1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
৭ নবেম্বর ॥ তথাকথিত বিপ্লবের দিন - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
৭ নবেম্বর ॥ তথাকথিত বিপ্লবের দিন - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

৭ নবেম্বর ॥ তথাকথিত বিপ্লবের দিন

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

রণেশ মৈত্র
সকল প্রকার শোষণ, বিশেষ করে অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তিলাভ এক বিশ্বজনীন আকাক্সক্ষা। এ কথা অতীতেও যেমন সত্য ছিল, বর্তমানেও তাই। যতদিন পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে শোষণ বজায় থাকবে ততদিনই সর্বত্র মানুষের এমন আকাক্সক্ষা থাকবে। ‘বিপ্লব’ শব্দটি ছোটবেলায় শুনেছিলাম। যৌবনের প্রারম্ভে বিপ্লবের দীক্ষা নিয়েছিলাম। আজও সেই একই প্রত্যয় নিয়ে বেঁচে আছি। বিপ্লব মানুষকে আশাবাদী করে তোলার এক বিস্ময়কর চেতনা।

প্রথম আমরা শুনেছি ফরাসী বিপ্লবের অমর কাহিনী। পড়েছি ইতিহাসেও। কলেজ জীবনে পাঠ্যবইতেও দেখেছি। ফরাসী বিপ্লবের মৌলিক চেতনা ছিল সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা। দুনিয়াব্যাপী এই চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এ এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। দাস যুগ থেকে শুরু করে লড়াই করতে করতে সামন্তবাদী যুগ পেরিয়ে বিপ্লবী ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে ঘটাতে মানুষ আজ পুঁজিবাদী ব্যবস্থাধীনে চলে এসেছে। এসেছে প্রায় গোটা বিশ্বই।

বাংলাদেশে ‘বিপ্লব’ নামে এক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একাংশ। মুজিব বাহিনীর প্রধান অংশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বঙ্গবন্ধু হত্যার নির্মম ঘটনার পর সামরিক বাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমানকে অবলম্বন করে। ঐ যুগে সভা-সমাবেশ-মিছিলগুলোতে জাসদের নেতাকর্মীদের ¯েøাগান দিতে শুনেছি, ‘কমরেড জিয়া-লাল সালাম’। তারা দাবি করত তারা বিপ্লব করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তারা সন্ত্রাস করেছে। সন্ত্রাসবাদী ছিল তারা। এ কারণে অনেককে তাদের অমূল্য জীবনও দিতে হয়েছে, যেমন হয়েছে নকশালপন্থীদের।

মজার ব্যাপার, তারা কেউই শোষিত জনতার মুক্তির জন্য আদৌ কোন কিছু করেনি। নকশাল রাতে কৃষকের জমি কেড়ে নিয়েছে, জমির ফসল কেটে নিয়ে আবার সেই কাটা ফসলের ক্ষুদ্রাংশ কৃষককে ফেরত দিয়ে আর কিছুটা গরিবদের মধ্যে বিনামূল্যে বিলি করে নিজেদের বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী বলে জাহির করত। কোন কৃষক আপত্তি জানালে তাকে গুলি করে মেরে ফেলত।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে জাসদ প্রথম দিকেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ঢাকার সরকারী বাসভবন ঘেরাও করে। জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর একাংশ আটক করলে জাসদের গণবাহিনী জিয়াকে মুক্ত করে। পরবর্তীকালে ‘কমরেড জিয়াই’ জাসদ নেতাকর্মীদের দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক করে। তারা তখন বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবেও মানত না। এসবের বেনিফিসিয়ারী হয়েছে একমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীসহ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো। আর যে সকল বামপন্থী শক্তি, যথা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মুক্তিযুদ্ধের সরকারের পরিপূর্ণ বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমালোচনার নীতি গ্রহণ করেছিল। তাদের সারাদেশে রুশ-ভারতের দালাল’, ‘আওয়ামী লীগের বলেও প্রচার চালাত। প্রায় এক দশক বা তার কিছু বেশিকাল ধরে জাসদের ভগ্নাংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলায় ১৪ দলের নামে এবং এমপি, মন্ত্রিত্বও পেয়ে যায়। যা হোক, তখন দেশে তারা সকলে মিলে যে ভয়াবহ অরাজকতা ও সংশয় সৃষ্টি করেছিল তার ফলে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ভোররাতে সপরিবারে নিহত হওয়ার অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।

সুতরাং কোনভাবেই এটি বিপ্লব তো ছিলই না, বরং প্রকৃত অর্থে ছিল প্রতিবিপ্লব। যার ফলে তখন আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগের অনেককেই ঐ সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হতে হয়েছে। এই সন্ত্রাসীরাই দাবি করেছে তারা ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী’, মার্কসবাদী প্রভৃতি। এ ধরনের কাজ ও প্রচারে তখন মার্কসবাদী ও প্রকৃতি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের বিপুল ক্ষতি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যা সদ্যই শুরু হয়েছিল, তাও বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পুঁজিবাদ

বাংলাদেশ ও তার জনগণ এখন আর তাদের পক্ষে নেই। অতীতেও ছিল না। ছিল ভয় ও শঙ্কা তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পুঁজিবাদ দেশকে গ্রাস করে। বাংলাদেশের অগণিত লোক এখন কোটিপতি, যা এমনকি পাকিস্তানী আমলেও ছিল হাতেগোনা। প্রতি বছর একদিকে যেমন ঐ পুঁজিপতিরা তুমুল বেগে ফুলে-ফেঁপে উঠছে, তেমনি আবার বেকারত্ব, অন্যায়ভাবে স্বল্প বেতন, কৃষকদের জমি হারানো, কৃষি জমির অন্য কাজে উন্নয়নের নামে ব্যাপক ব্যবহার, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য কৃষক পর্যায়ে না পাওয়া, গোটা কৃষি অর্থনীতি দালালদের সিÐিকেটের হাতে চলে যাওয়া এসব কারণে কোটি কোটি মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে নিরাপদ দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একদিকে ঋণখেলাপী হওয়া, সেই লাখো-হাজার কোটি লোনের টাকা অবৈধভাবে নিরাপদে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে বহুতল ঘরবাড়ি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। পাচার হয়ে যাচ্ছে জনগণের কষ্টার্জিত গচ্ছিত টাকা।

রুশ বিপ্লব

মেহনতি মানুষের এমনতর শোষণের অবসান কিভাবে হতে পারে, কাদের দ্বারা হতে পারে বা বিপ্লব যদি সফল হয় তবে দেশ ও জনগণের কি কি সমস্যার সমাধান হতে পারে? বহু গবেষক এ বিষয়ে গোটা পৃথিবীতে বহুদিন ধরে অনেক গবেষণা করেছেন। মানবমুক্তির শ্রেষ্ঠতম গবেষক কার্ল মার্কস, এঙ্গেল্স ও ভøাদিমির ইলচ লেনিন এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গৃহীত তত্ত¡ আবিষ্কার করেন, যা অনুসরণে মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে ১৯১৭ সালের ৭ নবেম্বর এক বিপ্লব সংঘটিত হয়। বিতাড়িত হয় অত্যাচারী শাসক জার। দখল হলো সমগ্র শাসন কাঠামো জনগণের দ্বারা। জারদের সহযোগী সকল আমলা কর্মচারী প্রতিবিপ্লব সাধনের চেষ্টায় উন্মত্ত হয়ে উঠল। কঠোর হস্তে নির্মমভাবে সেই প্রতিবিপ্লব ধ্বংস করে দেয়া হয় কমিউনিস্ট পার্টির অবিসংবাদিত নেতা ভøাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে। সামন্তবাদ পুঁজিবাদের কবর রচনা করে সমাজতন্ত্র সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষিত হলো। গোটা বিশ্ব অবাক দৃষ্টিতে দেখল লেনিন-স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়নে কি অভূতপূর্ব সাফল্যের সঙ্গে সামন্তবাদ পুঁজিবাদ ও সকল প্রকার শোষকের যাবতীয় শোষণের অবসান হলো। পুঁজিবাদ বিদায় নিল। জনগণের সম্পত্তি, জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মালিকানা তাদের হাতে দিয়ে দেয়া হলো। শ্রমিকরা দেশের প্রধান শক্তিতে পরিণত হলো। বিশাল দেশটির নানা সুবিধাজনক স্থানে বৃহৎ ও অন্যান্য শিল্প-কারখানা স্থাপন করে যথাশীঘ্র সম্ভব সর্বোচ্চ উৎপাদনে গিয়ে স্বল্পকালের মধ্যেই একটি আত্মনির্ভরশীল স্বনির্ভর দেশে পরিণত করা হলো। বন্ধনমুক্ত করা হলো দেশের নারী সমাজকে। নারী সমাজ পুরুষের সমান অধিকার অর্জন করলেন। চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যেও তারা পুরুষের সমকক্ষ হয়ে উঠলেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, আহার প্রভৃতিতে সকলের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। ধর্মকে রাষ্ট্রীয় নয়, ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত করা হয়। সকল পণ্য হ্রাকৃত মূল্যে যাতে সকলেই প্রয়োজনমতো কিনতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হয়। সব কিছুর মালিকানা সরকারের হওয়ায় দেশের সর্বত্র সব ধরনের পণ্য একই মূল্যে সকলের কেনার অধিকার স্বীকৃত হয়। দেশের আনাচে-কানাচে সর্বত্র খাঁটি খাদ্যপণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়। প্রতিটি মানুষের কাজের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়। বেতন বৈষম্য দূর করা হয়।

অসংখ্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়। উচ্চ এবং সমমানের অসংখ্য হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। রোগীদের চিকিৎসা, ওষুধ-পথ্য-অপারেশন প্রভৃতি বিনামূল্যে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সমুদ্র তীর ও স্বাস্থ্যকর স্থানগুলোতে বিশাল বিশাল হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। শ্রমিকরা ছিলেন সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত। তাদের জন্য নির্মিত হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি চাক্ষুস দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার ১৯৮১ সালে স্বল্পকালীন (মাত্র ছয় সপ্তাহ) সফরে। আমরা পাঁচজনের এক ডেলিগেশন সিপিএসইউ-এর নিমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে যাতায়াত-থাকা-খাওয়া-দেখা-সাক্ষাত-বেড়ানো প্রভৃতির সুযোগ পাওয়ায় তা সম্ভব হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে এতই উন্নত হয়েছিল যে, মহাশূন্যে স্পুটনিক নামক যান তারাই পাঠানোর প্রথম সুযোগ পেয়েছিল।

এশিয়া-আফ্রিকাসহ পরাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তারা অপরিসীম সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, চীন বিপ্লব, ভিয়েতনাম বিপ্লবসহ বহু বিপ্লব রুশ কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত সরকারের নৈতিক ও বিপুল পরিমাণ বৈষয়িক সহযোগিতায় ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।

তীব্র অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা একদিকে তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীনতাকামী জাতিসমূহ পেয়েছে, তেমনি তারা তীব্র বিরোধিতা করেছে সারা বিশ্বের শোষক ও পরাধীন-পদানত করে রাখা সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বকে সকল ক্ষেত্রে। তাই বঙ্গবন্ধু, ইন্দিরা গান্ধী, ইন্দোনেশিয়ার শোয়েকর্নো, মিসরের কর্নেল নাসের, আমাদের মওলানা ভাসানী এবং বিশ্বের অপরাপর দেশের সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী নেতাদেরও অকৃত্রিম বন্ধু ও সহযোগীতে পরিণত হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

সাম্রাজ্যবাদী শত্রুরাও সর্বদা সক্রিয় থেকেছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উৎখাত সাধনে। বহু স্থানে তারা পরাজিত হয়েছে, সমাজতন্ত্র অক্ষুণœœ থেকেছে, যেমন- কিউবা, ভিয়েতনাম, চীন (যদিও বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ)। (চলবে)

লেখক : একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

[email protected]





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021