1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

শেখ হাসিনা : যার নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই

অধ্যাপক ড. আহমেদ আমিনুল ইসলাম : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২

প্রকৃতিতে এসেছে হেমন্ত। হেমন্তে প্রকৃতি স্থির শান্ত ও সৌম্য রূপ ধারণ করে। ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জেলায় শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে বলে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের খবর হয়েছে। ক্রমশ তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। বর্ষ-পরিক্রমায় ঋতুচক্রের পালা বদলে হেমন্তের পরে আসে শীত। আর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে আন্দোলন সংগ্রামের অধিকাংশই দানা বাঁধে শীতকালে কিংবা শীতের আমেজযুক্ত সময়ে। আসন্ন শীতও আন্দোলন মুখর হওয়ার এক সম্ভাবনা নিয়ে আসছে এক শ্রেণির রাজনীতিবিদদের প্রেরণায়ও। সম্ভাবনা এজন্য যে, এই শীতের পরের শীতেই অর্থাৎ ২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের প্রথমেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রক্রিয়া পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি বেশ জোরেসোরে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে, রাজনীতির মাঠ গরম করছে। অবস্থা এমন বোধ হয় যে, তাদের আন্দোলনের গরমে প্রকৃতির শীত কিছুটা হলেও কমবে! বিএনপির আন্দোলনে শীত কিছুটা কমেও- যেভাবে তারা জ্বালাও-পোড়াও করে তাতে সেই অগ্নি-তেজে শীত না কমে উপায় আছে!

বাংলাদেশের গণতন্ত্রচর্চা কয়েকটি বদ্ধমূল ধারণার মধ্যে আটকে আছে, থেমে আছে! তার মধ্যে অন্যতম হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং বিএনপির চাওয়া মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন! জাতীয়ভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাববোধও যে গণতন্ত্রচর্চার অন্তরায় তা কেউ ভেবে দেখি না। নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধানের চেষ্টা না করে কিছু হলেই আমরা বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের নিকট নালিশ করি। শুধু নালিশ করেই ক্ষান্ত থাকি না, বাংলাদেশের ওপর নানা রকমের নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য গোপনে তদবির এবং প্রকাশ্য জনসভায় আহ্বান জানাই! আত্মবিশ্বাস এবং আত্মশক্তির কী বিপুল পরিমাণ ঘাটতি থাকলে, কী বিপুল পরিমাণ হীনমন্যতা থাকলে রাজনীতির এমন অপাঙক্তেয় ধারায় নিমজ্জিত হওয়া সম্ভব তা মির্জা ফখরুলরাই চিৎকারসহ জাতির কাছে স্পষ্ট করেছেন! রাজনীতি, প্রশাসনিক এবং সামগ্রিক চিন্তাচর্চায় পরনির্ভরশীলতা থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ এগিয়েছে। শত কোটি মানুষের বিচিত্র কর্মযজ্ঞের ততোধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ সাফল্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাড়া যোগাচ্ছে- প্রণোদিতও করে তুলছে দেশবাসীকে। তরুণ প্রজন্মের সম্মুখে তথ্যপ্রযুক্তির উদ্দীপনামূলক ও সৃজনশীল কাজের বিশাল বাতায়ন আজ উন্মুক্ত হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও তরুণদের উৎসাহ সঞ্চারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়ার পশ্চাৎপটে তাই দেশবাসী ও সরকারের যুগপৎ কর্মোদ্যোগকে প্রশংসা করতে হয় অভিনন্দন জানাতে হয় সরকার ও কর্মবীর দেশবাসীকে। যাদের অক্লান্ত শ্রমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে আজ বিশ্বের বিস্ময় তাদের অভিবাদন জানাই! এগিয়ে যাওয়ার এ গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের একাধিক দেশের কাতারে পৌঁছুবে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এরূপ তথ্য পাওয়া যায়। ‘দ্য ফ্লাইং ডাচম্যানের এশিয়াস শপার্স ইন ২০৩০’ শীর্ষক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এরূপ আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম বাজার হবে বাংলাদেশ। বিশ্বের কনজিউমার মার্কেটে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ দ্রæততম প্রবৃদ্ধি আশা করতে পারে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের কনজিউমার মার্কেট জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে যাবে’ [সূত্র : ই-বার্তা২৪.কম, ২০/১০/২০২২]। মনে রাখা জরুরি, এই এগিয়ে যাওয়া কেবল আর্থসামাজিক উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়- মানসিকভাবেও জাতি অনেকটা এগিয়েছে। এতটা পথ এগিয়ে যাওয়ার পর আর বিদেশি দাসত্ব যেমন আমাদের শোভা পায় না, তেমনি শোভা পায় না আমাদের মননের ঔপনিবেশিক হীনমন্যতাও। বঙ্গবন্ধকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় মননে সেই আত্মবিশ্বাস আজ দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই জাগ্রত। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেই আমরা যে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি তার বাস্তবায়ন আর অসম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে প্রায় ১৪ বছর। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কখনোই দেশবাসীর পর্যাপ্ত চাহিদা ও প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম নয়। অন্তত আমাদের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে তো নয়ই। তাই এই এগিয়ে যাওয়াকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে আমাদের অনেকেই আবার পিছপাও হন না। জনগণের জন্য প্রদত্ত সরকারি সহায়তার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে এই প্রশ্ন এক চিরকালীন জিজ্ঞাসায় পরিণত। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা সহায়তা যতটুকু সম্ভব করা হলেও কথিত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির মারপ্যাচে তা দেশবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে মাঝপথে কখনো কখনো ‘বানরের পিঠা বণ্টনে’র ফাঁদেই পড়ে যায়! ফলে, সেইসব সহায়তার অল্প কিছুই নির্দিষ্ট প্রাপকের নাগালে পৌঁছায়। কখনো কখনো আবার শুধুমাত্র কাগুজে হিসেব-নিকেষ পর্যন্তই সার- আর সব থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে! এজন্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গল্পেও বিরতি ঘটে! আমরা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হই। আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করি, বিতর্কিত করে তুলি। আর এটিই হয় ‘নিন্দুক’-এর রসদ। নিন্দুকেরা সরকারের ব্যর্থতা আবিষ্কারে সর্বদাই আনন্দ অনুভব করে। সরকারের নানা কর্মকাণ্ডকে নানা দিক থেকে নানাভাবে প্রশ্নের সম্মুখে দাঁড় করায়- প্রশ্নবিদ্ধও করে তোলে। সুতরাং কখনো কখনো দেখতে হয় নিন্দার ঝড়ে আমাদের সামগ্রিক এগিয়ে যাওয়াও বিপাকে পড়ে। দেশবাসীর এগিয়ে যাওয়ার এইসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার জন্য সরকারের সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের।

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও সরকারের ত্রুটিসমূহ ‘তিল’কে ‘তাল’ বানিয়ে প্রচার করে। সুতরাং সে সুযোগটা বিরোধী পক্ষের হাতে আওয়ামী লীগ বা সরকার কেন তুলে দেবে? আমরা জানি বর্তমান সরকারের রূপকল্প ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়িত হওয়ায় নানা শ্রেণির নিন্দুকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমেই নিন্দা ও প্রপাগান্ডা বেশি প্রচার করছে। সরকার বিরোধীরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর সুযোগটি নিয়েই দেশ-বিদেশ থেকে নিয়মিত নানা অপপ্রচারে ব্যবহার করছে। এরা বিগত একযুগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে সাধারণের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার বিচিত্র রকমের মনস্তাত্তি¡ক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছে।

সাম্প্রতিককালে প্রজাতন্ত্রের উচ্চ পর্যায়ের ক’জন কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পটভূমি বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় প্রচলিত প্রবাদের ‘শর্ষের ভেতর ভূত’ এখনো বিভিন্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়- কথিত ভূতের হাতও কিন্তু কম লম্বা নয়! কিন্তু ভূত তাড়ানোয় সরকারের পক্ষে সবসময় কিছু না কিছু ঢিলেমি থাকে বলেও আমাদের মনে হয়। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। উচ্চ পর্যায়সহ সব কর্মচারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আরো চৌকসভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মার্টনেস অক্ষুণ্ণ ও সমুন্নত রেখে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা, নিন্দুকের জন্য সুবিধাজনক ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায় এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন্ন শীতে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মব্যস্ততাও এই সময় বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ধৈর্য্যরে সঙ্গে তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করবে এটাই সবার প্রত্যাশা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকলেও জনগণের মাথাপিছু সেই সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন অস্বাভাবিক নয়। আবার, তথ্যপ্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে অপরাধের গতিপ্রকৃতি দিন দিন যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তার সমান্তরালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কতটা চৌকস হচ্ছে তাও ভাবতে হব। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল প্লাটফরমের অপরাধও বিচিত্র রকমের হবে সন্দেহ নেই। সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক শিক্ষাসহ তথ্যপ্রাযুক্তিক যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকেও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সক্রিয় থাকতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকারকে দক্ষতার সঙ্গে বিলম্ব এড়িয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে অপরাধের ধরন, মাত্রা ও ভয়ংকরতা নিত্যনতুন রূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং তার মোকাবিলায়ও তদ্রূপ প্রস্তুতি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এমন প্রস্তুতি নিতে হবে যে, যেন তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রপাগান্ডা ছড়ানো আসামীকে মুহূর্তের মধ্যেই হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। মোটকথা এ ধরনের অপরাধীকে দ্রুত ধরবার কৌশল রপ্ত হলে অপরাধের মাত্রা ও তীব্রতা উভয়ই হ্রাস পাবে।

বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপিসহ যারা সর্বত্রই আইনের শাসনের অভাব দেখতে পান তাদের মতামতের সাথে প্রমাণসহ আমাদের কিছু দ্বিমতও রয়েছে। কারণ আমাদের জানা মতে বর্তমান আওয়ামী লীগের শাসনকালে আমরা যত বিশাল প্রোফাইলের মন্ত্রী-এমপি কিংবা প্রভাবশালী নেতাকে বিচারের অধীনে ন্যাস্ত হতে দেখেছি পূর্বে বিএনপি কিংবা কোনো সেনা শাসনামলেও তা দেখিনি। অথচ সে আমলেও অনেক মন্ত্রী-এমপির দুর্নীতি ও দুঃশাসনে অসংখ্য জনগণ ও জনপদ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল- জিম্মি হয়ে পড়েছিল। কোনো মন্ত্রী তো দূরের কথা সাধারণ মানের একজন এমপিকেও সেসময় যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হয়নি। অথচ, সাধারণের চোখের সামনেই মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর ট্রাজিক পরিণতির দৃশ্য রচিত হয়েছে। করুণ পরিণতির দৃশ্য রচিত হয়েছিল গাইবান্ধার সাংসদ লিটনেরও। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদের কথাও সবার জানা। এরকম দৃষ্টান্ত আরো আছে। আমরা আগের কোনো সরকারের মন্ত্রী বা এমপিদের এমন ‘ললাট লিখন’ দেখিনি। আমরা বিস্মিত বোধ করি এরকম নজির বিহীন ঘটনার পরও বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনেক জ্ঞানপাপী ‘আইনের শাসন’ দেখতে পান না বলে নৈর্ব্যক্তিকভাবেই আফসোস করেন বলে। আমরা আফসোস করি এইসব জ্ঞানপাপীদের অন্ধত্ব দেখে! এসব পুুরোনো কথা।

ঋতু বদলের পালাক্রমে শীতকাল সমাগত। সমাগত আন্দোলনের উষ্ণ সময়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগতভাবে এদেশে নানা রকমের আন্দোলনের দেখা মেলে। আমরা সারা বছর যত রকমের খেদ, ক্ষুব্ধতা সঞ্চয় করে থাকি শীতের এই চার মাসে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হিসেবে তার প্রকাশ ঘটাই। শীত যত প্রচণ্ড আকার ধারণ করে আন্দোলনও ততই প্রকট হয়ে ওঠে। অর্থাৎ শীতের বিপরীতে পাল্লা দিয়ে রাজনীতির মাঠ হয়ে ওঠে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর। সরকারকে দক্ষতার সাথে এই শীতকাল অতিক্রম করতে হবে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্মার্ট ও চৌকস মানসিকতার পরিচয় দিবে আশা করি। আশা করি জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলনে উৎসাহ দিবে এবং একই সাথে জ্বালাও পোড়াও-রূপ অগ্নি-সন্ত্রাসকে শক্ত হাতে দমনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধৈর্য্যরে সাথে কাজ করবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞায় রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে জাগ্রত আত্মবিশ্বাস বিনষ্ট করা যাবে না। লব্ধ আত্মবিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেরা মোকাবিলার মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। কোনো বিদেশি মোড়লের দূতিয়ালি প্রয়োজন নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ঔপনিবেশিক চিন্তাচর্চার ঘোর বিরোধী ছিলেন। স্বাধীন দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকেও তিনি ঔপনিবেশিক চিন্তাচর্চার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক পথেই বাংলাদেশকে নিয়ে শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়া। জাতীয় মননে শেখ হাসিনা যে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছেন তা ধরে রাখতে হবে।

লেখক : ড. আহমেদ আমিনুল ইসলাম – অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 


সর্বশেষ - অভিমত