রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০১ অপরাহ্ন

উপ-আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক স্থাপন করছে বাংলাদেশ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

উপ-আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক স্থাপন করছে বাংলাদেশ। এর জন্য সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। যার মধ্যে একটি ধীরে চলা যানবাহনের জন্য বা স্লো মুভিং ভেহিক্যাল ট্রাফিক (এসএমভিটি) লেন হিসেবে রাখা হবে। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার ও চীনের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনসহ উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার পথ সুগম হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করা হবে। ঢাকা-সিলেট-তামাবিল করিডরের মাধ্যমে উপ-আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন করা হবে। স্থলবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে যাতায়াত সহজ করা হবে। এই সড়ক পর্যটন বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি করাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সিলেট জেলার সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৬১৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রকল্প ঋণ (এআইআইবি) পাওয়া যাবে ২ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় সড়ক পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। এসফল্ট প্লান্ট ও ইমালসন প্লান্টসহ রক্ষণাবেক্ষণ ওয়ার্কশপ তৈরি করা হবে একটি, কালভার্ট নির্মাণ করা হবে ৪৯টি। যার দৈর্ঘ্য ৬২৫ দশমিক ৫ মিটার। ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে ১০টি। টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে একটি। এক্সেল লোড নির্মাণ করা হবে একটি।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২০২০) দ্বিতীয় অংশের ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি” শীর্ষক ষষ্ঠ অধ্যায়ে বর্ণিত সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করার বিষয়টি সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকল্পটি প্রসঙ্গে একনেক তার মতামতে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার ও চীনের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনসহ উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার পথ সুগম হবে।

এমতাবস্থায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ‘প্রকল্পটি শুধু দেশীয় চাহিদাই নয়, আন্তর্জাতিক চাহিদাও পূরণ করবে। এটি হলে উপ-আঞ্চলিক সড়ক সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। পাশাপাশি স্থলবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে। সর্বোপরি এ অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।’


আরও সংবাদ