শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০০ অপরাহ্ন

অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার: নজরদারিতে দুই হাজার আইডি

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউব সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারকারীদের চিহ্নত করতে মাসখানেক ধরে কাজ করছে একটি সাইবার ইনভেস্টিগেশন টীম। একটি সূত্রে জানা গেছে অপপ্রচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, জামায়াত শিবির ও হরকাতুল জেহাদ সহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠন।

সম্প্রতি কানাডায় পলাতক হুজি নেতা দেলোয়ার, পলাতক সাংবাদিক ইলিয়াস ও কনক সারোয়ার সহ জামায়াত শিবিরের সদস্যরা সম্পূর্ণ মিথ্যাচারের ওপর ভিত্তি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুর সহযোগী সংগঠন যুব ও প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটিতে কয়েকজন চিহ্নিত শিবির ক্যাডার, নাশকতা মামলার আসামী ও জঙ্গিরা নেতৃত্ব পেয়েছে যারা অপপ্রচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ছাত্র ও যুব পরিষদের ফারুক হাসান, তারেক রহমান ও মশিউর কয়েকজন জঙ্গির কাছ থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য বড় অংকের টাকা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

উগ্রবাদী গোষ্ঠী অনেক আগে থেকেই নিজেদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদকে বেছে নিয়েছে। যারা পরিস্থিতির কারণে জামাত শিবিরের পরিচয় দিতে পারছে না, তারা সহ কয়েকটি জঙ্গিবাদী সংগঠন কৌশল হিসেবে তাদের নেতাকর্মীদের ছাত্র ও যুব পরিষদে যুক্ত হতে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যায়। ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে শিবির, হরকাতুল জেহাদ ও হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করা হয়েছে। জঙ্গিরা মূলত মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অন্যদিকে অনলাইনে অপপ্রচারের জন্য ফারুক, মশিউর, মুনতাসীর, তারেক, তুহিন ফারাবি, হানিফ খান সজীব, আবু জাহের ও ফাহিমসহ কয়েকজন সক্রিয়ভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে। এতে করে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ-বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব প্রকার অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ, টুইটার একাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের প্রায় দুই হাজার আইডি/গ্রুপ/পেইজ/চ্যানেল এর তালিকা করা হয়েছে।


আরও সংবাদ