বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও পর্নোসাইটে, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় খাইরুল আলম সবুজ নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর ডিবির এসআই আহসানের নেতৃত্বে একটি দল রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে তাকে বান্দরবানের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

খাইরুল আলম সবুজ কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে। সে ধর্ষণ মামলার ২নং আসামি।

কাপাসিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ডিবির হাতে গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষণ মামলার আসামি খাইরুল আলম সবুজকে সোমবার কাপাসিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৯ মাস ধরে নিয়মিত ধর্ষণ করে তিন বন্ধু মিলে। তারা সবাই বিএনপি নেতা। ধর্ষণের এই ভিডিও আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী গ্রামে।

অভিযুক্তরা হলেন- কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা (৪০), বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সবুজ (৩৮) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাকির হোসেন সোহেল (৩৯)। মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও খাইরুল ইসলাম সবুজ ছাত্রদলের একই কমিটির সাবেক সদস্য।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখক মাহফুজুর রহমান রাসেল মোল্লার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন সাফাইশ্রী গ্রামের এক ব্যক্তি। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে রাসেল মোল্লা ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করেন রাসেল মোল্লা। এ দৃশ্য মোবাইলে ভিডিওতে ধারণ করেন। পরে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই বন্ধু সবুজ ও সোহেলকে নিয়ে প্রায়ই রাসেল ওই নারীকে ধর্ষণ করতেন।

মামলায় আরো বলা হয়, গত ২২ জুলাই খাইরুল ইসলাম সবুজ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ওই নারীর স্বামী জেনে যান। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে তার স্বামী সংসার ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গত ২৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ও নারীর বাড়িতে গিয়ে ওই নারী ও তার স্বামীকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের হত্যার চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ওই নারীকে ধর্ষণ করার ভিডিও বিদেশি কয়েকটি পর্নোসাইটে আপলোড করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার অভিযোগ এনে গাজীপুর আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ এর ৮(১) এবং প্যানাল কোড ৪৪৮/৫০৬ ধারার মামলা (নম্বর সিআর ২৩৫/২০, তারিখ ০৩-০৯-২০২০, স্মারক নম্বর ১০৪৭ (মূল) তারিখ ১০-০৯-২০২০) দায়ের করেন।

অপরদিকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ওই নারী, তার স্বামী ও আত্মীয়স্বজনদের নামে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। এমনকি অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেলের আত্মীয়রা ধর্ষিত নারী ও তার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে কাপাসিয়া থানায় পৃথক ৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল মিলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিদেশি অনলাইন সার্ভার এনজিইবিওকেইপি নামের সার্ভারের ওয়েব সাইট টিআইএনওয়াইইউআরএল ডটকম এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করা হয়। সেই ভিডিও এখন সবার হাতে হাতে। মামলার প্রধান আসামি রাসেল মোল্লা ও অপর আসামি সোহেল এখনও অধরা রয়ে গেছে। ধর্ষণকারী আসামি রাসেল মোল্লার বাবা মফিজ উদ্দিন মোল্লা, আসামি সবুজের ব্যবসার ম্যানেজার দুলালসহ অন্যরা নানাভাবে আমাকে ও আমার স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দিচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, বিএনপি নেতা রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল তিনজন মিলে কাপাসিয়া উপজেলা শহরে জমি দখল, নারী ধর্ষণ, মাদক কারবারিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের অপকর্মের সামনে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাফাইশ্রী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ অসহায় মানুষদের ভয় ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


আরও সংবাদ