রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের অসাধারণ সাফল্য

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

বেশ কয়েক বছর যাবত গ্রিস ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট এদেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ঋণগ্রস্ত এই দেশের বেকারের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ। প্রাচীন সভ্যতা ও গণতন্ত্রের এই দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরও। প্রবাসীদের অনেকে ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছেন। অনেকে ফিরে গেছেন বাংলাদেশে। ফলে মোট প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পেয়েছে। গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট বিশেষত বেকারত্ব, বাংলাদেশিদের জন্য সীমিত কর্মসংস্থান ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের নিয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এক অসাধারণ সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর জোর দেয়ার নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গত বছর গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রবাসীদের বৈধ পধে অর্থ প্রেরণে উত্সাহিত করার জন্য দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জনসচেতনেতা সৃষ্টির জন্য ব্যাপক জনসংযোগ।

দূতাবাসের উদ্যোগে এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় রেমিট্যান্স সচেতনেতামূলক নাটিকা। এই ব্যাপক কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন প্রতি মাসের একটি দিনকে রেমিট্যান্স প্রেরণ দিবস হিসেবে চালু করে ওই দিনটিতে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বাংলাদেশি মানি রেমিটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণ শুরু করেন।

এ বছর স্বাধীনতা দিবসের মাস মার্চে শুরু হওয়া এই দিবসে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই দিবসে যোগ দেন। ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্স প্রবাহ তালিকায় গ্রিসের স্থান ছিল ২৬। গত প্রায় এক বছরে রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিনের উদ্যোগে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসীদের যৌথ কর্মতত্পরতায় বর্তমানে এই তালিকায় গ্রিসের স্থান ২০-এ উঠে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। প্রবাসীরা বিশেষত দীর্ঘদিন গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ধরনের সাফল্য আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন। সেজন্য তারা রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন বলেন, দূতাবাস এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা একযোগে কাজ করলে অনেক বড় বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির অসামান্য সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রিসের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা হ্রাস, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ ইত্যাদি সীমাবদ্ধতার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ তালিকায় গ্রিসের বাংলাদেশিদের ২০তম স্থানে উঠে আসা সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল। ভবিষ্যতেও এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশির সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। তিনি রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সাফল্যের জন্য দূতাবাসের উদ্যোগে সাড়া দেয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈধ পধে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য গৃহীত উদ্ভাবনীমূলক আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।


আরও সংবাদ