বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ মুজিববর্ষে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা হাসি ফিরেছে পাট চাষিদের মুখে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিশ্বসেরা : ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম থেকে ২৬৯ রোহিঙ্গাকে উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মিয়ানমার সরকারের অমানবিক অত্যাচারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার মহানগর ও ১৫ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬৯ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) কুসুম দেওয়ান সোমবার বিকালে বাসসকে এ তথ্য জানান।
শরণার্থী রোহিঙ্গাদের বড় উদ্ধার অভিযান হয় পটিয়া উপজেলায়। আজ সোমবার ও রোববার দুই দিনে পটিয়ায় অনুপ্রবেশকারী ১১৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার হাইদগাঁও ও পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৩ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। রোববার আরও ১২জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। ক্যাম্পে পাঠানোর আগে উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে থানা ও উপজেলা প্রশাসন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ‘মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার তাদের তালিকা করার ব্যবস্থা করেছে। পটিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১০৩ রোহিঙ্গাকে প্রথমে থানায় এনে একত্রিত করা হয়। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদানের পর বাসে করে কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। রোববারও একই পরিবারের ১২ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে উখিয়া ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। ওই রোহিঙ্গা পরিবারটির কর্তা আবু তাহের কক্সবাজার থেকে পালিয়ে এসে পটিয়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় গোপনে আশ্রয় নিয়েছিলেন।’ কক্সবাজার থেকে পটিয়া হয়ে রোহিঙ্গাদের সহজে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছেÑ এমন মন্তব্যের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে খুবই সজাগ। রোহিঙ্গারা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়ে পটিয়া পুলিশ প্রশাসন সক্রিয়। পটিয়ার চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা তীক্ষè নজরদারিতে রয়েছে।’
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। প্রাণে বাঁচতে তারা বাংলাদেশে চলে এসেছেন। তাদের পরিবারের অনেক সদস্যকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি করে ও কুপিয়ে মেরে ফেলেছে বলে জানান রোহিঙ্গারা।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার খরনা রাস্তার মাথায় চেক পোস্টে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তথ্য মতে, পটিয়ায় পৌর সদরের গোবিন্দরখীল এলাকায় এক আত্মীয়ের ভাড়া বাসা থেকে শিশুসহ আরও ৯ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ২৪ জন, বাঁশখালী থেকে ২৬ জন, হাটহাজারী থেকে ১৯ জন, সীতাকু- থেকে ১৮ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরৎ পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কিছু রোহিঙ্গাকে বিভিন্নভাবে উখিয়ায় ফেরৎ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) কুসুম দেওয়ান বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৭টি চেকপোস্টের সবগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সচেষ্ট রয়েছি যেন কোন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।’
মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যাতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ২৭টি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া জেলার কোথাও রোহিঙ্গাদের পাওয়া গেলে তাদের খাবার ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসা দিয়ে উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আরও সংবাদ