রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

বিএনপির কাছে জোট সঙ্গীদের প্রত্যাশা ২৫০ আসন

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর ঐক্য: ফখরুল
জামায়াতকে নেয়া হবে কিনা সেটিই চূড়ান্ত নয়, আসন চায় কি করে?: গয়েশ্বর

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে মাঠে দেখা না গেলেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির কাছে চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর। আসন বণ্টনের ফয়সালা করতে প্রতিনিয়ত তারা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের চাপ দিচ্ছেন। বিএনপির কাছে জোটের শরিক দলগুলোর প্রত্যাশা প্রায় ২০০ আসন। যদিও জোটের ১২টি দলের নিবন্ধনই নেই। অন্যদিকে ভারসাম্যের রাজনীতির কথা বলে বিএনপির কাছে যুক্তফ্রন্টের এক নেতা ১৫০ আসন দাবি করেছেন। তাতে দেখা যায়, ৩০০ সংসদীয় আসনের একটিও থাকে না বিএনপির ভাগ্যে। কাটছাট করলে বিএনপির ভাগে ৫০টি আসন থাকে। এছাড়া জামায়াতকে ছাড়ার চাপও রয়েছে। সেই হিসেবে জামায়াতকে বাদ দিলে বিএনপি ১১০ টি আসনে নির্বাচন করতে পারবে।

এ অবস্থায় নিয়ে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। জোটের আচরণে ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কিছু বলতে পারছেন না দায়িত্বশীল নেতারা। ইতিমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছে জামায়াতকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব কষলে জামায়াতকে বাদ দেয়া ছাড়া তাদের গত্যন্তর নেই।

বিএনপির কাছে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর ৬০টি আসন নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মানবজমিনকে বলেন, “জামায়াতের ভোট ব্যাংকে ধ্বস নেমেছে। তাদের ১০টি আসন পাওয়ার অবস্থা নেই।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “জামায়াতকে নেয়া হবে কিনা সেটিই চূড়ান্ত হয় নি, আসন চায় কি করে?”

সম্প্রতি জোট নিয়ে বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় এক টকশোতে বলেছেন, “আমরা ঐক্য চাই, কিন্তু কাকে রাখতে চাই এটা বোঝার মত কাণ্ডজ্ঞান থাকা উচিত। কাউকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করতে হবে কিনা সেটুকু আত্মসম্মান সকলের থাকা উচিত।”
ধারণা করা হচ্ছে নিপুন রায় জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেছেন।

এদিকে আসন চাওয়া ছাড়াও কোনো কোনো দল ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদেরও আবদার করেছে বিএনপির কাছে। ২০ দলীয় জোট সূত্র জানায়, বিএনপির কাছে ২০০ আসন চেয়েও খুশি নন জোটের শরিক দলগুলো। তাদের দাবি, আসন নিয়ে বিএনপির কাছ থেকে কোনো আশ্বাসই মিলছে না। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জোটের বৈঠকে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো কথাই বলেনি বিএনপি। এ নিয়ে হতাশ জোটের শরিকরা।

জোটের শরিক দলের একাধিক নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই তারা বিএনপি জোট আঁকড়ে ধরে রয়েছেন। কিন্তু আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথাই বলছে না বিএনপি। এটা তাদের এখনই স্পষ্ট করা উচিত।’ শরিক দল ও অন্য জোট হলে তাদের জন্য কতটি আসন দেওয়া হবে এমন প্রশ্ন করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, “আসন বণ্টনের ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট করে বলার সময় আসেনি। কারণ, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টিই এখনো সুরাহা হয়নি। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তবে বৃহত্তর জোট হলে বিএনপি তো ছাড় দেবেই।”

জানা যায়, জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও খেলাফত মজলিস চায় অন্তত ৩০টি করে আসন। এ ছাড়া জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ১৫টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১০টি, বিজেপি ২টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম এবং লেবার পার্টি চায় ৬টি করে আসন, বাংলাদেশ ন্যাপ ৫টি, এনডিপি ২টি, জাগপা ও এনপিপি চায় ৪টি করে আসন, ডেমোক্রেটিক লীগ ও ন্যাপ চায় (ভাসানী) ২টি করে আসন এবং সাম্যবাদী দল চায় ১টি আসন।

এছাড়া যুক্তফ্রন্ট বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে গেলে অন্তত ৫০ থেকে ১০০টি আসন চাইতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে ২০ দল ছাড়াও যুক্তফ্রন্টসহ সরকারবিরোধী অন্যান্য দলগুলোকে জাতীয় ঐক্য গড়তে হলে আরও বেশ কয়েকটি আসন ছেড়ে দিতে হবে।

যুক্তফ্রন্টের উদ্যোক্তা অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অন্য দলের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ এসব দলের সিনিয়র নেতাদের জন্য অন্তত কিছু আসন ছেড়ে দিতে হবে বিএনপিকে। এক্ষেত্রে বিএনপি কিছু ছাড়ও দিতে চায়। শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন ছাড় দেওয়ার কথাটি তুলে ধরেন।
বিএনপি আপাতত ১৫০টি আসন পর্যন্ত ছাড় দিতে রাজি বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। তবে এ সংখ্যা ২০০তে ঠেকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া এখনো অনিশ্চিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু খালেদা বা তারেক ইস্যুতে কোনো দলই আন্দোলন করবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি সকল আসনে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। এ অবস্থায় ১৫০ টি আসন ছাড় দিলে ঐ সকল এলাকায় এক অর্থে সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হবে। আবার আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি অধ্যুষিত এলাকার আসন কি হবে এ নিয়েও জটিলতা কাটে নি। বিএনপির আম ও ছালা দুটিই যাবে কিনা এ নিয়েও চিন্তিত অনেকে!


আরও সংবাদ