বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

২২ থেকে ২৪ অক্টোবর ইন্টারনেট সেবা বন্ধ নয়, ব্যহত হতে পারে!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৪) আগামী ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর, তিন দিন বন্ধ থাকবে। এ নিয়ে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে “তিন দিন সেবা বন্ধ থাকবে”, “ভয়াবহ ইন্টারনেট বিপর্যয় হবে” – ইত্যাদি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৪) মেরামত ও সংস্কারের জন্য তিন দিন বন্ধ থাকলেও, এ সময় বিকল্প ব্যবস্থায় দেশে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে।

উল্লেখ্য, প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৪ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশ পাচ্ছে ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। এর মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে ২৫০ জিবিপিএস, যা সরবরাহ করছে বিএসসিসিএল। এছাড়া ছয়টি আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল) প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে ১৫০ জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইথ।
দেশে ইন্টারনেটের মোট চাহিদা ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।
দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৫-এ বর্তমানে ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সমতা রয়েছে। শিগগিরই তা ২০০ জিবিপিএসে শিফট হবে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ১০০ এবং ইউরোপে ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল বন্ধ থাকলে মোট চাহিদার চেয়ে ৫০ জিবিপিএসের কম হবে। এ ব্যান্ডউইথ ঘাটতি দ্বিতীয় ক্যাবল ও আইটিসির ব্যান্ডউইথ দিয়েই দেশে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানিয়েছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে বিএসসিসিএল এর কর্মকর্তা মো: মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবল মেরামত ও সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেক দিন হয়ে গেছে মেরামত করা হয় না। এ মাসের তিন দিন সি-মি-উই-ফোর মেরামতের কাজ চলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে যে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করা হয়, তা কক্সবাজার লিংক থেকে পাঠানো হয়। বন্ধের ওই তিন দিন কুয়াকাটা থেকে ব্যান্ডউইথ ঢাকায় এনে তা আবার কক্সবাজার নেয়া হবে। সেখান থেকে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে আগরতলা পৌঁছানো হবে।’

এরই মধ্যে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চিঠি দিয়ে তিন দিনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছে বিএসসিসিএল।

ইন্টারনেট সেবা খাতে আগামী ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর তিন দিন প্রথম সাবমেরিন ক্যাবেল বন্ধ থাকলে চরম অবস্থা বিরাজ করবে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও প্রকৃতপক্ষে ঘাটতি হওয়ার কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটতে
পারে কিন্তু বিপর্যয় ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তথ্য প্রযুক্তিবিদ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, বর্তমানে আমাদের যে চাহিদা রয়েছে তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন দিন ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের যে ঘাটতি থাকবে তাতে প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথ সাশ্রয়ের জন্য কৌশলী পদক্ষেপ নেয়া হলে ইন্টারনেটের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।


আরও সংবাদ