রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

খালেদার রায়, নিষিদ্ধ জামায়াত এবং কামাল-ফখরুলের নীরব ক্যু!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

ঐক্যজোটের নেপথ্যে সরকার!
দল ছেড়ে যাচ্ছে তৃণমূল!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপের জন্য গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। আমন্ত্রণের প্রতিক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপে বসবেন বলে জানিয়েছেন। যখন এ আলোচনার দূতিয়ালী চলছে তখন একদিকে খালেদার সাজা ঘোষিত হল, অন্যদিকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়।

ঐক্যজোটের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মিডিয়ায় আলোচিত না হলেও বিএনপি জামায়াতের মূল ধারার নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের নেতৃত্বে নীরব অভ্যুত্থানের বার্তা পেয়ে গেছেন। বিএনপিতে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব যে এখন নামে মাত্র টিকে আছে তা সকলেই অনুধাবন করতে পারছেন। এত মোটা দাগের পরিবর্তন নিয়ে কোনো মিডিয়া আলোকপাত না করায় এ পরিবর্তনকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মওদুদ আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নীরব ক্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে দলে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে তারেক রহমানের দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং খালেদা জিয়া ও তারেক পন্থী হিসেবে দলে দুটি ধারা সৃষ্টি হয়। তারেকের নেতৃত্ব মানতে অসম্মতির চুড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছিল ২০০৭ সালে ১/১১ এর প্রক্কালে, যার ফলে দলের একটি অংশকে দল ছাড়তে হয়। তবে সংস্কারপন্থার সমর্থকদের দলের অস্তিত্বের স্বার্থেই বাদ দেয়া সম্ভব হয় নি। সম্প্রতি বিএনপি জাতীয় ঐক্যজোটের নামে নিজেদের দলীয় কর্মকাণ্ড এক অর্থে স্থগিত করেছেন। ড. কামালের নেতৃত্বে দলত্যাগী সংস্কারপন্থীদের দলেও ফিরিয়ে এনেছেন ফখরুল ইসলাম ও মওদুদ আহমেদ। দলের এই অভাবনীয় মেরুকরণ নিয়ে তোলপাড় চলছে দলের ভিতরে ও বাইরে। তবে উচ্চবাচ্য নেই কারও, এ যেন ঝড়ের আগের নীবরবতা!

বিএনপির দলীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের পর প্রকৃত অর্থে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় নি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের পরও একই অবস্থা দেখা যায়। অন্যদিকে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সিনিয়র নেতাদের প্রতি তারেকের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব কি তা কয়েকটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জানা যায়। শমসের মবিন চৌধুরীর সাথে তারেকের কথোপকথন উল্লেখযোগ্য যেখানে মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের প্রতি তারেকের সন্দেহ করার বিষয়টি উঠে আসে। এ অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও খালেদা ও তারেককে রাজনীতি থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন দলের উপর ফখরুল, মওদুদসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতার যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা কি তারা হাতছাড়া করতে চাইবেন? একটি দেশের কূটনৈতিক পর্যায় থেকে ফখরুল ও কামাল হোসেনকে ভবিষ্যতে ক্ষমতা লাভের প্রলোভন দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বিএনপি নেতা। প্রশ্ন উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি দলের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ গ্রহণ না করে তারা কি খালেদা ও তারেকের অধীনে থাকতে চাইবেন?

সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনে নেতৃত্বের মেরুকরণ ঘটছে। এতদিন যাদের প্রভাব ছিল তারা চলে যাচ্ছেন পেছনের সারিতে, গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। ফখরুল ও মওদুদের অনুসারীরা এখন অনেক বেশি সক্রিয়। মনোনয়ন প্রার্থীরাও এখন লন্ডনমুখী হচ্ছেন না। খালেদার নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশের জন্য সভামঞ্চে চেয়ার রাখার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো সভায় জিয়া বা খালেদার নামও উচ্চারিত হচ্ছে না, বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঐক্যজোট গঠন করে ড. কামালের অধীনে আসার পর থেকে মিডিয়া ফোকাস ও কর্মসূচি ঐক্যফ্রন্ট নির্ভর দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সংবাদে বিএনপি বা জোটের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয় নি।

খালেদা ও তারেকের বিরুদ্ধে রায়, ঐক্যজোট গঠন ও মাঠ পর্যায়ে দলীয় কর্তৃত্বের মেরুকরণ, সংস্কারপন্থীদের দলে আনা, বিকল্প ধারায় যোগদানের প্রবণতা, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে রাজি হওয়া, ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে বিএনপির একাংশ ও তৃণমূলের ধারণা সরকারের এজেন্ট হিসেবে তাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছে ড. কামাল ও ফখরুলরা।

বিএনপি জামায়াতের দূরদর্শি নেতারা কেউ সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করতে চাচ্ছেন, কেউ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে লবিং করছেন আর কেউ ফখরুল ও মওদুদকে তুষ্ট করতে খালেদা ও তারেক বিহীন বিএনপি গড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক কোনো মহলের সবুজ সংকেত পেতে ব্যর্থ হয়েও নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে নেতারা তারেক খালেদাকে মাইনাস করছে। একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে আগামী সংসদে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে ঐক্যজোট।


আরও সংবাদ