বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে ৩৫ হাজার নৌযানে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ থাকবে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বছরে ৫ কোটি ডলার আয়ের টার্গেট

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ৩৫ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জাহাজকে উপগ্রহ সেবা দেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যেখান থেকে বছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের আয় হবে ৪২ কোটি টাকা।

বছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) বাণিজ্যিক বিপণনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের মধ্যে সেবা দিতে বিসিএসসিএল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। চুক্তির ফলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে নৌযানে অত্যাধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে। অল্প দিনের মধ্যে দেশের আরও কয়েকটি দফতরের সঙ্গে বিসিএসসিএলের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান,

তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে বিসিএসসিএল যোগাযোগ করে যাচ্ছে। এই সব দেশের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পুরো দমে আসা শুরু হলে এসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হবে। বিসিএসসিএল এমডি সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) এমডি সাইফুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। তখন থেকেই পুরোদমে স্যাটেলাইট থেকে সেবা পাওয়া যাবে। বর্তমানে কিছু কিছু বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। দেড় দুই মাসের মধ্যে বিদেশে স্যাটেলাইটের বাজার তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান এবং উজবেকিস্তানে আমাদের স্যাটেলাইটের বড় বাজার রয়েছে। এসব দেশের অনেক দেশেরই কোন স্যাটেলাইট নেই। তাদের টেলিকম ও কেবল টিভির জন্য আমাদের স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হবে। আমরা এখন থেকেই চেষ্টা করব ওই সব দেশে ‘মার্কেটিং’ করার। উল্লিখিত দেশগুলোতে মার্কেটিং করাতে পারলে বছরে দেশের আয় হবে ৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট টিভির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বড় ভূমিকার পাশাপাশি দেশের জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতি প্রসার ঘটবে। বাংলাদেশ কিন্তু দুটি বিষয় মাথায় রেখে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। একটি দেশের টেলিযোগাযোগ সুবিধা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া অন্যটি বাণিজ্যিক দিক। বাণিজ্যিক দিক নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। তাদের কাছে স্যাটেলাইটের ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। আমরা স্যাটেলাইটকে টাকার অংক দিয়ে বিচার করছি না। এটা বাংলাদেশের মর্যাদার একটি বিষয়। মর্যাদা কখনও টাকা দিয়ে কেনা যায় না। পৃথিবীর ৫৭টি দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। যারা স্যাটেলাইট নিয়ে বিরূপ কথা বলছেন- তারা অল্প দিনের মধ্যে স্যাটেলাইটের সুফল পেতে শুরু করবেন। তখন আর তাদের কিছু বলার থাকবে না।

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, এই স্যাটেলাইটের মালিকানা নাকি দুইজন ব্যক্তি নিয়ে নিয়েছেন। আজকে আমাদের স্যাটেলাইট কোম্পানি চুক্তি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে এটি বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ। অনেকে এ কথাও বলেছিলেন, স্যাটেলাইট বানাইছো কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। এই কথাটির জবাব সম্ভবত আজকে আমরা দিতে পারছি। এই পারাটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের। স্যাটেলাইট কোম্পানির সঙ্গে সর্ব প্রথম নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এজন্য আমার সবচেয়ে বেশি গর্বিত। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ও সাগরে যেসব নৌযান চলাচল করবে সেগুলোর অবস্থান, গতিবিধি এবং সার্বিক অবস্থা আমরা জানতে পারব স্যাটেলাইটের সেবা গ্রহণের মাধ্যমে। পুরনো তিনটি লাইট হাউস আধুনিকায়নের সঙ্গে আরও সাতটি লাইট হাউস করছি।

উল্লেখ্য, ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। ২৩ মে স্যাটেলাইটটি এর জন্য নির্দিষ্ট জিওস্টেশনারি স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রী পূর্ব অবস্থানে পৌঁছায়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি) সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এর নেটওয়ার্ক এ্যাকসেপটেন্স রিভিউ (এনএআর) চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা দিতে প্রস্তুত বলে বিসিএসসিএল জানিয়েছে।


আরও সংবাদ