1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
"সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সাথে মিশে যেয়ো, জোহুরা!" - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
"সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সাথে মিশে যেয়ো, জোহুরা!" - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

“সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সাথে মিশে যেয়ো, জোহুরা!”

হামজা রহমান অন্তর
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১

“জোহুরা,
পারলে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সাথে মিশে যেয়ো।”

পৃথিবীর সমস্ত প্রেম লুকিয়ে আছে এই একটা লাইনের ভেতর। একাত্তরের ২৫ মার্চ ক্র‍্যাকডাউনের পর স্বদেশের মাটি ছেড়ে যাবার কিছুক্ষণ আগে স্ত্রী জোহুরা তাজউদ্দিনকে এই চিরকুট লিখে গিয়েছিলেন সিগারেটের প্যাকেটের ছেড়া টুকরার উপর।

দেশের প্রতি, নেতার প্রতি, প্রিয়তমার প্রতি, কর্তব্যবোধের প্রতি এই সীমাহীন ভালোবাসার মানুষটা পঁচাত্তরের আজকের এই দিনে হাসতে হাসতে যমদূতকে বরণ করলেন শুধুমাত্র তার নেতা ‘মুজিব ভাই’ এর সাথে বেঈমানী করতে পারবেন না বলে!

আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে বঙ্গবন্ধুর রুমে যাওয়ার আগে তাজউদ্দিনের রুম টপকে যেতে হতো যাতে নেতার অসুবিধা না হয়। বঙ্গবন্ধুর রুমের দরজার উপরে বড় করে তিনি লিখে রাখতেন ‘নেতার ঘর’।

ডিসেম্বরে শুরুতে ভারত সরকার যখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলো, এরই সাথে সাথে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আসা শুরু করলো, সাংবাদিকরা তাজউদ্দিন আহমেদের অনুভূতি জানতে চাইলেন। ঐ মুহূর্তেও তিনি তার নেতার কথা ভুলে যাননি। অশ্রুসজল চোখে তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, “আমি এক হতভাগা ধাত্রী, নিজ হাতে একটা বাচ্চার (স্বাধীন বাংলাদেশ) জন্ম দিলাম, কিন্তু বাচ্চার বাবার (জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু) কাছে খবরটা পৌছাতে পারলাম না!”

নয় মাসে একটা মানব শিশুর জন্ম হয়না, একটা দেশ পেয়ে গিয়েছিলাম আমরা।

মুক্তিযুদ্ধের বেশিরভাগ সময় ভারতে থেকে প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনা করেছেন। ভারতের সময় অনুযায়ী সব মন্ত্রী-আমলাদের ঘড়ি ৩০ মিনিট পেছানো থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ঘড়ি চলতো বাংলাদেশের সময়ে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই ঘড়ির টিকটিক আওয়াজ শোনা যাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার আর বনানী কবরস্থান থেকে।

তখন ছিলো মধ্যরাত, আগুনের অমানিশা কাল! নরকের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েকটি সেলে। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল, রাজবন্দী হত্যার মতো ঘৃণ্য নারকীয় হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল সেদিন ঘাতকের দল। আগস্টের পর নভেম্বর মাসে এসে জাতি আরেকবার শোক রক্তধারায় মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলো। আগস্টের রক্ত শ্রাবণ, মৃদু হিমশীতল নভেম্বরকেও সিক্ত করে ছেড়েছিলো!

সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মাঝে যিনি তার প্রিয়তমাকে বিলীন করে দিতে পারেন, তাকে বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে দেবার সাধ্য কার? তিনি সমস্ত বাঙালির মধ্যে মিশে থাকবেন যতদিন বাঙালির একটি স্বাধীন দেশ থাকবে। হে মৃত্যুঞ্জয়ী কমরেড, লও সালাম।

– হামজা রহমান অন্তর (কলামিস্ট ও ছাত্রনেতা) এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে…

 





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021