1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

আখচাষে সাফল্য পেয়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নীলফামারীতে আখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কম খরচ, অধিক লাভজনক ও নগদ অর্থে বিক্রয় হওয়ায় জেলায় দিন দিন আখচাষের প্রবণতা বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছর আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭০ হেক্টর জমিতে। এবার অর্জিত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬০ হেক্টর। এরমধ্যে জেলা সদরে ৩৫ হেক্টর, ডোমারে ১৩ হেক্টর, ডিমলায় দুই হেক্টর, জলঢাকায় ১৫ হেক্টর, ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে।

উঁচু জমি, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকায় জেলার ডোমার উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম ও অধিক দামে বিক্রয় হওয়ায় প্রতিবছর বেড়েছে আখ চাষির পরিমাণ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আখক্ষেতে রোগ-বালাই কম ও ফলন ভালো হয়েছে। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে কৃষকরা মাঠেই ভালো দাম পাচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতারাও আখক্ষেতে চাষিদের কাছ থেকে আখ কিনে বাজারে ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ডোমার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বোড়াগাড়ী গ্রামের আখচাষি জয়নাল আবেদীন (৪৮) জানান, প্রায় বারো বছর (এক যুগ) থেকে আখ চাষ করছি। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি আখের চাষ করেছি। এবার রোগ বালাই অনেক কম হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে আখের প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। প্রতিটি বড় পিচ আখ ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, মাঝারি ও ছোট আকারের আখ ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড ইশ্বরদী-৪১, ৪২ জাতের আখ প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) ৭০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার আখ বিক্রি করা যায়।

তিনি বলেন, এতে করে বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছে। ওই ইউনিয়নের উপেন চন্দ্র রায়, হযরত আলী একই কথা বলেন।

একই গ্রামের আখচাষি এজার উদ্দিন (৪৫) জানান, দেড় বিঘা জমিতে হাইব্রিড ইশ্বরদী-৪১, ৪২ জাতের আখচাষ করতে হাল, সার, বীজ ও পরিবহন বাবদ খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ফলনও ভাল হয়েছে, এক বিঘায় এক লক্ষ টাকা বিক্রি করেছি। যাবতীয় খরচ বাদে ৭০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এখনও আধা বিঘা জমি করর্তনের বাকী আছে। আখচাষে আমাদের পরিবারের অভাব অনটন আর নেই, আমরা আখচাষ করে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। অন্য ফসলের চেয়ে আখ চাষ করেও লাভবান হওয়া যায় আগে জানতাম না।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় যে সব আখচাষ করা হয়, সবই ইশ্বরদী জাতের। ইশ্বরদী-৪১, ৪২ জাতের আখ চাষের উপযোগী। ইশ্বরদী-৪১ ও ৪২ জাতের আখ ভালো ফলন হয় এবং অন্যান্য জাতের তুলনায় বাজারে চাহিদা বেশি থাকে, দামও ভালো পাওয়া যায়। খেতেও বেশ মিষ্টি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. বকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আখচাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারে ১৩ হেক্টর জমিতে আখচাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় এক হেক্টর বেশি চাষ হয়েছে। আমরা চাষিদের রোগ বালাই দূরীকরণ ও আখের চাষ ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এসব জাতের আখ বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রয় করা হয় না। শুধু মুখে চিবিয়ে ও মেশিনে মাড়াই করিয়ে রস বের করে পান করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখের আবাদ হয়। এবার জেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ