1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
মেডিকেল সেক্টরে এগিয়ে নারীরাই - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
মেডিকেল সেক্টরে এগিয়ে নারীরাই - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

মেডিকেল সেক্টরে এগিয়ে নারীরাই

নাজিম আজাদ
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১

মেডিকেলে পড়ার জন্য ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা বেশি আবেদন করছেন। এমবিবিএস কোর্সে ছাত্রীরাই বেশি ভর্তি হতে পারছেন। নতুন চিকিৎসক হয়ে যাঁরা বের হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। এই প্রবণতাকে ইতিবাচক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেডিকেলে ভর্তি ও এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকদের পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবছরই নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি ছিল।

নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশে এমবিবিএস পাস করেছেন ৪৮ হাজার ৭৭৭ জন দেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নারী ২৬ হাজার ৯০১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের হিসাবে, এমবিবিএস পাস করেন ৮ হাজার ৫৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ছিলেন ৫ হাজার ৬৬ জন বা ৫৯ শতাংশ। মেডিকেল পাস করে গুটিকয়েক বাদে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী চিকিৎসা পেশায় যোগ দেন।

দেশে উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীর সংখ্যা কম। ব্যতিক্রম চিকিৎসাশিক্ষা। ১০ বছরে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন মেডিকেল কলেজে পড়তাম, তখন ছাত্রীর সংখ্যা কম ছিল। এখন বিপরীত চিত্র। এটা দেখে ভালো লাগে।’ তিনি বলেন, মেয়েরা এই পেশায় আসতে চায়। এই পেশায় সম্মান আছে। মেয়েরা মেধার জোরেই চিকিৎসা পেশায় ঢুকতে পারছে।

একাধিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে এখন মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১৫। এর মধ্যে সরকারি ৩৭টি, বেসরকারি ৭২টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ৬টি। এতে আসনসংখ্যা ১১ হাজার ৭২। সরকারি হিসাব বলছে, ২০২১ সালে সরকারি মেডিকেল কলেজে ৪ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ৫৪ শতাংশ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. টিটো মিয়া বলেন, ‘একসময় ছাত্রীদের জন্য কোটাব্যবস্থা ছিল। সময় বদলেছে। এখন কলেজে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। ফলও তাঁরা ভালো করছেন। আমরা এটাকে ইতিবাচক মনে করছি।’

তবে তুলনামূলকভাবে বেশি ছাত্রী ভর্তি হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। রাজধানীর গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ এ বছর এমবিবিএস কোর্সে ১১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে, এর দুই-তৃতীয়াংশ ছাত্রী।

সার্বিকভাবে ছাত্রী বেশি হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। পাঁচটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শুধু ছাত্রী ভর্তি করা হয়। এগুলো হলো টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ, যশোরের আদ-দ্বীন শখিনা মেডিকেল কলেজ, ঢাকার সিকদার মেডিকেল কলেজ, ওমেন্স মেডিকেল কলেজ ও সিলেট ওমেন্স মেডিকেল কলেজ।

শুধু ভর্তি নয়, মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা ছাত্রদের থেকে ছাত্রীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এমবিবিএস ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন করেছিলেন ৭২ হাজার ৯২৮ জন। এর মধ্যে আবেদনকারী ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার বেশি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলছেন, ২০২৬-২৭ সাল নাগাদ দেশে প্রতিবছর পুরুষ চিকিৎসকের দ্বিগুণ নারী চিকিৎসক ডিগ্রি নিয়ে পেশা চর্চার সুযোগ পাবেন।

ব্যতিক্রম মেডিকেল শিক্ষা
দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা বেশি। কলেজে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীর হার প্রায় সমান। এরপর থেকে ছাত্রীর সংখ্যা ও হার দুটোই কমতে দেখা যায়। স্নাতক পর্যায়ে এখন নারী শিক্ষার্থীর হার ৩৬ শতাংশ।

এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মেডিকেল শিক্ষা। তবে কর্মক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকদের সমস্যা দুটি। হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিনের ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অন্যদিকে গ্রামে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুবিধার ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে এসব বাধা কাটিয়ে নারী চিকিৎসকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী চিকিৎসক বাড়ছে, সেটা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত সমন্বয় করতে হবে। স্বাস্থ্য জনবল পরিকল্পনায় তা গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

প্রবীণ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতেই সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হচ্ছেন ছাত্রীরা। তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাঁদের সঠিকভাবে কাজে লাগানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021