1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
গৌরবের পাশে কেন এই গ্লানি! - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
গৌরবের পাশে কেন এই গ্লানি! - ebarta24.com
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

গৌরবের পাশে কেন এই গ্লানি!

নাসির আহমেদ
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

আজ এ কথা কে না জানেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ এক অভিন্ন নাম। পরস্পর পরিপূরক দুটি শব্দ। আওয়ামী লীগের গৌরবময় সংগ্রাম আর অর্জনের ইতিহাসের সঙ্গে ধ্রুবতারার মতো জেগে আছে বঙ্গবন্ধুর নাম। আওয়ামী লীগের যে অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ তার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর জীবনব্যাপী সহ্য করা জেল-জুলুম-নির্যাতন আর পরিণামে তার আত্মদানের ইতিহাস।

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সমগ্র জাতিকে নিরঙ্কুশ ঐক্যে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়েছিলেন যে দল ও তার মহান নেতা সেই দলটি এ কোন রকম বদনাম হলে সেই অপমানের দুঃখ ছুঁয়ে যায় তার বিদেহী আত্মাকেও। আজ এরকম দুটি বিপরীত বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে চাই বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে।

সারা দেশে চলমান ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিয়ে যে বাগবিতণ্ডা আর অবাঞ্ছিত সমালোচনার প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোকপাত করতে বসে হঠাৎ চোখে পড়ল একটি আনন্দ সংবাদ। আনন্দের প্রসঙ্গটি আগে বলি। গত শনিবার (৩০ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে জানা গেল সেই সুসংবাদ- স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে তার নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর নির্বাহী সংসদ। পুরস্কারের শিরোনাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমিক্স।’

আগামী ১১ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

বঙ্গবন্ধুর নামে দেশের অভ্যন্তরে অনেক পুরস্কার এবং সম্মাননা রয়েছে, রয়েছে নানা স্থাপনাও। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একই বঙ্গবন্ধুর নামে প্রবর্তিত কোন পুরস্কার এবং তার প্রবর্তক জাতিসংঘের মতে বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান শাখা ইউনেস্কো। নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি অর্জন।

প্রায় একই মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি বলেছেন ইউনেস্কোর সারা দুনিয়ায় সম্মানিত একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এরকম একটি পুরস্কার ঘোষণা করেছে- এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আমাদের জন্য সবচেয়ে গর্বের আনন্দের বিষয় হলো- জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ যৌথভাবে পালন করছে এটি ১৬ কোটি বাংলাদেশির জন্য গর্বের বিষয়।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত অক্টোবর থেকে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর করছেন ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (ইউএনএফসিসিসি)-এর কনফারেন্স অন পার্টিজের ২৬তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে। বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু বিষয়টিকে যারা ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের ঊর্ধ্বে কে কে দেখেন- দেশের এমন প্রতিটি নাগরিকের কাছেই বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের গৌরব এক পরম আনন্দের খবর।

এই নিবন্ধের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু এবং তার হাতেগড়া আওয়ামী লীগের গৌরবময় অর্জন সমার্থক। সংগত কারণেই তার প্রাণপ্রিয় সংগঠনে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ সমুন্নত থাকবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার আদর্শ সমুন্নত রেখে দল ও দেশ পরিচালনায় শতভাগ নিশ্চিত পরিচয় দিলেও তার আকাঙ্ক্ষার মতো করে দলটিকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থান্ধতাই গৌরবময় ঐতিহ্যের ওপর কালিমা লেপন করে দিচ্ছে বার বার। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী প্রতিটি মানুষের মনে গভীর বেদনার সঞ্চার করে। এই অবাঞ্চিত বাস্তবতা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

আজ একযুগের বেশি আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায়। দলটির কর্ণধার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় করোনারকালীন দুর্যোগ মোকাবিলাসহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নানা ষড়যন্ত্র আর প্রতিকূলতার চড়াই-উৎরাই ঝড়ঝাপটা সামাল দিয়েই দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই যা দেশ-বিদেশে বহুল প্রশংসিত। কিন্তু এত কিছু অর্জনের পরেও দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনের দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে ওঠার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না, চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না কিছুতেই যেন! ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে কখনও এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখা যায়নি। কেন এত বিদ্রোহী প্রার্থী, এর কারণ খুঁজতে গেলে গণমাধ্যমে চোখ রাখতে হবে। অভিযোগগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে বাস্তবতা উপলব্ধি করা গেলে তবেই এ পরিস্থিতি কেন, সে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে নানাদিক থেকে সুবিধাবাদীচক্র দলে ঢুকে পড়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করা যাবে না। সবটাই গুজব নয়, যা রটে তার কিছুটা তো বটে। প্রশ্ন হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে সমর্থন ছাড়া কী করে বিপরীত দর্শনের তথা সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগবিরোধী চক্র ঢুকে পড়ে এমন ঐতিহাসিক গৌরবের অধিকারী দলটিতে!

ব্যক্তিগত গ্রুপিংয়ের কারণে, কখনও ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে দলে ঢুকে পড়ছে অবাঞ্ছিতরা। গত কয়েক বছরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ভেতরে যে ধস দেখা গিয়েছিল, যেসব অপরাধীচক্র চিহ্নিত হয়েছিল, তারা কেমন করে এসেছিল? তারা যখন ধরা পড়ল, মামলা হলো, তখন সবারই প্রশ্ন ছিল: এরা কী করে দলে ঢুকেছিল?

কেউ দায় নেননি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকেই এই আবর্জনা সাফ করতে হয়েছে। আজ যুবলীগ পরিশীলিত সুস্থ রাজনীতির আবহে পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্রলীগে সংস্কার হয়েছে কিন্তু তারপরও বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনে কোন্দল মিটছে না। একমাত্র সভাপতির ওপর নির্ভর করে কোনো দল বা সংগঠন চলতে পারে না। সবাইকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। সেই দায়িত্ব আওয়ামী লীগের মতো দল ও এর অঙ্গ সংগঠনকে সুস্থ রাজনীতিতে সচল রাখা। তৃণমূলে সুসংগঠিত করা।

দলটি এখন সুসংগঠিত যে নেই তার প্রমাণ পাওয়া যায় কোনো বিপর্যয় ঘটলেই। সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী তারা কেন সংঘবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা করতে পারবেন না, সেটা ভাবনার বিষয়। অনেকের কারণেই তা হচ্ছে।

ইউপি নির্বাচনের কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেয়া যাক। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ওই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম। এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ। সমালোচনা চলছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান দলের মনোনয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেছেন জহিরুলের মনোনয়ন বাতিল করার জন্য।

তৃণমূল নেতাদের ভোটে প্রথম হয়েছিলেন বেলাল হোসেন তাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির প্রাথমিক সদস্য হওয়া জহিরুলকে কীভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল, তা জানেন না সাধারণ সম্পাদক, সাবেক বিএনপি নেতার মনোনয়ন বাতিল করে সর্বাধিক সমর্থন পাওয়া বেলালকে মনোনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

বিস্ময়কর এই তথ্য এই যে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিএনপি করেছেন এই প্রার্থী, পরে জাতীয় পার্টি! ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির প্রাথমিক সদস্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন: ‘অতীতে আমি বিএনপি করেছি এটা সত্য। বর্তমানে আমি আওয়ামী লীগ করছি, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে ইউনিয়নে আমার জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে মনোনয়ন দিয়েছে। এতে দোষের কিছু আছে বলে মনে করি না।’

এই অবস্থায় যদি প্রকৃতই যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করছেন সেই প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী বলে চিহ্নিত হন তাহলে দলের ঐক্য এবং শৃঙ্খলা কীভাবে ধরে রাখা যাবে?

এই ঘটনা কোনো একটি জেলায় মাত্র ঘটেনি এমন ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। জেলা সভাপতি পছন্দ করছেন, এমপি সাহেব করছেন না, এই দ্বন্দ্বে অনেক জায়গায় দলে ঢুকে পড়ছে অবাঞ্ছিতরা।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে শিবির নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল হোসেন ইমাদ নামের মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ও দেশে থাকা অবস্থায় তার যে ফেসবুক আইডি ছিল গত ২ অক্টোবর পর্যন্ত সেটা অ্যাকটিভ রেখেছিলেন।

অভিযোগ আছে, ওই আইডিতে সরকারবিরোধী অসংখ্য পোস্ট রয়েছে। প্রতিপক্ষের দাবি, বর্তমানের নতুন আরেকটি আইডি চালু করেছেন তিনি। দুবছর আগে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন ইউনিয়নে। এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। এই নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড। ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন তিনি একসময়’। বিরুদ্ধবাদীদের জবাবে তিনি বলেন, নামের মিল থাকায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার নামে আরেকজন ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নন।

যশোরের ঘটনার সংবাদ শিরোনাম ‘রাজাকারের ছেলের নৌকা: প্রতিবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন।’ সচিত্র প্রতিবেদনের বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে শুধু বলা যায়, কেন এত বিদ্রোহী প্রার্থী, কেন এসব ঘটনা ঘটছে? তলিয়ে দেখুন।

দলের জেলাপর্যায়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শীর্ষপর্যায়ের এমপি, মন্ত্রী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- তাদের মধ্যে বিরোধ বিভেদ, কোথাও প্রকাশ্যে কোথাও নীরবে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সারা দেশ ঘুরে দেখতে অনুরোধ করি। সামনে নির্বাচন। কোন অবস্থায় আছে আওয়ামী লীগের দলীয় ঐক্য, তা নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করুন। তা না হলে মহাবিপর্যয় ঘটতে পারে। যদি বিপর্যয় ঘটে যায় তখন আর কিছু করার থাকবে না। অতএব সময় থাকতে মাঠে নামুন। ‘সময় গেলে সাধন হবে না।’ লালনের এই অমর বাণী বিশ্বাস করুন।

লেখক: নাসির আহমেদ, কবি-সিনিয়র সাংবাদিক। সাবেক পরিচালক (বার্তা), বিটিভি। উপদেষ্টা সম্পাদক দেশের কণ্ঠ।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021