শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

‘কমল প্রভা’র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব। জঙ্গি নেতাদের তথ্য পাওয়া গেছে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
‘কমল প্রভা’র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব

রাজধানীর মিরপুরে মাজার রোডের বাঁধন সড়কের বর্ধনবাড়ি এলাকার ভাঙ্গাওয়াল গলির ছয়তলা ভবন ‘কমল প্রভা’র জঙ্গি আস্তানায় আবার অভিযান শুরু করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ সকালে সাড়ে ৮টায় র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল জঙ্গি আস্তানার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে এখনও বেশ কয়েকটি ইম্প্রভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) অবিস্ফোরিত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল বুধবার বেলা ৩টা ১৮ মিনিটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান যে, জঙ্গি আব্দুল্লাহর ‘কমলপ্রভা’ ভবনের পঞ্চমতলার সারওয়ার জাহান, তামিম ও সোহেল মাহফুজদের মতো কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ঘিরে ফেলা হয় রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডে বাঁধন সড়কের বর্ধনবাড়ি এলাকার ভাঙ্গাওয়াল গলির ছয়তলা বিশিষ্ট ওই বাড়িটি। বাড়িটিতে দুই স্ত্রী, সন্তান ও সহযোগীসহ দুর্ধর্ষ জঙ্গি আব্দুল্লাহ অবস্থান করছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে তাদের আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা আত্মঘাতী হন। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহর বাবার নাম মৃত মীর ইউসূফ আলী, বাড়ি মেহেরপুরে। তার দুই স্ত্রী- নাসরিন ও ফাতেমা, দুই সন্তান- ওসমান (৯-১১) ও ওমর (৩)। ওই বাসায় আব্দুল্লাহর বোন মেরিনাও অবস্থান করছিলেন। তিনি সোমবার গভীর রাতে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে মেরিনার মাধ্যমে র‌্যাবের সঙ্গে আব্দুল্লাহর যোগাযোগ স্থাপন হয়।

আব্দুল্লাহর আরেক ভাই (৪৫), তবে তার নাম জানা যায়নি। তিনি কোরআনে হাফেজ বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মুফতি মাহমুদ খান সংবাদকর্মীদের জানান, জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ না করে রাত পৌনে ১০টার দিকে পরপর বড় চারটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে র‌্যাবের চার সদস্য স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন। বিস্ফোরণের কারণে ওই ভবনের আগুন লেগে যায়।
বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই বাড়ির ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি অভিযান শুরু করে র‌্যাব সদস্যরা।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুফতি মাহমুদ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ তার সহযোগীদের নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এছাড়া টেলিফোন, ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। মানসিকভাবে চাপে ফেলতে এবং তারা (জঙ্গিরা) যাতে বাধ্য হয় আত্মসমর্পণ করতে- এ কারণে এসব করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আজ সকালে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মেহেদি জানান, আস্তানার ভেতরে ও ছাদে বেশ কয়েকটি অবিস্ফোরিত বোমাসহ বিস্ফোরক দেখা গেছে। যেগুলো গত রাতে নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। আজ সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। তাছাড়া ভেতরে আর কোথায় কি রয়েছে তা দেখা হচ্ছে।

এরআগে বুধবার সন্ধ্যার পর র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিস্ফোরণের পর দগ্ধ মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন উদ্ধার অভিযান চলছে। কাজ করছে ফরেনসিক টিম।

তিনি তখন জানান, হাউজ রেল ক্লিনিংয়ের কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। রাত হওয়ায় অভিযান বন্ধ থাকছে তবে বৃহস্পতিবার পুনরায় ‍শুরু হবে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ঘিরে ফেলা হয় মাজার রোডের ছয়তলা ভবন কমল প্রভা। ওই ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও সহযোগীসহ দুর্ধর্ষ ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ অবস্থান করছিলেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও মজুদ ছিল বলে র‌্যাবের দাবি।

পরবর্তীতে তাদের আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা আত্মঘাতী হন। এতে দুই শিশুসহ ভেতরে থাকা সবার মৃত্যু হয়।


আরও সংবাদ