শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা শিবিরে আকাদেমিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের অপতৎপরতা!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে বাংলাদেশকে। ১৯৯১ সাল থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। তাই ত্রাণ সহায়তার আড়ালে কেউ যেন কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সরকার একটি সমন্বিত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ত্রাণ বিতরনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান-সংগঠন তাদের নিজস্ব ব্যানারে কোন ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা করতে পারবে না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (উখিয়া ও টেকনাফ) নেতৃত্বাধীন উপজেলা কমিটির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। কিন্তু সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে কক্সবাজার ও বান্দরবানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভয়েস অব রোহিঙ্গা ইউনাইটেড, রোহিঙ্গা রিফিউজি হিউম্যান রাইটস সহ জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে তৎপর না হলেও আইএসআই এজেন্ট পিনাকী পরিচালিত আকাদেমিয়া নিজেদের ব্যানার ব্যবহার করে ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বাস্থ্য সেবার নামে রোহিঙ্গাদের তালিকা করে রাজনৈতিক ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

জানা গেছে, আকাদেমিয়া নামের সংগঠনটি প্রকাশ্যে পাঠচক্রের পরিচিতি দিলেও এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে ছাত্র শিবির ও জামাতপন্থীদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছ থেকে বিপুল পরিমানে অর্থ গ্রহণ করেছে। ত্রাণ, অর্থ ও চিকিৎসা পেয়ে শত রোহিঙ্গা গোপনে উক্ত সংগঠনে যোগ দিচ্ছে।

ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখায় ত্রাণসামগ্রী জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও, নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি এই সংগঠন। ধারণা করা হচ্ছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা উৎকোচ গ্রহণ করে আকাদেমিয়াসহ কয়েকটি জঙ্গি সহায়ক সংগঠনকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে।

জানা যায়, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বসবাসরত রোহিঙ্গাকে টার্গেট করে উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া থেকে শুরু করে বান্দরবানের অরণ্যঘেরা সীমান্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হতে চাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। তারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে রোহিঙ্গাদের দলে টানার চেষ্টা করছে। সংগঠনগুলো পৃথক কার্যক্রম চালালেও তাদের লক্ষ্য অভিন্ন। এ জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকার ডা: পিনাকী, মৌলবী মনির, নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের মাস্টার আইয়ুব, মৌলভী নুর হোসেন, আবু বক্কর, মৌলভী শফিক, ড. ইউনুস, ড. ইউনুসের সহোদর আবু তাহের, মেয়ের জামাই মো. ইউনুছ, মৌলভী মো. সেলিম ওরফে আবু আবদুল্লাহ, মোস্তাক মাঝি, রুহুল আমিন, হারুন, নেজাম, জকির আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, রশিদ উল্লাহ, হাসান, মো. আয়াছ, নুর আলম, আবদুল হাকিম, তার ভাই নজির আহমদ ও বশির আহমদ, হোসেন আহমদ, কেফায়েত উল্লাহ, মাস্টার রশিদ, খোরশেদ, মাহামুদুল হাসান ও দুদু মিয়া।

রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টায় থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্যতম হচ্ছে আকাদেমিয়া, মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), হরকাতুল ইয়াকিন, আকামুল মুজাহিদিন আরাকান, ফেইথ মুভমেন্ট অব আরাকান, রোহিঙ্গা আজাদি ফোর্স, জমিয়তে ইত্তেহাদুল রোহিঙ্গা, জমিয়তে ইত্তেহাদুল ইসলাম, আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন, বার্মা আরাকান অর্গানাইজেশন ইউকে, ভয়েস অব রোহিঙ্গা ইউনাইটেড, রোহিঙ্গা রিফিউজি হিউম্যান রাইটস, আরাকান পিপলস ফ্রিডম পার্টি, অ্যাসেম্বলি অব রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন, আরাকান রোহিঙ্গা স্টুডেন্ট ডেমোক্রেসি অ্যাসোসিয়েশন, আরাকান ইউনাইটেড ফোর্স, আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট (এএলপি), আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা ফোর্স প্রভৃতি।


আরও সংবাদ