বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে: শেখ হাসিনা

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০
জাতীয় যুব দিবস

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

রোববার সকালে বিজিবি এআর উইংয়ের জন্য কেনা দুটি এমআই-১৭১-ই হেলিকপ্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পিলখানায় ওই হেলিকপ্টার দুটি উদ্বোধন করেন।

দুই বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ও মুন্সি আব্দুর রউফের নামে হেলিকপ্টার দুটির নামকরণ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের হাতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। এ ঘটনার পর বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক সেটা আমরা চাই না। অনেক প্রাণ ঝরেছে। যারা মারা গেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের হত্যার সঙ্গে জড়িত তারা নিজেদেরও যেমন ক্ষতি করেছে, বাহিনীরও ক্ষতি করেছে, দেশেরও ক্ষতি করেছে। আমি আশা করব, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রত্যেকটি বাহিনীকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ওই সময় তিনি করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করার জন্য বিজিবি সদস্যদের পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজিবিকে ‘ত্রিমাত্রিক বাহিনী’ হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হেলিকপ্টারের কথা আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে বলেছিলাম, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘পাবর্ত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকার নিরাপত্তা দেয়া একান্ত দরকার। সে কারণেই আমরা হেলিকপ্টার ক্রয় করে দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। এই মুজিববর্ষেই বিজিবি তাদের দুটি হেলিকপ্টার পেল যা অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের।’

বিজিবির কর্মদক্ষতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজিবির দাফতরিক ও প্রশাসনিক কাজকে সহজ করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

গত সেপ্টেম্বরের একনেক সভায় নতুন ৭৩টি কম্পোজিট ভিওপি নির্মাণের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে বিজিবির অপেরেশন ক্ষমতা বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে ও সৈনিকদের মনোবল মজবুত হবে।’

‘২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের এখন পর্যন্ত বিজিবি সীমান্তে টহল ও অভিযান চালিয়ে আট হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালান দ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজিবির উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে বিজিবিতে কোনো নারী সৈনিক ছিল না। কিন্তু প্রথমবারের মতো আমরা নারী সৈনিক নিয়োগ দিয়েছি, যা আমি মনে করি এই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে; নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখবে।’


আরও সংবাদ