রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কঠোর হয়েছে কেন্দ্র: সিলেট আওয়ামী লীগে তোলপাড়

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বড় রাজনৈতিক দলে গ্রুপিং থাকাই স্বাভাবিক, কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুলনামূলকভাবে বেশি। আর এজন্য প্রায় সকল স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনেই কমবেশি মূল্য দিতে হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সংকট কাটাতে দলের প্রধান ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। রাজশাহী বিভাগের নেতাদের ডেকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু সিলেট মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ চার নেতাকে শোকজ করা হবে তা কেউ ধারণা করে নি।

জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি অবসান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দলে অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এবার দলীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে জড়িত নেতাদের তালিকা করে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এবার দুটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রথমত: দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা যেমন: শোকজ, বহিস্কার।
দ্বিতীয়ত নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ। এটি দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে বিদ্রোহী ও দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে জড়িত নেতাদের তালিকা করে ক্রমে দায়িত্বশীল পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হবে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে শীর্ষ পদে আসীন করা হবে।
দল গোছানোর কাজকে আরও গতিশীল করতে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যও নেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি এলাকার সার্বিক সাংগঠনিক চিত্র ডাটাবেজের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজয়ের পর দলীয় প্রার্থীসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারজনকে চিঠি দিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন পরাজয়ের ব্যর্থতা স্বীকার করলেও ব্যক্তিগত দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শোকজের চিঠি হাতে পাওয়ার পর তারা লিখিত জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগে তোলপাড় চলছে। এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার সূচনা হলো রাজশাহী ও সিলেটের মাধ্যমে।

গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছয় হাজার ২০১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই পরাজয়ের নেপথ্যে সাংগঠনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। গত ৩০ আগস্ট কেন্দ্রীয় নেতারা সফরে এসে অভিযুক্তদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়ার পর গত সোমবার মেয়র প্রার্থীসহ চার নেতার কাছে জবাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়া অপর তিনজন হলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রের চিঠি হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি কামরান। কামরানের কাছে স্থানীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়। তিনি সমকালকে বলেন, তাকে শোকজ করা হয়নি। সাংগঠনিক কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সিটি নির্বাচনে পরাজয়, সাতটি ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী না থাকা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় না থাকার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট সিলেট সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠককালে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মেয়র পদে দলের নেতাদের বিরোধিতার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে কামরানের কাছে।

মেয়র পদে দলের মনোনয়নবঞ্চিত আসাদ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত ছিল বলে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তার কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আসাদ বলেছেন, দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের দায় থাকলে অবশ্যই নিতে হবে। কিন্তু কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। নিজের বিবেকের কাছে সৎ ছিলাম এবং আছি। তাই এই চিঠিকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি।

নাদেল বলেন, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরাজয়ের দায় অবশ্যই নিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিরোধিতা করার তো কোনো কারণ নেই। মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলাম না। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। সাংগঠনিকভাবেও তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। এটা তিনি নিজেও স্বীকার করবেন আশা করি। সবমিলে কেন্দ্রের চিঠিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও নিজের বিস্ময় আড়ালের চেষ্টা করেননি তিনি।

সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন সিরাজ। এই দায়িত্ব পালনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে কেন্দ্রের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যে কোনো সময় যে কাউকে শোকজ করতে পারে; এটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। মেয়র প্রার্থীর পরাজয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ত্রুটি থাকতে পারে; কিন্তু আত্মঘাতী কোনো কর্মকাণ্ড কেউ করেনি। তিনি বলেন, সিলেটে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু কোনো সময়ই আত্মঘাতী কিছু ছিল না, এখনও নেই।

জানা গেছে, সারাদেশের নেতাকর্মীদের কাছে সিলেটের ঘটনার মাধ্যমে সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে যদি শোকজ করা হয় তাহলে অন্যরাও ছাড় পাবে না, এই বার্তাটিই মূলত দেয়া হয়েছে।


আরও সংবাদ