মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

মহিলা আসন বিলুপ্তি ও সংসদ ভেঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়নের প্রস্তাব

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নির্বাচনের তিন মাস আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনে ৫০ শতাংশের কম ভোট পড়লে আবারও নির্বাচন করাসহ ২৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে সংসদ ভেঙে নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন বিলুপ্তিসহ ৩৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে এসব দাবি জানায় দল দুটি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়েরের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। দলটির ২৪ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ইসিতে নিবন্ধিত প্রত্যেকটি দলের একজন প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, কাস্টিং ভোটের পরিমাণ ৫০ শতাংশের কম হলে আবার নির্বাচনের ব্যবস্থা, ইভিএম ব্যবহার না করা, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, না ভোটের ব্যবস্থা না রাখা, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও দলের নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক করা, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেয়া, রিটানিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা জজদের দেয়া।

বিকেলে খেলাফত আন্দোলনের চেয়ারম্যান (আমীরে শরীয়ত) হাফেজ মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ সংলাপে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দলটির ৩৮ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনের সময় জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কমিশনের হাতে হস্তান্তর, ইভিএম চালু না করা, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান বাতিল করে একক প্রার্থী হলে পুনঃনির্বাচনের বিধান করা, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগ চালু করা, রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধান বাতিল করা, প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা, নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকার মধ্যে আনা, সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্সকৃত সকল অস্ত্র জমা নেয়া, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি কোরআন-সুন্নাহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন শর্ত আরোপ না করা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের পর ইসি গত ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, ১৫ অক্টোবর বিএনপি এবং ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ হবে। আগামী ১৯ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


আরও সংবাদ