রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের পাশেই

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সরকারের অব্যাহত নিপীড়নের প্রতিকার এবং মানবিক বিপর্যয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব জনমত আদায়ের প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে বাংলাদেশ। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ), জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে এ ইস্যুতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এই সফলতা আনতে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘের চেয়ে বয়সে পুরনো, সারা বিশ্বের ১৭৩টি দেশের ৬৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সর্ববৃহৎ সংসদীয় ফোরাম আইপিইউতে গতকাল বুধবার রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হয়েছে। একই দিনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের দৃঢ় অঙ্গীকার আদায়েও সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
সংসদ সচিবালয় জানায়, গতকাল আইপিইউ সম্মেলনের সমাপনী দিনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হয়েছে। আইপিইউ সম্মেলনের সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়। এর আগে সোমবার আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা ইস্যুটি ভোটাভুটিতে ১০২৭ ভোট পেয়ে গৃহীত হয়। এর বিপরীতে মিয়ানমার পায় মাত্র ৪৭ ভোট। আইপিইউ সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল দেখছে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে। সর্ববৃহৎ সংসদীয় ফোরামে ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমতের প্রতিফলন বলেই বিবেচনা করছেন সবাই।

উল্লেখ্য, আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আজ সমাপ্ত আইপিইউ সম্মেলনে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।
বাংলাদেশের পাশে আছে রাশিয়াও: এদিকে আইপিইউ সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সঙ্গে রাশিয়ার সংসদীয় দলের এক দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। রাশিয়া সংসদীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার ইলিয়াস উমা খান। আলোচনাকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের ভয়াবহতা রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের কাছে সবিস্তারে তুলে ধরেন। মানবিক এ সমস্যার সমাধানে রাশিয়া ভূমিকা রাখবে বলে রাশিয়ার ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ সংসদীয় দলকে আশ্বস্ত করেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের দৃঢ় অঙ্গীকার: এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই মানবিক সমস্যার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত ও জাতিসংঘের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে সফরতর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে জাতিসংঘে সদর দফতরে বৈঠককালে এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে তারা রোহিঙ্গা সমস্যাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এজেন্ডা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

স্পিকার চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে অব্যাহত প্রবেশের বিষয়ে মহাসচিবকে অবহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এর জরুরি ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্পিকার মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। এ বিষয়ে মহাসচিবের গতিশীল নেতৃত্ব, সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর বাংলাদেশের উচ্চ প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্পিকার।


আরও সংবাদ