1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

পিরোজপুরে জলাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদন

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বছরের অর্ধেক সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে পিরোজপুর নাজিরপুরের দেউলবাড়ি দোবরা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা। তবে এতে থেমে নেই এসব এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। জলাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে এক নতুন প্রযুক্তিতে সবজির চারা উৎপাদন আর বীজতলা তৈরি করছেন চাষিরা।

উপজেলার প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে বৈঠাকাটা, দেউলবাড়ি, দোবরা, কলারদোয়ানিয়া, মুগারঝোরে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার মধ্যেই পানিতে বেড়ে উঠছে লাউয়ের সবুজ চারা। শুধু কী তাই! এখানকার চাষিরা এর মধ্যে করলা, ঝিঙে ও শিমের চাষও করছেন।

চাষিরা জানান, শুধু লাউ, শিম, উচ্ছে, করলা ও ঝিঙে নয়, মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে ভাসমান পদ্ধতিতে পানির মধ্যেই লাউ, পুঁইশাক, মরিচ, আদা, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া, রসুন, পিঁয়াজ ও পেঁপের চারা উৎপাদন করা যায়। বন্যা ও অনাবৃষ্টি না হলে এ চাষে মোটামুটি লাভ হয়।

চাষিরা আরও জানান, বছরের ৬ মাসই পানিতে ডুবে থাকে এলাকাগুলো। এক সময় এখানকার ১১ হাজার একর জমির মধ্যে প্রায় ৭ হাজার একর জমিই থাকতো অনাবাদী। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদন শুরু করে। ফলে বদলে গেছে তাদের জীবন; ঘুরতে শুরু করেছে হাজার পরিবারের ভাগ্যের চাকা।

কৃষক রফিক মিয়া বলেন, এক সময় আমাদের এই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ অনেক অভাব অনটনের মধ্যে ছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষদের উদ্ভাবিত ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চারা তৈরি আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। আমরা এখন ভাসমান পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছি।

কৃষক সুলাইমান শেখ বলেন,  ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে এই অঞ্চলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদন হয় আসছে। আমরা এখানে লাউ, শিম, পেঁপে,  মুম্বাই মরিচ, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজির চারা তৈরি করি। প্রতিটি চারা পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখান থেকে সবজি চারা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। কারণ আমাদের উৎপাদিত চারা গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি।

কৃষক তারেক মাঝি বলেন, একটি বেড তৈরি করতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। একটি বেডে তিনবার পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা যায়। এক বারে ছয় থেকে আট হাজার চারা তৈরি করা সম্ভব। তিনবারে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চারা একটি বেডে তৈরি যায়।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, চলতি বছর পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলায় ধাপ পদ্ধতিতে ১৫৭ হেক্টর জমিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে উৎপাদন, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমে বিলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাসমান পদ্ধতিতে শাক-সবজি উৎপাদন দেশের মধ্যে একটি বিরল কৃষি পদ্ধতি। নাজিরপুরের দেউলবাড়ী ও দোবরা এবং স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নের ৫টি ব্লকের জমিতে ধাপ কান্দিবের পদ্ধতির চাষবাদ হয় বলে জানান পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম সিকদার।

উপ-পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দিনে দিনে দেশের প্রায় ২৫টি জেলার নিচু জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির চারা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ