শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

অনিরুদ্ধ রায় অপহরণ নাকি সিনহার নির্দেশে আত্মগোপন ! কলকাঠি নাড়ছে কারা?

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গুলশান ১ নম্বরের পাশে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে অনিরুদ্ধ রায়কে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। অনিরুদ্ধ রায়ের ভাগ্নে কল্লোল হাজরা কর্তৃক গুলশান থানায় দায়ের করা জিডিতে (জিডি নম্বর-১৭৭৩) অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান ১ নম্বরের পাশে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে ৭/৮ জন ব্যক্তি অনিরুদ্ধ রায়কে তুলে নেয়।

গাড়ি চালকের সূত্রে অনিরুদ্ধকে তুলে নেয়া মাইক্রোবাসের নম্বরও দেয়া হয়।

অনিরুদ্ধ ২০১৬ সালে বেলারুশের অনারারি কনসাল হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৪ এবং ১০১৭ সালে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সরকার তাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব (সিআইপি) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই স্বাভিবিকভাবেই পুলিশ ও ডিবির তদন্তে ব্যবসায়িক বিরোধকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া অনিরুদ্ধ ঋণ নেয়ার জন্য আলাপ করতে ইউনিয়ন ব্যাংকে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যদিও ঋণ নেয়ার বিষয়টি জিডিতে উল্লেখ ছিল না।

গাড়িচালকের দেয়া অপহরণকারী মাইক্রোবাসের নম্বর ভুয়া বলে জানা গেছে। অনিরুদ্ধের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারদের দ্বন্দ্ব রয়েছে কিনা কিংবা দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এ ঘটনায় বেশকিছু অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ৭/৮ জন অপহরণ করেছে বলা হলেও জানা গেছে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ভবন থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে ২ জনকে দেখা গেছে।
সংবাদ মাধ্যমে তার পরিচিতি দেয়া হয়েছে, আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, কিন্তু অনিরুদ্ধের বিদেশে পরিচিতি ও সিআইপি মর্যাদা এফবি ফুটওয়্যারের প্রতিনিধি হিসেবে।
বলা হয়েছে, অপহরণের সংবাদ বাসায় জানানোর পর জিডি করা হয়। কিন্তু অনিরুদ্ধের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনিরুদ্ধের পরিবারের কেউ এদেশে থাকেন না।

অনিরুদ্ধ নিখোঁজ রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন জানা গেল অনিরুদ্ধ কুমার রায়, প্রধান বিচারপতি সিনহার ঘনিষ্ঠজনদের একজন। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, অনিরুদ্ধের সাথে বিচারপতি সিনহার যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনিরুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সকলেই সিনহার সাথে অনিরুদ্ধের সম্পর্ক এবং এফবি ফুটওয়্যারে সিনহার বিনিয়োগ সম্পর্কে অবগত আছেন।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনহা সাহেবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আশিয়ান সিটির কাছ থেকে পঞ্চাশ কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ, ফারমার্স ব্যাংকে একদিনে চার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রসঙ্গ আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া উত্তরায় দখল করা জমির উপর অনুমোদনবিহিন যে বিলাসবহুল বহুতল ভবন করা হয়েছে তার পাওয়ার অব এটর্নি সিনহা সাহেবের পিএ রঞ্জিত রায়ের স্ত্রী শ্রান্তি রায়ের নামে দেয়া হয়েছে। পিএর স্ত্রীর নামে আমমোক্তারনামা দেয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহ এবং অপকর্ম ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় রঞ্জিত রায় সপরিবারে সিঙ্গাপুরে চলে যায়।

সম্প্রতি বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে। অপকর্ম ও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় আত্মগোপন করেছে নাকি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আত্মগোপন করেছে এ প্রশ্ন উঠেছে। সিনহার ঘনিষ্টজনদের তালিকায় আছেন পিনাকি দাস, গিরি ধারি লাল মোদী, পঙ্কজ ভট্টচার্জ প্রমুখ। ধারণা করা হচ্ছে তারাও আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন।

রঞ্জিত, অনিরুদ্রধের পর অাত্মগোপনে যাবে কে?

রঞ্জিত, অনিরুদ্রধের পর অাত্মগোপনে যাবে কে?

 

গুম নাটক করে অনেকদিন পর দেখা পাওয়া গিয়েছিল বিএনপির হারিস চৌধুরিকে। ফরহাদ মজহার যে অপহরণ নাটক করেছিলেন তাতে সরকারের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা ছিল। কিন্তু অনিরুদ্ধ রায়ের আত্মগোপনে যাওয়া এক অর্থে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে চেলেঞ্জ দেয়ার সমতূল্য! বিচারপতির সিনহার পেছনে থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, কারা তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তা উম্মোচন হতে হয়তো বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।


আরও সংবাদ