1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
ডিজেল বিড়ম্বনা ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
ডিজেল বিড়ম্বনা ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

ডিজেল বিড়ম্বনা ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি

ইয়াসির আরাফাত তূর্য
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

রূপসী বাংলার কবি স্বর্গীয় জীবনানন্দ দাশ দ্বিচারী মানুষের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছিলেন,

‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই- করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।’

ভীনদেশিদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গঠিত বিএনপি নামক স্বার্থান্ধ অপরাজনৈতিক দলটির চরিত্র বিশ্লেষণে জীবনানন্দের এ কবিতার বয়ান যথোপযুক্ত বলেই প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশে সম্প্রতি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অপরাজনীতির চেষ্টা করছে জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদের আতুরঘর বিএনপি-জামায়াত চক্র। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মূল্য ছিল প্রতি লিটার ৬৮ টাকা, এরপর ৩ টাকা করে কমিয়ে ৬৫ টাকা করা হয়। একটানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়েনি।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ডিজেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-BPC ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বাংলাদেশে যেহেতু তেলের খনি নেই তাই বহির্বিশ্ব থেকে আমদানি করে দেশের তেলের চাহিদা মেটানো হয়। আর বৈশ্বিকভাবে তেলের মূল্য বেশি হওয়ায় জনগণের সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সহনীয় মূল্যে তেল বাজারজাত করে থাকে।

এবছরের জুন মাসে লিটার প্রতি ২.৯৭ টাকা, জুলাই মাসে ৩.৭০ টাকা, আগস্টে ১.৫৮ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৫.৬২ টাকা এবং অক্টোবরে ১৩.০১ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এতে গত সাড়ে পাঁচ মাসে ডিজেলের জন্য বিপিসির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১১৪৭.৬০ কোটি টাকা। সেইসাথে ডলারের মূল্য ২০১৬ সালে ৭৯ টাকা থেকে এ মাসে দাঁড়ায় ৮৫.৭৫ টাকা। ফলে বাংলাদেশকে ডলারে মূল্য পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

এদিকে, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মিথ্যাচারের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুক ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে ৫ টাকা কমে ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে সেদেশের সরকার। যা মিথ্যাচারের নির্লজ্জ নিদর্শন।

তিনি হয়তো ভেবেছেন জনগণ কিছুই জানবেনা তারা যা বলবে তাকে-ই গোগ্রাসে বিশ্বাস করবেন। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে ফখরুল সাহেবের মিথ্যাচার ধোপে টিকেনি। তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেলো ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পরও পশ্চিমবঙ্গে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯০ রুপি বা ১০৪ টাকা, দিল্লিতে ৯৮.৪২ রুপি বা ১১৪ টাকার সমান। মুম্বাইতে যা প্রায় ৯৪.১৪ রূপি টাকার মূল্যে যা দাঁড়ায় প্রায় ১১০ টাকা করে। নেপালেও এই মূল্য ১১২.৩৯ নেপালি রুপি বা ৮১ টাকা। প্রতিবেশী এসব দেশের চেয়ে মূল্য তুলনামূলম কম থাকায় চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে ডিজেল পাচার করছে।

অন্যদিকে, সরকার আগাম নির্দেশনা দিলে মজুদদাররা কমদামে অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার প্রবণতা এদেশের বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের বহু পুরনো অপসংস্কৃতি। তাই সরকার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থরক্ষায় আগাম তথ্য না দিয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অতিপ্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে বিবেক দিয়ে চিন্তা করলেই বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়।

এদিকে, এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য বিএনপির অযৌক্তিক গলাবাজীর কথা না বললেই নয়। জন্মলগ্ন থেকে জনগণের সুখে দুঃখে দলটির পাশে না থাকার নজির নেই। তারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে লুটপাট সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে হাওয়া ভবন,খোয়াবভবনের মধুবিলাসের নষ্ট চরিত্র বদলাতে পারেনি ।

করোনা মহামারীর সময় তারা দেশের জনগণের কোন খোঁজ রাখেনি। এমনকি বিএনপির দলীয় শীর্ষ নেতারা ভ্যাক্সিন গ্রহণ করলেও জনগণকে ধোকা দিয়েছে। কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন সম্পর্কে জনমনে  নানারকম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে করোনাকালে জনগণের লাশ নিয়ে অপরাজনীতি করার নিকৃষ্টম পথে হাটতে চেয়েছে তারা। পদ্মাসেতুতে মানুষে মাথা প্রয়োজনের জঘন্য বর্বর গুজব ছড়াতেও তারা দ্বিধা করেনি কোনদিন।

অতিসম্প্রতি সম্প্রীতির বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রযন্ত্র পাকিস্তানের অপকৌশল বাস্তবায়নে দুর্গাপূজাকে টার্গেট করে তারা। কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে রাতের আধারে দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে পবিত্র কোরআন  রেখে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটিয়েছে বিএনপি জামায়াতগোষ্ঠী।
পরবর্তীতে প্রশাসনের  আন্তরিকতায় তদন্তে সিসিফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণে বিএনপির নগ্ন কঙ্কাল বেড়িয়ে পড়ছে।

কুমিল্লা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ব্যক্তিগত সহকারী মন্ডপে কোরআন রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা বাস্তবায়নে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নেই সাক্কু উক্ত ঘটনা ঘটানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। দেশের একাধিক স্থানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পাকিস্তানের দালালচক্র বিএনপি জামায়াতের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায়।

এ ঘটনাটি ধর্মীয় দৃষ্টকোন থেকে বিশ্লেষণ করলে বিএনপি নামক দলটির বর্বর যে চরিত্রটি ফুটে ওঠে, তা হলো, ক্ষমতা লাভের জন্য তারা কোরআনকে, পবিত্র ধর্মকে অপব্যবহার করতেও দ্বিধাবোধ করেনা তা আজ প্রমাণিত। যেমনটি করেছিলো অবৈধভাবে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের পদ দখলকারী জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে ও ৩ নভেম্বর জাতীয় চারনেতাকে জেলখানায় বন্ধি অবস্থায় হত্যা করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ পর্যন্ত পবিত্র ধর্মের অপব্যবহার করে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করে।

একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে অন্যের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে আপনাকেই পতিত হতে হবে। তেমনক বিএনপি তাদের ভণ্ডামী ও মিথ্যাচারকে অবলম্বন করে এদেশে অপরাজনীতির যে বিষবাষ্প ছড়িয়েছে তাতে আজ তারা নিজেরাই ধরাশায়ী। অন্যের সমালোচনায় বিভোর হয়ে তারা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি না করে নিজের অন্ধকারে টেনে নিয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে, পবিত্র আল কোরআন ও হাদিসে মিথ্যুক এবং মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কর না।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৬)। রাসূল (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।’ (তিরমিজি : ১৯৭২)

হিংসাপরায়ণ হয়ে মিথ্যা বলা, মন্দ ধারণা থেকে মিথ্যা বলা, বিদ্বেষী মনোভাব থেকে মিথ্যা বলা, বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে মিথ্যা বলা কখনোই ইসলাম সম্মত নয়। আল্লাহতায়ালা মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন এবং এদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
আমাদের সমাজে একটি প্রবাদ বাক্য আছে। ‘চিলে কান নিল’ বলে অযথা চিলের পেছনে দৌড়ানো। অথচ হাত দিয়ে একবারও কান স্পর্শ করে দেখেনা আসলেই কান নিয়েছে কিনা। এটাকে বলে ‘কানকথা’ বা ‘শোনা কথা’। কোনো কথা শুনেই এখানে-সেখানে বলে বেড়ানো হাদিসের ভাষায় মিথ্যা বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘কারও কাছে কোনো কথা শোনামাত্রই তা বলে বেড়ানো মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (মুসলিম : ৯৯৬)।

মিথ্যাচার মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মিথ্যাবাদীর শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ, আল্লাহ সে রোগ আরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’। ওদের যখন বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে অনাচার কর না, তারা বলে, আমরা তো শান্তি স্থাপনকারী। জেনে রেখ, ওরাই অনাচার বিস্তারকারী, কিন্তু ওদের চেতনা নেই’। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১০-১২)।

সর্বোপরি বলা যায় যে, মিথ্যাচার করে সাময়িক সুবিধা পেলেও একসময় মিথ্যুকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে তারা নিন্দিত হবে এবং পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। যারা সত্যবাদী, তাদের জীবন চলার পথ কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ হলেও তারা ইহকালে সম্মানিত হবে এবং পরকালে পাবে উপযুক্ত পুরস্কার।

লেখক: ইয়াসির আরাফাত তূর্য,
সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021