1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পাহাড়ের দুর্গম এলাকা - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পাহাড়ের দুর্গম এলাকা - ebarta24.com
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২২ অপরাহ্ন

সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পাহাড়ের দুর্গম এলাকা

নাজিম আজাদ
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দেশের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরনবান ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত পার্বত্য অঞ্চল। ১৩ হাজার ২৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ অঞ্চলে অন্তত ১৬ লাখ জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ি এ জনপদের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বাকি জনগোষ্ঠীর অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে সেখানকার জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের আলো পেতে যাচ্ছে। তবে তা গ্রিডের নয়, সৌরবিদ্যুতের।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪২ হাজার ৫০০ সোলার বসিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

একনেক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০-২৫ বছরে যেসব এলাকায় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা যাবে না, সেসব এলাকায় সোলার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। এজন্য ১০০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ হাজার সোলার হোম সিস্টেম ও ৩২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ২ হাজার ৫০০ ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার কমিউনিটি সিস্টেম বসানো হবে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। ২০২৩ সালের জুন নাগাদ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত রয়েছে পিডিবি। সংস্থাটির আওতায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর বাইরে বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা অন্তত ১০ হাজার মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ সুবিধাজনক না হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুতের নীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, শতভাগ বিদ্যুতায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। মুজিববর্ষে দেশের সব এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ পাবে এমন পরিকল্পনা সরকারের। সেটি গ্রিড থেকে হোক কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে হোক। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম ও চরাঞ্চলে গ্রিড সুবিধায় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর সবাই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে।

এর আগে সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বিদ্যুতায়নের জন্য গত বছরের জুলাইয়ে একনেক সভায় ২১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ৪০ হাজার পরিবারকে গ্রিড লাইনের বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে না পারায় সেখানে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা সদর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বরকল, রাজস্থলী, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলা। খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, রামগড়, দীঘিনালা, গুইমারা, মহালছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলা এবং বান্দরবান সদর, রুমা, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানছি, আলীকদম উপজেলাও রয়েছে।

একনেক সভায় অনুমোদিত নতুন এ প্রকল্পে ৪০ হাজার বাড়িতে ১০০ ওয়াটক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১৩ হাজার করে এবং বান্দরবানে ১৪ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এছাড়া ওই তিন জেলার ২ হাজার ৫০০ হোস্টেল, এতিমখানা ও কমিউনিটি সেন্টারে ৩২০ ওয়াট সোলার সিস্টেম স্থাপন হবে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৮০০ করে এবং বান্দরবানে ৯০০ সোলার স্থাপন করার কথা রয়েছে।

পার্বত্য জেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পিডিবি ২০১৭ সালে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্পটির আওতায় ১২টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, সাতটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র ও তিনটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বর্ধিতকরণ করা হয়।

এছাড়া ৩৬৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন, ৫৫৪ কিলোমিটার ১১ কেভি লাইন, ৩১৮ কিলোমিটার ১১/০.৪ কেভি লাইন ও ৬৬৬ কিলোমিটার দশমিক ৪ কেভি লাইন নির্মাণ ও পুনর্বাসন কাজও শেষের দিকে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৬ হাজার গ্রাহককে নতুন করে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৩১ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিন জেলায় বিদ্যুতায়ন ৬০ শতাংশ।

পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) দেওয়ান সামিনা বানু বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় আমাদের দেড় লাখ গ্রাহক রয়েছে। গ্রিড লাইন আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করায় সেখানকার গ্রাহক বাড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে সেগুলো শেষ হয়ে গেলে আরো মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া যাবে।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021