রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০১ অপরাহ্ন

এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগের কারণে সুপ্রিম কোর্ট বয়কট করে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ থাকার কারণে তাকে বয়কট করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তার সঙ্গে বসতে চাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

সুপ্রিম কোর্টের প্রদত্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিটি দেওয়া হলো।’

বিবৃতিতে বলা হয়, সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রধান বিচারপতিকে জানানো হবে। তিনি সন্তোষজনক জবাব বা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না। ওই দিনই পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির কাকরাইল হেয়ার রোডের বাড়িতে যান। সেখানে তার সঙ্গে অভিযোগগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সদুত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে সে ক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে ২ অক্টোবর তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। এর পর বিচারপতি সিনহা সহকর্মীদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির দরখাস্ত প্রদান করলে রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগে কর্মে প্রবীণ বিচারপতি ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার প্রদান করেন।

আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া যান প্রধান বিচারপতি। যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, তিনি অসুস্থ নন। বিচার বিভাগের স্বার্থে তিনি আবার ফিরে আসবেন। তার অবর্তমানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের এই বিবৃতির পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রধান বিচারপতিকে সরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে এটা প্রমাণিত হয়েছে।


আরও সংবাদ