1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
দেশের গৌরব ও সম্মান বজায় রাখতে হবে - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
দেশের গৌরব ও সম্মান বজায় রাখতে হবে - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

দেশের গৌরব ও সম্মান বজায় রাখতে হবে

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১

অজয় দাশগুপ্ত
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্মান বেড়েছে। এ নিয়ে তর্কের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ করে আর্থিক উন্নয়ন আর অবকাঠামোর দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে গেছি আমরা। এতদিন আমাদের সামাজিক অগ্রগতি ও ঐক্য প্রশ্নের মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু গত দুর্গাপূজার পর দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সাধারণত এই প্রতিবাদগুলো আমরা দেখেছি খালেদা জিয়ার আমলে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারাদেশে প্রায়ই ঝামেলা লেগে থাকত। উগ্রবাণ্ড জঙ্গীবাদসহ পাকি ভাবধারায় দেশ ও সমাজকে বদলে দেয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদে প্রায়ই মাঠে নেমে আসত বিদেশে বসবাসরত প্রগতিশীল বাংলাদেশীরা। দেশকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার সেসব প্রতিবাদের দিন শেষ হয়েছে অনেক আগে। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথা তুলতে পারেনি। পারেনি সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিতে। কিন্তু এবারের পূজায় উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে। সরকারকে অসহায় করে প্রশাসনকে একপাশে রেখে তা-ব চালানো সন্ত্রাসীরা কে বা কোন্ দলের তা বুঝতে পারলেও এখনও সবকিছু স্পষ্ট হয়নি।

কোন সম্প্রদায় বা জাতি এখন আর আগের জায়গায় নেই। বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। চটজলদি যোগাযোগ ডিজিটাল আর সামাজিক মিডিয়ার কল্যাণে দুনিয়া পারস্পরিকভাবে যুক্ত। একটা ক্লিক করলেই একজন আরেকজনকে দেখতে পায়, শুনতে পায়। বাংলাদেশের হিন্দুরা দুনিয়ার নানা দেশে প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন সেভাবেই। এখন পর্যন্ত তাদের সেসব প্রতিবাদ মোটামুটিভাবে দেশ ও জাতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এমন কিছু শুনিনি কিংবা দেখিনি যা দেশ ও বাঙালীর ঐতিহ্য কিংবা ঐক্যের বিরুদ্ধে যায়। তবু সাবধানতার বিকল্প নেই।

বাঙালী হিন্দু-মুসলমান ব্রিটিশ আমলেও একসঙ্গে বসবাস করত। হিন্দু-মুসলমানে তেমন কোন বিরোধ ছিল না। ইংরেজ যাবার আগে রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদের যে দেয়াল তুলে দিয়ে যায় তা আজও ভাংতে পারিনি আমরা। বরং দিন দিন যেন তা বড় হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে এ দেয়াল প্রায় ভেঙ্গে দিয়েছিলাম আমরা। পাকিস্তানের কুশাসন আর সাম্প্রদায়িক বিভেদ থেকে বাঁচতে আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তানের মতো ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকে পরোয়া না করে, সামরিক শাসনের নির্যাতনের তোয়াক্কা না করে আমরা বেছে নিয়েছিলাম অসাম্প্রদায়িক দেশ। সে জন্য বাঙালী নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে হারিয়েছে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-পরিজন। সে যুদ্ধে তাজউদ্দীন আহমদ আমাদের দিয়ে গেছেন এমন এক নেতৃত্ব যাতে আগামী প্রজন্ম হয়ে উঠতে পারত অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু ৫০ বছর পর অনেকটাই বদলে গেছে সমাজ। আমাদের সব শুভ চিন্তা আর বোধকে কাঁচকলা দেখিয়ে এবার যারা তা-ব চালিয়েছিল তাদের সবাই প্রায় তরুণ।

তার মানে আমরা সমাজে-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে পড়েছি। এই কারণে জরুরী সতর্কতা। রাজনীতি এখন নেই বললেই চলে। যা আছে তার নাম কেবলই তোষামোদি। এটা জীবন ও নাগরিকদের জন্য বিষতুল্য। আজকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনকাল অনেক বছর ধরে চলার পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রায় ভূলুণ্ঠিত। যত সময় যাচ্ছে তত তা আরও ভয়াবহ দিকে গড়াচ্ছে। এর কারণ আমরা সবাই জানি। এই যে টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে হতাশাজনক পারফর্মেন্সের কারণে যতটা রাগ বা বিরক্তি তার চেয়ে ঢের বেশি আনন্দ পাকিস্তান জিতেছে বলে।

বলছিলাম দেশে-বিদেশে কোণঠাসা সংখ্যালঘু নামে পরিচিত অমুসলিম বাঙালী জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদের কথা। তাদের এই প্রতিবাদ আজ যদি পথ হারায় এবং বিপথগামী হয় এর দায় নেবে কে? সরকারের ভেতর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অল্প কিছু মানুষের আন্তরিকতা প্রমাণিত। বাকিরা ছলে-বলে-কৌশলে ঘটনা এড়িয়ে সাফাই গাইতে ব্যস্ত। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে সমস্যার সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমরা দেখেছি দুভাগে বিভক্ত বাংলাদেশীরা সব সময় লড়াই করে। আওয়ামী বা মুক্তিযুদ্ধের দিকে যারা তাদের বড় শক্তি প্রগতিশীল মানুষ ও সংখ্যালঘু নামে পরিচিতরা। আজকে তারা যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তাহলে কে দুর্বল হবে? শক্তিহীন হবে কারা? এই সহজ সমীকরণ যদি রাজনীতি না মানে তাহলে দিনে দিনে সবাই দুর্বল হতে হতে কঙ্কাল হয়ে পড়বে। আর সেই কঙ্কালের ভার বহন করতে হবে জাতিকে।

সরকারে থাকা আর দেশ শাসন করা এক বিষয়। সামাজিক গতি-প্রগতি আর উন্নয়নের টেকসই দিকটা ভিন্ন বিষয়। এখন সময় এসেছে পরেরটা নিয়ে ভাবার। আওয়ামী লীগ যত বছর শাসন করছে তা যে কোন সরকারের জন্য ঈর্ষার। এত বড় সময়কালে সবটা পাল্টে দেয়া উচিত। সম্ভবও। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের দৃশ্য ভিন্ন। আপাতত বলব দেশের বাইরে যেসব মানুষ ফুঁসছেন তাদের শান্ত করা, তাদের আত্মীয়-পরিজন, ধর্মের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। শুধু কথা বলে এ কাজ হবে না। মাঠে নামতে হবে সবাইকে। সেই ঐক্য আর শক্তি কি আদৌ আছে?

দেশের সাধারণ জনগণকে স্যালুট। তারা চায়নি বলেই দাঙ্গা বিস্তার লাভ করেনি। তারা চায় না বলেই বাকিরা কোণঠাসা। তারা শান্তি আর সাম্যে বাঁচতে চায় বলেই দেশ নিরাপদ। এখানে পাকিস্তান, ভারত, চীনের রাজনীতি ঢোকানো অনুচিত। মাথা গরম করা নেতাদের কাজ না। মনে রাখা দরকার এখন বিশ্বায়নের যুগ। আন্তর্জাতিকভাবে কাউকে আজ বন্ধু কাল দুশমন ফের বন্ধু বানালে বাকিরা চুপ থাকবে না। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌল নীতিমালা ও বঙ্গবন্ধুর নীতি যদি প্রতিষ্ঠা করা যায় নিঃসন্দেহে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু চারদিকে ছদ্মবেশী আর পোশাকে বঙ্গবন্ধু প্রেমিকের ভিড়ে আসল মানুষজন অসহায়। কিভাবে উত্তরণ সম্ভব? তার উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিই দিতে পারে।

আমাদের জানার কথা আর বোঝার ব্যাপার বিষয়টা যেন হাতের বাইরে না যায়। দেশ ও দেশের মাটির প্রতি অধিকার সকলের সমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশ সবার। এ কথাটা সবাইকে মানতে হবে। ক’দিন পরপর ইচ্ছেমতো মূর্তি ভাঙ্গা আর বিচারহীনতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটার মতো দুঃসাহস এসেছে। এবার আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি বেশ আলোচিত আর সমালোচিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আর বিচার করে জনগণকে আশ্বস্ত করা জরুরী। একই সঙ্গে আবারও সবাই মিলে দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মান বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ থাকা। এটাই বাংলাদেশের মূলমন্ত্র।

[email protected]





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021