শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

বিএনপির সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান বর্জনের নেপথ্যে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

“কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে এলো সাপ! আইএসআই-এর দু’জন কর্মকর্তার পরামর্শে তারেক রহমান বিএনপিকে সেনাকুঞ্জ বর্জনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কেন?”

বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী দিবস দল-মত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে জাতীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই প্রথম বারের মত সার্বজনীন এই দিবসটিকে বর্জন করলো বিএনপি। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও চেয়ারপারনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

গতকাল সকালেও সেনাকুঞ্জে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল বিএনপি। কিন্তু দুপুরে তারেক রহমান লন্ডন থেকে খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুলকে অনুষ্ঠান বর্জনের নির্দেশ প্রদান করে। এ বিষয়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর ময়মনসিংহ থেকে অনলাইনে অপপ্রচারের অভিযোগে লায়েস মন্ডল ও ছাবিদ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ, জহির ও সালাউদ্দিনের নাম জানা যায় যারা তারেক রহমানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে ও তার নির্দেশনা পালন করে। তাদের তথ্য অনুসারে জহির ও সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মোবাইলে উইকার নামে গোপন যোগাযোগের একটি সফটওয়্যার পাওয়া যায়।

এছাড়া উইকার, স্কাইপে ও ল্যাপটপ সন্ধান করে বেরিয়ে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে তারেক রহমানের সাথে সশস্ত্র বাহিনীর তিনজন কর্মকর্তা, দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে লন্ডন বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানের কূটনীতিক মুহাম্মদ আইয়ুব ও আইএসআই-এর কর্নেল সর্দার নাদিম ইকবাল খানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলের পারভেজ মল্লিক ও কয়সর আহমেদ নামে বিএনপির দুই নেতা।  বৈঠকে তারেক রহমানকে নিজেদের লোক হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক, জঙ্গিবাদী ও আর্থিক সহায়তাসহ সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। 

উক্ত বৈঠকে পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা তারেকের ঘনিষ্ঠ দুজন কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপিকে সশস্র বাহিনীর অনুষ্ঠান বর্জনের পরামর্শ দেন। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়ার পর থেকে সশস্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করলেও দলের প্রতিনিধি হিসেবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকেছেন। সম্প্রতি বিএনপি নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানোর দাবি তুলেছিল, তাই সকলের ধারণা ছিল বেগম জিয়া এবার ক্ষোভ ভুলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিক্ততার অবসান ঘটনাবেন। কিন্তু নিজে উপস্থিত না থেকে বিএনপির নেতাদের যোগদানে বিরত রাখায় বিস্মিত সকলেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে কোনো মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এমন ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাবে এমন ভীতি থেকেই অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 


আরও সংবাদ