রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

হাসি ফিরেছে পাট চাষিদের মুখে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কুষ্টিয়ায় পাটের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফিরেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২১০০-২৭০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকরা আগে কখনও এই সময়ে এত দামে পাট বিক্রি করতে পারেননি। জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় জেলার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্যবারের চেয়ে ফলন অনেক কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছিলেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। প্রতি বছর বিঘা প্রতি ৮-১০ মণ পাট পাওয়া যেতো। কিন্তু এবার চাষিরা পেয়েছেন মাত্র ৫-৬ মণ পাট। দাম ভালো পেয়ে ক্ষতি কিছুটা লাঘব হওয়ায় এখন অনেকটা খুশি তারা।
পাট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের পাট চাষি ইয়াকুব হোসেন এ বছর চার বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। তার কথায়, ‘বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে থাকায় অনেক পাট নষ্ট হলেও দাম ভালো পেয়েছি। প্রায় ২১০০ টাকা মণ দরে আগেই পাট বিক্রি করে দিয়েছি। এখন বিক্রি করলে হয়তো আরেকটু বেশি দাম পেতাম।’

একই গ্রামের পাট চাষি মনিরুল ইসলাম এবার তিন বিঘা জমিতে পাট বপন করেছেন। তার ক্ষেতেরও অনেক পাট নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার অর্ধেক জমির পাট ২৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। আশা করছি, বাকি অর্ধেক পাটের দামও ভালো পাবো।’
উপজেলার পাট ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এ সময় পাটের দাম ছিল ১৫০০ টাকা মণ। এখন ২৪০০-২৫০০ টাকা। গতবারের চেয়ে এবার ৯০০ টাকা বেশি দিয়ে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের।
পাট চাষ
বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দামে পাট বেচাকেনা হয়। বালিয়াশিশা বাজারে লালি, সাদা ও শ্যামলা– এই তিন ধরনের পাট বিক্রি হয়ে থাকে। বর্তমানে লালি পাট প্রতি মণ ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সাদা ও শ্যামলা পাট ২৪০০ টাকা মণ।
পাট ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জমিতে অনেক পাট নষ্ট হয়ে যাওয়া ও ফলন কম হওয়ার কারণে পাটের দাম গতবারের চেয়ে অনেক বেশি।’
২০২০ সালে কুষ্টিয়ায় ৯৫ হাজার ৫১০ একর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়। তবে পাট চাষ হয়েছে ৯৪ হাজার ৬৯৮ একর। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৫৪ বেল। প্রতি বেলের ওজন ধরা হয় ১২৮ দশমিক ২৫ কেজি।
পাট
এ বছর কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৭৯২ একর, কুমারখালী উপজেলায় ১২ হাজার ৩২৫ একর, খোকসা উপজেলায় ১০ হাজার ৬২১ একর, মিরপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৯২ একর, ভেড়ামারা উপজেলায় ৮ হাজার ৬০৭ একর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৪০ হাজার ৯৭৭ একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ বছর সরকারিভাবে পাট ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন খোকসা উপজেলায় অবস্থিত পাটক্রয় কেন্দ্রে বেচাকেনা হবে না। তবে বাজারে দাম ভালো থাকায় চাষিরা পাট বিক্রি করতে পারছেন অনায়াসে।


আরও সংবাদ