1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের - ebarta24.com
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

নাজিম আজাদ
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৩টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে পঁচাত্তর পরবর্তী বীর মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদেরকে বিনা বিচারে হত্যার অপরাধে অবৈধ সামরিক শাসক জিয়ার মরণোত্তর বিচারসহ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা: মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশাসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু করা হয়। এরপর সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্য প্রদানের জন্য তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

আলোচনা সভার বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান প্রতিষ্ঠিত না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অবৈধ সামরিক শাসক জিয়া ও এরশাদ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধান ধ্বংস করে দিয়েছিল। খুনী জিয়া হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদেরকে বিনা বিচারে হত্যা করেছিল যা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করে অবৈধ সামরিক শাসক জিয়ার মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহালের দাবি জাতীয় সংসদে আমি অবশ্যই উত্থাপন করবো। খুনী জিয়ার ভুয়া কবর পবিত্র জাতীয় সংসদ এলাকায় অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বীরের সন্তান। একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সামনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কখনোই মাথা নত করবে না। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ইসলামের প্রকৃত শত্রু। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রাজপথে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত আছি। খুনী জিয়ার কুপুত্র বিদেশে পলাতক আসামী তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিএনপি-জামাতের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতে আরোও সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “জিয়া ছিল ঠাণ্ডা মাথার খুনী। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ পরিচালনার জন্য জাতীয় চারনেতাকেও কারাগারে বিনা বিচারে জিয়ার নির্দেশে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী খুনী জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের হত্যা করে নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিল জিয়া। খুনী জিয়াকে কখনো মানুষ বলা যায় না। অমানুষের মতো সে ঘৃণ্যতম অপরাধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের হত্যা করে তাদের লাশগুলো পর্যন্ত গুম করা হয়েছিল। শহীদ পরিবারগুলো আজও বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে। আশা করি সরকার দ্রুত তাদের দাবিগুলো মেনে নিবেন। ডাঃ মুরাদ হাসানের বক্তব্য আমি সমর্থন করে বলছি অবিলম্বে বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যথায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।”

ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, “সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বজনীন দূর্গা পূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দোসর বিএনপি-জামাতের ক্যাডাররা। কুমিল্লায় মন্দিরে কোরআন শরীফ রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। ধর্মকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্যে। এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে গোপনে নাশকতার ছক কষেছিল স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির দোসর বিএনপি-জামায়াত চক্র। দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বহির্বিশ্বে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিএনপি-জামাত সেই সুযোগটাকে ইস্যু বানিয়ে আন্দোলনে নেমে সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এজন্য কুমিল্লা থেকে শুরু করে দেশব্যাপী বিশৃঙখলা শুরু করেছে বিএনপির-জামাতের ক্যাডাররা। কুমিল্লায় মন্দিরে পরিকল্পিতভাবে কোরআন শরীফ রেখে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি-জামাতের প্রকৃত চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামে মন্দিরে-বাড়িঘরে হামলা এবং সর্বশেষ ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের সামনে পুলিশের ওপর হামলা-সব একই সূত্রে গাঁথা। এসব হামলার সাথে জড়িত বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসে আমাদের শপথ, খুনী জিয়ার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদেরকে রুখে দিতে হবে।”

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, “সাত নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর খুনী জিয়ার নেতৃত্বে ঠাণ্ডা মাথায় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। এসব হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা খুনী জিয়ার অপকর্ম জাতির সামনে উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানাচ্ছি। জিয়ার দোসররা এখনো সক্রিয়। এরা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে রুখে দিতে হবে।”

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গত বছর ভাস্কর্য ইস্যুতেও বিএনপি-জামাত ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। দেশের জনগণ তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের ন্যায় আবারও জনগণ বিএনপি-জামাতকে রাজপথে সমুচিত জবাব দিবে। বিগত ২০০১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ছয় শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল, আহত হয়েছিল ৩০ হাজারেরও বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, ১২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছিল। সংঘবদ্ধভাবে হামলা, নির্যাতন, লুটতরাজে নিঃস্ব হয়েছিল লক্ষাধিক হিন্দু পরিবার। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই খুনী জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। কিন্তু আজও পর্যন্ত সেই শহীদ পরিবারগুলো কোন বিচার ও স্বীকৃতি পায়নি। সরকারকে অবশ্যই এব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসানের বক্তব্যের সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তি একমত পোষণ করেছে। শুধুমাত্র স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির দোসররাই বিরোধিতা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩।দেশবাসীর বিবেকের নিকট প্রশ্ন- বিএনপি জামাত কি সত্যিই ইসলামের চর্চা করে? এরা প্রকৃতপক্ষে আবু জেহেলের অনুসারী অভিশপ্ত গোষ্ঠী। কারণ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিএনপি-জামাত ইসলাম ধর্মের লেবাশ লাগিয়ে প্রতিনিয়ত ইসলাম পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে। এদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, “খুনী জিয়া ১৯ বার ক্যু করে হাজার হাজার সামরিক সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাঁদের লাশগুলো পর্যন্ত পরিবারের নিকট হস্তান্তর না করে গুম করা হয়েছিল। অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করে খুনী জিয়া বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা শূন্য রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপির সাম্প্রতিক বক্তব্যের সাথে একাত্মতা পোষণ করছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। তাঁর বক্তব্য শুনে যাদের জ্বলে তারা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত অথবা স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর। এদেশের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ডা: মুরাদ হাসান এমপির বলিষ্ঠ উচ্চারণ নিতান্তই সাহসীকতার দাবিদার। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেছিলেন। একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি অপশক্তি স্বাধীনতা বিরোধীরা পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাহাত্তরের সংবিধানকে কেটে ছিঁড়ে ধ্বংস করে আবার বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো। কোন নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেনি। একাত্তরে সকল ধর্মের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সকল ধর্মের মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়, সকল ধর্মের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র ও ধর্ম দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ধর্মকে রাজনীতিতে নিয়ে আসলে সেই ধর্ম কলুষিত হয়। ধর্মকে পুঁজি করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা ইসলাম ধর্মকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলোর সংবিধানে কোথাও রাষ্ট্র ধর্ম উল্লেখ নেই। এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়াতেও রাষ্ট্র ধর্মের কথা উল্লেখ নেই। তাদের সংবিধানেও ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি রয়েছে। রাষ্ট্র সকলকে সমান চোখে দেখবে। এটাই ইসলাম শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্র কোন নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে অন্য ধর্মের মানুষদের খাটো করার অধিকার রাখে না। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এরশাদ ও জিয়া অত্যন্ত সুকৌশলে সংবিধানে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢুকিয়ে মানুষের মগজ ধোলাই করে দিয়েছিল। যার ফলাফল এখনো বাংলাদেশকে ভুগতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত বাহাত্তরের সংবিধানের বিরোধিতা কারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। জিয়া ও এরশাদ কর্তৃক অবৈধভাবে সংশোধিত সংবিধানের পক্ষে যারা কথা বলে তারা প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের দোসর। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই চার মূলনীতির ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। বাহাত্তরের সংবিধানের ১ম অনুচ্ছেদে এই রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া ও এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত সংবিধান কেটে ছিঁড়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। জিয়া ও এরশাদের অবৈধ শাসনামলে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের বিনা বিচারে ফাঁসি দিয়ে লাশ গুম করা হয়েছিল। অবিলম্বে জিয়া ও এরশাদের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করে জাতির সামনে অবৈধ সামরিক শাসক জিয়া ও এরশাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”

আল মামুন আরোও বলেন,
“ধর্ম ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রু। এরা বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এখন দেশের মানুষ অনেক সচেতন। ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রকৃত চরিত্র ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। সামনে আরোও হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সেই ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রতিনিয়ত বিএনপি-জামাতের ধর্ম ব্যবসায়ীরা ষড়যন্ত্র করছে। এরা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু। ধর্মীয় সভাগুলোতে জামাত-শিবিরের কিছু নামধারী আলেম অন্যধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে এরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। এহেন ইসলাম ধর্ম বিরোধী কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ধর্মীয় লেবাশধারী উগ্রবাদীদের শক্ত হাতে দমন করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে যারা নাশকতা করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো, সেই মৌলবাদী অপশক্তিরাই সম্প্রতি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা শান্তির ধর্ম ইসলামের শত্রু। এরা কখনোই ইসলাম ধর্মের আদর্শ ধারণ করে না। ধর্মীয় লেবাশে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে এরা জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরা ইসলাম, দেশ ও জাতির শত্রু। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা এহেন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড দ্বারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মের নামে এরা অপরাজনীতি শুরু করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আবেগকে পুঁজি করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, করোনা সংকটেও কিছু ধর্মীয় লেবাশধারী ওয়াজ বক্তা দেশে করোনা নেই বলে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষদের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন বন্ধে নজরদারী বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় ওয়াজের নামে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের অনেক মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না, জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয় না, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয়না যা দেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধান বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডই ধর্মীয় উগ্রবাদকে আরোও উসকে দিচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে সকল রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই বঙ্গবন্ধু কে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে হবে। অন্যথায় এদেশে তাদের রাজনীতি করার কোন নৈতিক অধিকার নেই।
পবিত্র মসজিদ হচ্ছে মুসলিমদের জন্য ইবাদতের স্থান। কিন্তু সেই মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। অবিলম্বে ধর্ম ব্যবসায়ীদের এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। ইবাদত ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জায়গাগুলো অপব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার সাথে অনেককেই এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বাহাত্তরের সংবিধান ধ্বংসকারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের হত্যাকারী অবৈধ সামরিক শাসক জিয়ার মরণোত্তর বিচার করতে হবে। দ্রুত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে আরোও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021