শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ মুজিববর্ষে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা হাসি ফিরেছে পাট চাষিদের মুখে

দেশজুড়ে বিচারালয়ের মাইলফলক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে:

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
সুপ্রিমকোর্ট
সুপ্রিমকোর্ট

বিকাশ দত্ত ॥ অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগে গত দশ বছরে বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের চিত্র পাল্টে গেছে। বিচার বিভাগের এই উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে বিচারপ্রার্থীরা। সুষ্ঠু পরিবেশে বিচারকদের কাজ কারার সুযোগ সৃষ্টির কারণে কমে গেছে মামলা জট। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই পুরনো মামলার জট অনেকাংশে কমে গেছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিচারপ্রার্থী জনগণ সুফল পাচ্ছে তেমনি বিচারকগণও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির স্থান সংকুলানের জন্য ‘বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত ভবন নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। বেশির ভাগ জেলায় আদালত স্থাপন হয়েছে। বাকিগুলো শীঘ্রই শেষ হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নানা উন্নয়নমূলক সংস্কার কাজের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে ভবনের কারণে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হয় তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। আদালত অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পাহাড়সম মামলা জট অনেকাংশে কমে গেছে। উন্নয়নের কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের চেহারা পাল্টে গেছে। শুধু জেলা সদরের আদালতগুলোই নয় ইতোমধ্যে বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ, সুপ্রীমকোর্টের ১২তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, বার কাউন্সিলের ১৫তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, আইনজীবী সমিতি ভবনসমূহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং বিচার বিভাগের জন্য অবকাঠামো তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেন। এর ফলে সারাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম ) আদালত ভাবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু জেলায় নির্মাণ কাজ শেষে সেখানে বিচার কাজ চলছে। বাকিগুলো ডিসেম্বর ও আগামী বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গেছে। সিএমএম ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রীমকোর্টে ১২তলা ভবন ও বার কাউন্সিলের ১৫তলা ভবন নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ২২ জেলায় আদালত ভবনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সবকিছুই করা হয়েছে জনগণের জন্য। জনসাধারণের সুবিধার্থেই এগুলো করা হয়েছে। পুরনো মামলা জটগুলো খুলতে শুরু করেছে। এখন অনেক মামলাই দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে। নিষ্পত্তির যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা আদালত অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে সেগুলো দূর হয়েছে। এমনকি বিচারকবৃন্দও মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সঙ্কট অনুভব করছেন না। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আদালতসমূহে বিচারাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার। শুধু প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এই বিশাল মামলা জট নিরসনে বিকল্প পদ্ধতিতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে। মামলা জট নিরসনের জন্য প্রথমেই আমাদের সঠিকভাবে মামলা ব্যবস্থাপনা করতে হবে, প্রচলিত মামলা ব্যবস্থাপনাতে পরিবর্তন আনতে হবে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে বিচারপূর্ব শুনানি ও প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করা হলে, দেওয়ানি মামলা দ্রুততম সময়ে বিকল্প পদ্ধতিতে কিংবা সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথ সহজ হবে। এ জন্য প্রয়োজন বিচারকদের আইনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং আইনজীবীগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ বলেন, আমার সময় বলেছিলাম আদালত করতে হবে নতুন জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। অতীতে দেখেছি ধানী জমি অধিগ্রহণ করে আদালত করা। ধানী জমির পরিমাণ কম, তাই সেখানে আদালত আছে সেটাই ১০তলা ভবন নির্মাণ করা। যাতে একই ভবনে সব আদালত বসতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক জেলাতে এ ধরনের ভবন হয়েছে। এর ফলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। আদালতের সংখ্যা বাড়ার কারণে মামলাও নিষ্পত্তি হচ্ছে।

সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প ॥ উচ্চ আদালতের একটি রায় অনুযায়ী দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের পৃথকভাবে পথচলা শুরু হয় ২০০৭ সালের ১ নবেম্বর এবং চলার শুরুতেই আদালতসমূহে বিশেষ করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এজলাসের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। ফলে বিজ্ঞ বিচারকগণ এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। এমনি অবস্থায় ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং বিচার বিভাগের জন্য অবকাঠামো তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির স্থান সংকুলানের জন্য ‘বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প (ফেব্রুয়ারি/২০০৯ হতে জুন/২০২০ ২য় সংশোধিত) গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো : ৪২ জেলায় ১২তলা ভিত বিশিষ্ট ৮/১০তলা সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ এবং অন্য ২২ জেলায় আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় ৪ জেলায় সম্পূর্ণ ভবন সমাপ্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম চলছে। (ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহী)। ৪ জেলায় কাজ প্রায় সম্পন্ন এবং ব্যবহারোপযোগী। (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও খুলনা)। ১৬ জেলায় ডিসেম্বর/২০১৮ এর মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। (টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, সিলেট, হবিগঞ্জ, বরিশাল ও পটুয়াখালী)। ১০ জেলায় জুন/২০১৯ এর মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। (জামালপুর, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, পাবনা, কুষ্টিয়া ও মৌলভীবাজার)। নতুন অন্তর্ভুক্ত ৮ জেলার মধ্যে ৬ জেলার নির্মাণ কাজ চলছে (কিশোরগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ভোলা ও ঝালকাঠি)। পিরোজপুর জেলার দরপত্র সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নেত্রকোনা জেলায় জমি এওয়াজবদল এর প্রস্তাবে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হয়েছে।

অন্য ২২ জেলায় আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং এগুলোতে এখন ভবন নির্মাণের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির স্থান সংকুলানের জন্য ২০০৯ সালে ২৭ জেলা সদরে ৫/৬তলা ভিত বিশিষ্ট ৪/৫তলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অতপর ২০১১ সালে এ প্রকল্প সংশোধন করে ৩৪ জেলায় ১২তলা ভিত বিশিষ্ট ৪/৫তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৫ সালে এ প্রকল্প পুনরায় সংশোধন করে ৪২ জেলায় ১২তলা ভিত বিশিষ্ট ৮/১০তলা সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে ২১ জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও মৌলভীবাজার) ১২তলা ভিত্তির ওপর ৮তলা ভবন এবং ১৬ জেলায় (টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ) ১২তলা ভিত্তির উপর ১০তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকায় ১৩তলা (বেইজমেন্টসহ) ভিত্তির উপর ৯তলা ভবন, পাহাড়ের পাদদেশে হওয়ায় চট্টগ্রামে ৭তলা ভিত্তির উপর ৭তলা ভবন এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ১২তলা ভিত্তির উপর ৭তলা এবং রাঙ্গামাটিতে ১২তলা ভিত্তির উপর ৫তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ২০ জেলায় সম্পূর্ণ ও অর্ধনির্মিত আদালত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে এবং এগুলোতে বিচারিক কাজ চলছে। অর্ধনির্মিত আদালত ভবনগুলো উদ্বোধন করে এগুলোতে একদিকে বিচারিক কাজ চালানো হচ্ছে অন্যদিকে উর্ধমুখী সম্প্রসারণেরও কাজ চলছে। সরকারের এ রকম বাস্তবধর্মী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ফলে এখন অনেক জেলায় আদালতের স্থান সংকুলান সমস্যা সম্পূর্ণ দূর হয়েছে।

জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প ॥ বর্তমান সরকার শুধু সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে থেমে থাকেনি। দেওয়ানি আদালতের বিচারকদের এজলাসসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি লক্ষ্যে ‘২৮ জেলায় আনুষাঙ্গিক সুবিধাদিসহ জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের (ফেব্রুয়ারি/২০১৪ হতে জুন/ ২০১৭) আওতায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৭ জেলায় পূর্বের ২তলা জেলা জজ আদালত ভবনগুলো ৩/৪তলা পর্যন্ত উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিচারকদের এজলাস, খাস কামরা, রেকর্ড রুম এবং দাফতরিক অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালত ভবনটি অনেক পুরনো হওয়ায় এটি উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। বাকি জেলাগুলোতেও জেলা জজ আদালত ভবনগুলো ৪তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প ॥ ঢাকা কালেক্টরেট চত্বরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবন ও হাজতখানা কাম-পুলিশ ব্যারাকের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের ৫ম তলা থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত এবং হাজতখানা কাম-পুলিশ ব্যারাকের ৩য় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের এজলাসসহ অন্যান্য অবকাঠামো এবং হাজতখানা কাম-পুলিশ ব্যারাকের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিচার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে উপকৃত হয়েছেন। ফলে বিচার কাজে গতিশীলতা আসছে, মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিচারকদের এজলাসসহ দাফতরিক অবকাঠামো এবং পুলিশ ও কয়েদিদের/হাজতিদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণ হয়েছে। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের জন্য ৪৫৬৮ বর্গমিটার এবং হাজতখানা কাম-পুলিশ ব্যারাকের জন্য ১১০০ বর্গমিটার ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প মেয়াদ ছিল, ১ এপ্রিল ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১২ পর্যন্ত।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ ॥ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্থান সংকুলানের জন্য জুলাই/২০১০ থেকে জুন/২০১৩ সময়কালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের উপর ৭ম, ৮ম ও ৯ম তলা এবং ১০ম তলার আংশিক নির্মাণ করা হয়েছে। আইন কমিশনের স্থায়ী ও নিজস্ব অফিস স্থাপনের জন্য বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনটিকে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২তলা পর্যন্ত উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সম্প্রসারণের মেয়াদ ধরা হয়েছে মার্চ/২০১৮ থেকে আগস্ট/২০১৯।

সুপ্রীমকোর্টে ১২তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প ॥ বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণের এজলাস এবং চে¤¦ারের অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা দূর করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বর্তমান এনেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে খালি জায়গায় ‘বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আনুষাঙ্গিক সুবিধাদিসহ নতুন ১২তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য ১৫৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। মেয়াদকাল, আগস্ট/২০১৭ থেকে জুন/২০২০ পর্যন্ত। এ ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে বিচারকদের এজলাসসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত ভবনটিতে ৪০টি এজলাস স্থাপন করা হবে। ফলে এজলাস সঙ্কট দূর হবে।

১৫তলা বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ প্রকল্প ॥ ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই/২০১৮ থেকে জুন/২০২১।

আইনজীবী সমিতিকে অনুদান প্রদান ॥ এ বিভাগের অনুন্নয়ন বাজেট থেকে সারাদেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিকে জুলাই/২০০৯ থেকে জুন/২০১৮ পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ ও বই পুস্তক ক্রয় বাবদ ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ ॥ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯তলা বিশিষ্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ, ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে সিলেট জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ৫ম তলা ভিতবিশিষ্ট জেলা বার হল নং-৫ এর ৫ম তলা ভবন নির্মাণ, ৪ কোটি ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ম তলা ভিতবিশিষ্ট নেত্রকোনা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরী ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে খুলনায় ৫ম তলা ভিতবিশিষ্ট ৪তলা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ, ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটে ৬ষ্ঠ তলা ভিতবিশিষ্ট ৬তলা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ এবং ২ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।


আরও সংবাদ