1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
নিখোঁজের ২২ বছর পর 'সরকারি সহযোগিতায়' ফিরে এলেন আমেনা - ebarta24.com
  1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
নিখোঁজের ২২ বছর পর 'সরকারি সহযোগিতায়' ফিরে এলেন আমেনা - ebarta24.com
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

নিখোঁজের ২২ বছর পর ‘সরকারি সহযোগিতায়’ ফিরে এলেন আমেনা

অশোক আখন্দ
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বগুড়ার ধুনট উপজেলার আমেনা খাতুন ২২ বছর আট মাস আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। বছরের পর বছর খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমেনা মারা গেছেন বলে ধরে নেন সন্তানরা। অবশেষে নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। সরকারি সহযোগিতায় নেপালের একটি বিশেষ বিমানে সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন আমেনা। দীর্ঘদিন তার খোঁজ না থাকায় সন্তানদের ভোটার আইডিতে আমেনাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি।

আমেনার নাতি আদিলুর রহমান আদিল বলেন, দাদিকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।দাদি সবাইকে চিনতে পেরেছেন। তবে তিনি কীভাবে বিদেশে গেছে তা জানাননি। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরতে পেরে অনেক খুশি দাদি। রাতেই ছোট চাপড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো আমরা।

আমেনার নাতি নন্দীগ্রাম রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিশ আদিলুর রহমান আদিল বলেন, দাদা আজগর আলী প্রামাণিক ১৯৯৬ সালে মারা যান। দাদি প্রায় ৪০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। সরকারের সহযোগিতায় দাদিকে ফিরে পেয়েছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কনস্যুলার মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তার তিন ছেলে আমজাদ হোসেন প্রামাণিক, ফটিক মিয়া প্রামাণিক ও ফরিদ মিয়া প্রামাণিক এবং মেয়ে আম্বিয়া খাতুন। ছেলে ফটিক মিয়া ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবে যান। ডিসেম্বর মাসে দাদি আমেনা খাতুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সবাই ধরে নেন আমেনা মারা গেছেন। তাই ছেলেমেয়ের ভোটার আইডিতে তিনি মৃত।

আমেনার নাতি চিকাশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ধুনট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিমুল ইসলাম নূর বলেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে এলাকার একটি হোটেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশার সঙ্গে বসে চা পান করছিলাম। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) বগুড়ার সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম ফোনে চেয়ারম্যানকে জানান নিখোঁজ আমেনা খাতুন নেপালে আছেন। তিন দিন পর এনএসআই অফিসে যাই। গত ৩ সেপ্টেম্বর নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার মো. মাসুদ আলম ভিডিওকলে আমেনার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। ভিডিওকলে দাদিকে দেখে চিনতে পারি। এরপর দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’

পরদিন ফেসবুকে মাসুদ আলম পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নেপালে ২২ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন বগুড়ার আমজাদ হোসেন। ২২ বছর আগে আমেনা খাতুন অভিমানে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে ধরে নিয়েছিলেন মা বেঁচে নেই। আমেনার বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর।

মাসুদ আলম জানান, নেপালে সুনসারি জেলার ইনারোয়া পৌরসভার ডেপুটি মেয়র যমুনা গৌতম পোখরালের তত্ত্বাবধানে এক বাংলাদেশি নারী আছেন উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি মোবাইল ফোনে আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে ১ জুন কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সুনসারিতে যান। তাকে সহযোগিতা করেন সুনসার বাঙালি সমাজের সভাপতি বিপ্লব ঘোষ। পরে আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা জানা যায়। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর আমেনা খাতুনকে সরকারি সহযোগিতায় বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আদিল জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে বিশেষ বিমানে দাদি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। তারা সাত জন আমানাকে গ্রহণ করেছেন। দাদিকে নিয়ে মাইক্রোবাসে ধুনটের ছোট চাপড়া গ্রামে রওনা হয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন পর দাদিকে ফিরে পাওয়ায় আদিল বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এনএসআইয়ের বগুড়ার পরিচালক মাহমুদুল হাসান ও সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, মূলত নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক সহযোগিতায় আমেনাকে পরিবারের কাছে ফিরে দিতে পেরেছি।

বর্তমানে ছেলে আমজাদ হোসেনের কাছে রয়েছেন আমেনা খাতুন। তবে তার স্বামীর ঘর রয়েছে। সেখানে সতিন ও তার সন্তানরা থাকেন। ছেলের বাড়িতে নাকি স্বামীর বাড়িতে থাকবেন আমেনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন স্বজনরা।

এ বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় মা ও তার সন্তানদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে মা কোথায় থাকবেন তা নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

চিকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল কাদির শিপন বলেন, নিখোঁজ আমেনা বাড়িতে এসেছেন শুনেছি। তবে সময়ের অভাবে দেখতে যেতে পারিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021