1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি আধুনিক চরিত্র দানের বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রটি পরিচালিত হবে, রাষ্ট্রের আধুনিক রূপটি সমাজসহ সর্বত্র ধীরে ধীরে দৃশ্যমান- এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। রাষ্ট্রের সংবিধানের গণতন্ত্র , সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ দর্শন হিসেবে গৃহীত হয়।

পৃথিবীতে এই সময়ে রাষ্ট্রের সংখ্যা ২০২টি। এর মধ্যে ১৯৫টি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র। বাকি রাষ্ট্রগুলোর কোনোটি এখনও পরিপূর্ণভাবে সার্বভৌমত্ব লাভ করেনি, আবার কোনো কোনোটি এতই ছোটো যে, এখনও অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি।

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক বেশ কিছু আইন নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলো সেসব আইন ও নিয়ম-কানুনে অনুস্বাক্ষরও করেছে। ফলে রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের বিভিন্ন কাজে যেমন অংশগ্রহণ করে থাকে, সুযোগ-সুবিধা লাভেও প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

এটি মোটা দাগে বর্তমান বিশ্ব রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি চিত্র। তবে যেটি ভুলে গেলে চলবে না তা হচ্ছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৫ বা মোট ২০২টি রাষ্ট্রের সবকটি এক চরিত্রের নয়। তাদের মধ্যে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও আদর্শগত ভিন্নতা রয়েছে। পরস্পর বিরোধী মতাদর্শের রাষ্ট্রও জাতিসংঘের গুরত্বপূর্ণ সংস্থায় অংশগ্রহণ করে থাকে। পৃথিবীর নানা ইস্যুতে এসব রাষ্ট্রের মধ্যে ভিন্নতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরস্পর বিরোধী অবস্থান গ্রহণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

এরপরও বড়, ছোটো ও শক্তিশালী বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক, আন্তরাষ্ট্রীয়, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ধরনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। যদিও কোনো কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বাহ্যিক সম্পর্ক থাকলেও ভেতরে অনাস্থা ও সন্দেহের দূরত্ব যোজন যোজন বলে মনে হয়। আবার কোনো কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে অনেক রাষ্ট্রই কোনো ধরনের কূটনৈতিক বা যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করেই অবস্থান করছে। এসব জটিলতাকে মেনে নিয়েও বলতে হবে আমরা এখন আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার যুগে বসবাস করছি। যখন তখন কেউ কাউকে ইচ্ছে করলেই দখল করে নিতে পারে না কিংবা কলোনি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। প্রত্যেক রাষ্ট্রকে অন্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেই চলতে হয়। এর ফলে রাষ্ট্রের নাগরিক এবং জাতিসমূহ অন্তত স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার এক ধরনের নিশ্চয়তা ভোগ করে থাকে।

অথচ ২০০-৩০০ বছর আগেও পৃথিবীর চিত্র এমন ছিল না। অল্প কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্র পৃথিবীর মহাদেশগুলোকে দখলের মাধ্যমে নিজেদের কলোনি তথা উপনিবেশ স্থাপন করে রেখেছিল। সেটিও প্রায় ২০০-৩০০ বছরের ইতিহাস। অধিকৃত এসব উপনিবেশ স্বাধীন কোনো রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনি। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন এঁটে উঠতে পারেনি। তাই তাদেরকে হারাতে হয়েছিল নিজেদের স্বাধীনতা। তাদেরও ছিল না কোনো স্বাধীন সার্বভৌম শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা। অনেক জায়গায় রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল। রাজারা নিজেদেরকে খুব পরাক্রমশালী ভাবতেন। কিন্তু জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

জনগণও কর দেয়া ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো নিয়ম কানুন সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পর্যায়ে ছিল না। এরও আগে কিছু স্বৈরতান্ত্রিক, রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল। এগুলোর কোনোটিই জনকল্যাণকামী হয়ে ওঠেনি। আরেকটু পেছনের দিকের ইতিহাসে গেলে যে সভ্যতার কথা আমরা গৌরবের সঙ্গে উল্লেখ করি (গ্রিক, রোমান, চীনা, মেসোপটেমীয়া, পারস্য, মিশরীয়, মায়ান, আজটেক, ইনকা, হরোপ্পা-মহেঞ্জোদারো ইত্যাদি) সেগুলোও ছিল চরিত্রগতভাবে স্বৈরতান্ত্রিক এবং অস্থায়ী। একসময় নগরকেন্দ্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠেছিল। সেগুলো ছিল আয়তনে খুবই ছোট। এসব নগররাষ্ট্রের বাইরে অসংখ্য মানুষ বসবাস করত। রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তথাপিও কোনো কোনো নগর রাষ্ট্র তাদেরকে দখলের মাধ্যমে দাসে পরিণত করে। হরণ করে তাদের স্বাধীন প্রাকৃতিক জীবন। সুতরাং রাষ্ট্রের উত্থানের যুগটি আজ থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার বছর আগে শুরু হলেও এর সঙ্গে মানুষের সহজাত কোনো স্বাভাবিক সুসম্পর্ক শুরুতেই ছিল না।

রাষ্ট্র ছিল একটি ছোট সম্পদশালী শক্তির নিয়ন্ত্রাধীন ব্যবস্থা। তাদের ছিল সামরিক ক্ষমতা। রাজশক্তি ও সামরিক শক্তিকে ব্যবহারের মাধ্যমে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে, বসবাসকারী মানুষকে দাসে পরিণত করেছে। এসব দাসতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা দাসদের নাগরিক হিসেবে কোনো অধিকার দেয়নি। রাষ্ট্র তখন নাগরিকের অধিকার স্বীকার করার বোধে ছিল না। সেকারণেই আমরা প্রাচীন এবং মধ্যযুগের কোনো নগররাষ্ট্র সভ্যতা, সাম্রাজ্য, রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশাল আয়তনের রাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যকে খুব দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে দেখিনি। এসব রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কোনো কালেই নিবিড় থাকেনি, রাষ্ট্রও জনগণকে আপন করে নেয়নি।

সেকারণে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়েছে সেনা সদস্যদের নিয়ে, জনগণ যুদ্ধের দৃশ্য তাকিয়ে দেখেছে। কিন্তু এই যুদ্ধের পরিণতি কী তা তাদের জানা ছিল না। রাজার পরাজয়ে যে তাদের জীবনে পরাধীনতা নেমে আসবে সেটি বুঝতে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। যেমন- পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজ লর্ড ক্লাইভের বাহিনীর বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ করেছে তখন গ্রামের কৃষক যুদ্ধ দেখেছে। কিন্তু বুঝতে পারেনি যে এর মাধ্যমেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা পরাক্রমশালী ইংরেজদের হাতে ২০০ বছরের জন্য চলে যাবে।

জনগণের এই বিষয়টি না বোঝার কারণটি ছিল ভারতবর্ষে তখন যে ধরনের মোগল সাম্রাজ্য ছিল সেটি ভারতীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি, ভারতীয় অভিন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থার নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেনি। সেই ধারণা এই তথাকথিত রাষ্ট্রের ছিল না। সেকারণেই এই রাষ্ট্রগুলোকে আধুনিক কোনো রাষ্ট্রের নতুন মর্যাদায় ভূষিত করা যায় না।

আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠা শুরু করে ইউরোপে রেনেসাঁ তথা নবজাগরণ, শিল্পবিপ্লব, ১৮ শতকের আলোকিত যুগ এবং সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত ফরাসি বিপ্লব-উত্তর যুগ থেকে। দার্শনিকরা মানুষকে রেনেসাঁর যুগ থেকে নতুন মর্যাদায় দেখার শিক্ষা দিতে থাকে। তারা রাজা ও প্রজায় নয়, বরং নাগরিকতার ধারণায় মানুষকে চিন্তা করার নতুন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে উজ্জীবিত করেন।

গোটা শিক্ষাব্যবস্থা তখন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। আলোকিত মানুষ সমাজে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। মানুষে মানুষে সাম্য এবং মৈত্রীর গুরত্ব উপলব্ধিতে আসতে থাকে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সঙ্গে মানুষেরও মৌলিক অধিকারের ধারণা গুরত্ব পেতে থাকে। সামাজিক-রাজনৈতিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক নানা সংগঠন ও আন্দোলন ক্রমেই দানা বাঁধতে থাকে। ১৯ শতকে ইউরোপীয় সমাজ ব্যবস্থায় এসব আন্দোলন ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাতে সৃষ্টি হয় আধুনিক জাতি- রাষ্ট্রের।

রাষ্ট্রে এক বা একাধিক জাতি নাগরিক পরিচয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা লাভ করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। এখান থেকেই বলা চলে আধুনিক রাষ্ট্রচরিত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়। ২০ শতকে এই যাত্রায় শামিল হয় পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের জাতিসমূহ। বিশেষত, ১৯৪৫ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে উপনিবেশবাদের পতন ঘটতে থাকে, অভ্যুদয় ঘটে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের। সেই স্বাধীন রাষ্ট্রের তালিকায় আমরা ১৯৪৭ সালে যুক্ত হয়েও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারিনি। ফলে আমাদেরকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করে স্বাধীনতা লাভ করতে হয়েছে।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি আধুনিক চরিত্র দানের বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রটি পরিচালিত হবে, রাষ্ট্রের আধুনিক রূপটি সমাজসহ সর্বত্র ধীরে ধীরে দৃশ্যমান- এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। রাষ্ট্রের সংবিধানের গণতন্ত্র , সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ দর্শন হিসেবে গৃহীত হয়।

গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা মৌলিকভাবে একই দর্শন। গণতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া কল্পনা করা যায় না। রাষ্ট্র সকল নাগরিকের রাজনৈতিক-ধর্মীয়, অর্থনৈতিক-শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব অধিকার প্রদান করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। কোনো বিশেষ জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্ম সম্প্রদায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার অধিকার আধুনিক রাষ্ট্রের থাকে না। আধুনিক রাষ্ট্র হয় সবার। গণতন্ত্রের শিক্ষা এটিই ।

সুতরাং গণতন্ত্র চরিত্রগত ভাবে জাতি, সম্প্রদায় ও ধর্মনিরপেক্ষ। সুতরাং আমাদের শাসনতন্ত্রের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা আলাদাভাবে উল্লিখিত হলেও এর দর্শনগত ভিত্তি এক ও অভিন্ন। সমাজতন্ত্রকে দেখা হয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্ত রাখার দর্শন থেকে। সমাজের যাতে ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য আকাশ-পাতাল না হয় সেজন্যই সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ধারণা সংবিধানে গৃহীত হয়েছিল। এটি গণতন্ত্রের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ।

জাতীয়তাবাদ আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম একটি চেতনা। এই চেতনায় রাষ্ট্রের সব নাগরিক উজ্জীবিত হবে, নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত অধিকার রক্ষার সুযোগ লাভ করবেন। এটিই হচ্ছে আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের অন্যতম দর্শন। কোনো জাতিগোষ্ঠীই রাষ্ট্রে পিছিয়ে থাকবে না কিংবা কোনো জাতিগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব করবে না- এটি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনা।

জাতীয়তাবাদ একটি আধুনিক উদারবাদী দর্শন যা রাষ্ট্রের সব নাগরিককে জাতিগত পরিচয়ে নয়, নাগরিক পরিচয়ে বসবাস করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে নতুন সংবিধানে বর্ণিত আদর্শে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিল। কিন্তু এর চর্চা যথাযথভাবে না ঘটলে সমাজে যেসব সমস্যা ও সংকট তৈরি হয় তাতে রাষ্ট্রের চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নাগরিকরা শোষণ, বঞ্চনা ও অধিকারহারা হয়।

সেকারণে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান দায়িত্ব সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান এবং সব জাতিধর্ম পরিচয়ে নাগরিক সমাজের। কোনো বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায় এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটালে রাষ্ট্র ও সমাজে অস্থিরতা, জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা এবং মানুষে মানুষে আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব ঘটবে। এতে রাষ্ট্রই শুধু নয়। প্রতিটি নাগরিকই শেষ বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আজ শেষ হচ্ছে। আশা করা গিয়েছিল এই উৎসবটি কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে পালিত হবে। তারপরও দুঃখজনক কিছু দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। মহল বিশেষ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার চাইতে নষ্ট করার ক্ষেত্রে গোপন তৎপরতায় লিপ্ত হতে থাকে। এবারও মনে হচ্ছে কোথাও কোথাও সেসব অশুভ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ছিল। এটি না ঘটলেই আমাদের রাষ্ট্র-সমাজের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেত। সবাইকে মনে রাখতে হবে- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।

লেখক: অধ্যাপক, গবেষক





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021