রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
pm

যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলো।

রোবববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সেতুটির ভিত্তি স্থাপন করেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি রেলকে গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন রেলই অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, এই রেল সেতু নির্মাণ হলে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগে পরিবর্তন আসবে।

‘আমরা ট্রান্স এশিয়া রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারলে দেশের সম্বৃদ্ধি বয়ে আসবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

রেলসেতু নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকেও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি অগ্নি সন্ত্রাসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছিল রেলের। নতুন নতুন যে রেলে বগিগুলো কেনা হয়েছিল, সব তারা পুড়িয়েছে।

‘এখন রেল যথেষ্ট সেবামুখী। করোনার মধ্যেও রেল সেবা দিয়েছে।’

ক্রমেই সারা দেশকে রেল নেটওয়ার্কে নিয়ে আসা হবে বলে প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন সরকারপ্রধান।

‘চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। রেল, নৌ, সড়ক ও আকাশপথ যত বিস্তৃত হবে দেশের অর্থনীতি, ততই শক্তিশালী হবে।’

বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারেও এই সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।

‘দেশ স্বাধীনের পর ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাপান সফরের সময় সে দেশের সরকারপ্রধানের কাছে সেতুটি নির্মাণে সহযোগিতা চান। সে হিসেবে চুয়াত্তরে সমীক্ষার কাজও শুরু হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।’

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক এরশাদও এ সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সময় একটি নকশা প্রস্তুত করা হয়। তবে সে সময় এতে রেল সংযোগ ছিল না।

‘ছিয়ানব্বইয়ে সরকার গঠনের পর পুরোনো নকশার ওপর একটি রেল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ আমরা নেই। যেহেতু নকশা আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল, এখানে একটির বেশি রেললাইন স্থাপনের সুযোগ ছিল না।’

রেল সংযোগ দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেছিল রেল কখনো লাভজনক হবে না। তাই অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল এ রেললাইন।

‘আমি বলেছিলাম উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই এই রেল সংযোগ প্রয়োজন। এখন রেলই সবচেয়ে লাভজনক। যারা সে সময় বাধা দিয়েছিল, তারাই এখন দাবি করছে আলাদা রেল সেতু করতে।’

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে, তারা রেল যোগাযোগ ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারীদের কোনো দায়িত্ববোধ ছিল না। ক্ষমতা ভোগ করা আর সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেই রেল বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিল। লাভজনক নয় ছুতোয় তারা সে সময় অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেয়। প্রায় ১০ হাজার রেলকর্মীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেয়া হয়। আমরা ছিয়ানব্বইয়ে সরকার গঠনের পরই রেলকে কীভাবে লাভজনক করা যায় সে উদ্যোগ নিই।’

টাঙ্গাইলে রেললাইন স্থাপনের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের চারটি ট্রেন দৈনিক আট বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বৃদ্ধি করা হয়।

২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় সেতুর ওপর চলাচলকারী ট্রেনের গতিসীমা। এখন ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত পারাপার করছে এই সেতু দিয়ে। তবে ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে যমুনা নদীর ওপর একটি ডেডিকেটেড রেল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

২০১৬ সালে যখন এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তখন নির্মানের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। তখনকার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে এ সেতু শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় কাজ এগোয়নি।

এর চার বছর পর গত ৩ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) আরও ৭ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। নতুন পরিকল্পনায় প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির মেয়াদও। নতুন পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পের জন্য মূল অর্থের জোগান দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা।

এটি নির্মাণ শেষ হলে এক সঙ্গে দুটি ট্রেন ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারবে, যার সুবিধা পাবে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।


আরও সংবাদ