মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪০ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম। তার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছেছে এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমরা আজ (শনিবার) সেটি গ্রহণ করেছি।

সূত্রমতে, বিধি মোতাবেক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্রটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদনটি গ্রহণ করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আসবে, তিনি তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবেন। তখন তা আনুষ্ঠানিক গ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশের ৪৭ বছরে এস কে সিনহাই প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। ৩৯ দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশ সফরে থাকা এস কে সিনহা তার ছুটির শেষ দিন ১০ নভেম্বরই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা রওনা হওয়ার আগে এস কে সিনহা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে তা জমা দেন। তিনি বর্তমানে কানাডায় তার ছোট মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে গত সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছন তিনি। গতকাল বিকালে গুলশানের বাসায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, শুনেছি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে এসে পৌঁছেছে। এখন পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না করা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন। ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে এস কে সিনহা গত ৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটি নেন। ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ছুটি শেষে ফিরে আসবেন। দায়িত্বও পালন করবেন। বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়।


আরও সংবাদ