1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

হামজা রহমান অন্তর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

২০ আগস্ট, ১৯৭১।
শুক্রবার, সকাল ১১.১৫ মিনিট।
মৌরিপুর বিমান ঘাঁটি, করাচি, পাকিস্তান।

পাঞ্জাবী পাইলট রশীদ মিনহাজ উড্ডয়নের প্র্যাকটিস করার জন্য টি-৩৩ বিমান নিয়ে রানওয়ে দিয়ে এগুচ্ছিল। হঠাৎ বিমানটির সামনে এগিয়ে যান মতিউর রহমান, ইশারা দিয়ে রশীদকে বুঝালেন বিমানের পেছনের দিকে সমস্যা হয়েছে। সমস্যা দেখবার জন্য রশীদ বিমানের উপরের ঢাকনা (কেনোপি) খুললে, ওকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দ্রুত লাফ দিয়ে বিমানের ভেতরে ঢুকে পড়েন মতিউর রহমান। মুহুর্তকাল দেরী না করে হাতের ক্লোরোফরম দেয়া রুমাল রশীদের নাকে চেপে ধরলেন মতিউর, অজ্ঞান হয়ে যায় রশীদ। এরপর, অজ্ঞান রশীদকে পেছনের সিটে ঠেলে পাঠিয়ে, বিমানটি দ্রুত ভারত সীমান্তের দিকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মতিউর। কিন্তু হলো না।

কিছুক্ষন পর পাকিরা টের পেয়ে চারটি বিমান নিয়ে মতিউরের পিছু নিল। কিন্তু ওরা মতিউরকে বাগে আনতে পারল না। ভারত সীমান্ত থেকে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। এসময় রশীদের জ্ঞান ফিরে আসে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তবু সর্বশক্তি দিয়ে সবকিছু ঠিক রাখার চেষ্টা করলেন মতিউর। কিন্তু না, আর পারলেন না। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন। কিন্তু প্যারাসুট না থাকাতে তিনি মাটিতে পড়ে শহীদ হন। তাঁর মৃতদেহ বিমান বিধ্বস্তের স্থান হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়। মতিউর রহমান বিমান থেকে ছিটকে পরার কিছুক্ষন পরে, নিয়ন্ত্রনহীন বিমানটি রশীদ সহ ভারত-সীমান্ত হতে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের খাট্টা অঞ্চলের জিন্দাগ্রাম এলাকায় বালির পাহাড়ে আছড়ে পড়ে।

পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনিয়ে এনে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদানে মতিউরের স্বপ্ন পূরণ হলো না কিন্তু তিনি দেখিয়ে দিলেন স্বাধীনতার স্পৃহা মানুষকে কি পরিমাণ দুঃসাহস এনে দেয়। মতিউর রহমানের এই দুঃসাহসী ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পাকিস্তান সামরিক কর্তৃপক্ষ মতিউর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্তানে কোনমতে দাফন করে। পরবর্তীতে, অসামান্য বীরত্ব ও অকল্পনীয় দুঃসাহস এবং আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর, ২০০৬ সালের ২৩ জুন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফট্যান্ট মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২৫ জুন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানকে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসার সাথে স্মরণ করছি।

লেখক : হামজা রহমান অন্তর – কলামিস্ট, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও ছাত্রনেতা 


সর্বশেষ - অভিমত