ছিল বি-২৯ সুপারকোর্টস যার অন্য নাম বক্সার। মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে বিস্ফোরিত হওয়া ফ্যাটম্যান নিমেষেই কেড়ে নিয়েছিল ৭৪ হাজার তাজা প্রাণ, তাদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যাই ছিল ২ হাজার জন আর তার সঙ্গে ছড়িয়ে দিয়েছিল তেজস্ক্রিয়তা যা এখনো জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি জুড়ে আবদ্ধ। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখে পৌঁছেছিল। এই বোমা ছিল ‘লিটল বয়’ থেকেও বেশি ধ্বংসাত্মক; কিন্তু হিরোশিমার মতো বাণিজ্যিক এলাকায় না ফেলে ফেলা হয় একটি উপত্যকায়। তবুও ক্ষতি ছিল একই পরিমান।

কান্না, আর্তনাদ, স্বজন হারানোর শোক অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় করেছিল জাপানবাসীকে। বোমা বিস্ফোরণের ফলে হিরোশিমায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার লোক মারা যায়। মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশির ভাগ স্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় নগরী। নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪ হাজার লোক মারা যায় এবং পরবর্তী সময়ে এই দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় আরো ২ লাখ ১৪ হাজার লোক। জাপানের আসাহি শিমবুনের করা হিসাব অনুযায়ী বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের ওপর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য গণনায় ধরে হিরোশিমায় ২ লাখ ৩৭ হাজার এবং নাগাসাকিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে। দুই শহরেই মৃত্যুবরণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক ব্যক্তি। প্রোজেক্টটির নাম ছিল ‘ম্যানহ্যাটেন প্রোজেক্ট’, আবিষ্কারকের নাম J. Robert Oppenheimer যিনি ছিলেন একজন পদার্থবিদ। পারমাণবিক বোমাটি তৈরি হয়েছিল ‘ইউরেনিয়াম ২৩৫’-এর আইসোটোপ দিয়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৪৯ সালে হিরোশিমাকে ঘোষণা করা হয় ‘শান্তির শহর’। নির্মিত হয় শান্তি স্মৃতি পার্ক। প্রতি বছরই শোক আর বেদনায় দিনটিকে স্মরণ করে বিশ্ব। সঙ্গে চলে যুদ্ধবিরোধী প্রচার।

সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের পাশাপাশি হামলায় নিহতদের আত্মীয়স্বজন ও বিদেশি প্রতিনিধিরা এসব আয়োজনে অংশগ্রহণ করে থাকে প্রতি বছর। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির ডাক দিয়ে থাকেন। কারণ ধারণা করা হয় ‘উগ্র জাতীয়তাবাদই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ’। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য প্রতি বছর বিশ্বকে আহ্বান করা হয় যেন এমন দুঃসহ অতীতের পুনরাবৃত্তি কখনোই না হয়। সভ্য সমাজকে অবশ্যই আত্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ পরিত্যাগ করতে হবে এবং সব হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বোমা হামলার এত বছর পরও শহর দুটোতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু। ক্যানসারসহ দুরারোগ্য রোগে ভুগছে বহু মানুষ। ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য জাপান সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান বিশ্বকে জানতে হবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের আদ্যপান্ত। পারমাণবিক শক্তিকে ব্যবহার করতে হবে মানুষের প্রয়োজনে, মানবজাতির কল্যাণে। তবে দুঃখের বিষয় হলো বর্তমান বিশ্বও অনেকটা মুনাফালোভী, অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে তাদের এই অমূল্য মেধাকে কাজে লাগাচ্ছে যা অচিরেই আমাদের পুরোনো ভয়াবহ অতীতকে আবার মনে করিয়ে দিতে পারে। যা অবশ্যই কাম্য নয়। তবে এই খাত ব্যবহার করে খুব সহজেই চিকিত্সা বিজ্ঞান, কৃষি ও শিল্প উত্পাদন, খাদ্য সংরক্ষণ, যোগাযোগ, যাতায়াত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

লেখক : আনিকা তাহসিন অর্না – শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ