1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বৃহৎ রূপ নিচ্ছে সিরামিক শিল্প - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বৃহৎ রূপ নিচ্ছে সিরামিক শিল্প - ebarta24.com
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

বৃহৎ রূপ নিচ্ছে সিরামিক শিল্প

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১

দেশের আবাসন খাত বড় হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পে বড় বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসছে বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রসারিত হচ্ছে এসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের বাজার। বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় নির্মাণ খাতে একসময়ের শৌখিন পণ্যগুলোও এখন হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা আচরণে পরিবর্তনের বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে সিরামিক টাইলসের বাজার। বাড়ির মেঝেতে সাধারণ প্লেইন কংক্রিট, পাকা ঢালাই বা মোজাইকের পরিবর্তে সিরামিক টাইলসেই এখন ভোক্তাদের আগ্রহ বেশি। এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন সিরামিক টাইলসের ব্যবহার বাড়ছে। পাঁচ বছর আগেও পণ্যটির বাজার ব্যাপ্তি ছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। বাড়তি বিনিয়োগ ও চাহিদায় ভর করে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকায়।

দেশে আধুনিক সিরামিক শিল্প যাত্রা করে পঞ্চাশের দশকের শেষে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় পাকিস্তান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। স্বাধীনতার পরপর প্রতিষ্ঠানটির নাম পাল্টে রাখা হয় পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কারখানাটি ১৯৬৬ সালে উৎপাদন শুরু করেছিল। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে সিরামিক পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা আছে ৬৮টি।

বিসিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের অনেকগুলো বড় কোম্পানি এ মুহূর্তে সিরামিক টাইলস পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরেও পণ্যটির বাজার ব্যাপ্তি ছিল ৪ হাজার ৬০১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। ওই সময়ের পর থেকে এ পর্যন্ত শিল্পটির আকার আরো বেড়েছে। চলমান কভিড মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর সাময়িক স্থবিরতা থাকলেও তা এ বাজার সম্প্রসারণকে থামাতে পারেনি।

সিরামিক টাইলসের বর্তমান বাজার ব্যাপ্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশিত না হলেও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আকার কোনোভাবেই ৫ হাজার কোটি টাকার কম নয়। বিসিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে টাইলসের বাজারের আকার ছিল ৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকার, যার মধ্যে আমদানি হতো ২৪ শতাংশ। বাকি ৭৬ শতাংশ তৈরি হতো স্থানীয় শিল্প-কারখানায়। সে হিসেবে ২০১৯-২০ পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাজারের আকার বেড়েছে ২৭ শতাংশ। ওই সময়ে বাজার চাহিদা পূরণে আমদানির হিস্যা ছিল ১৬ শতাংশ। বাকি ৮৪ শতাংশ উৎপাদন করছিল স্থানীয় শিল্প-কারখানাগুলো।

বিসিএমইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পণ্যটির মোট বাজারের ৬০ শতাংশেরও বেশি দখল করে রয়েছে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠান। শিল্পটিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান পাঁচটি হলো আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেড, আকিজ সিরামিকস লিমিটেড, গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্টার সিরামিকস লিমিটেড ও মীর সিরামিক লিমিটেড। বাজারে প্রতিযোগিতায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিরই অংশীদারিত্ব ৫ শতাংশেরও কম। সিরামিক টাইলসের বাজারে উল্লেখযোগ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফু-ওয়াং, শেলটেক ইত্যাদি। এ শিল্পে প্রায় তিন বছর হলো বিনিয়োগ করেছে ডিবিএল। অতিসম্প্রতি বাজারে আসতে শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপের সিরামিক টাইলসও।

বিসিএমইএর হিসাবে, দেশে সিরামিক টাইলসের বাজারে বার্ষিক টার্নওভার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি অংশীদারিত্ব আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিজের। এর পরেই আছে আকিজ সিরামিকস লিমিটেড। কোম্পানি দুটির বাজার হিস্যা যথাক্রমে ১৬ দশমিক ১৬ ও ১৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এরপর বাজারে গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অবদান ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। স্টার সিরামিকসের ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ অংশীদারিত্ব মীর সিরামিক লিমিটেডের। বাজারে বাকি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ৩৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় শৌখিন হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে সিরামিক টাইলস। অতীতে নির্মাণ পণ্যটির ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে এ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে দেশী বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও। দেশে বর্তমানে গোটা সিরামিক শিল্পের বিনিয়োগ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু টাইলস উৎপাদনে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেশে স্থাপিত সিরামিক শিল্প-কারখানাগুলোয় উৎপাদিত পণ্য মূলত তিন ভাগে বিভক্ত—স্যানিটারিওয়্যার, টেবিলওয়্যার ও টাইলস। এর মধ্যে স্যানিটারিওয়্যার তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮। টেবিলওয়্যার তৈরি করে ২০টি। বাকি ৩০টি প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় টাইলস। এ ৩০ প্রতিষ্ঠানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

সিরামিক টাইলসের আমদানি ও রফতানি—দুই বাজারেই উপস্থিতি রয়েছে বাংলাদেশের। পণ্যটির বার্ষিক আমদানির অর্থমূল্য ৭৪৫ কোটি টাকা। রফতানির অর্থমূল্য ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তবে মূলত স্থানীয় উৎপাদনের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে পণ্যটির বাজার। দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাইলসের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে টাইলস বাজারের আকার এখন ৪ হাজার ৬০১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

পণ্যটির বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে বিসিএমইএ সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, স্থানীয় বাজার এখন বেশ প্রতিযোগিতামূলক। আগে এত প্রতিযোগিতা ছিল না, কিন্তু এখন বেশ ভালো মাত্রায় রয়েছে। বড় বড় করপোরেট এখন এ খাতে আসছে। এর কারণও রয়েছে। একটা সময়ে সিরামিক টাইলস আমদানি হতো। সেই নির্ভরতা এখন অনেকাংশেই চলে গিয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একসময় সিরামিক টাইলসের ব্যবহার দেখা যেত নগরকেন্দ্রিক বাসাবাড়িতে। এখন গ্রামেগঞ্জে প্রান্তিক পর্যায়েও টাইলসের ব্যবহার হচ্ছে। এক কথায় টাইলস এখন একটি অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবহার ও চাহিদায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের ফলে বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন পণ্যটি উৎপাদনে নেমেছে। ফলে বাজারও বড় হচ্ছে। তবে বাজার প্রতিযোগিতায় এখনো কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। যে শিল্প-কারখানাগুলো এখন আছে, তাদের টেকসই হওয়ার সুযোগ আছে। তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে বলেও দাবি করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অনেক সময় দেখা যায়, কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করে ফেলে। এ ধরনের কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করে বিনিয়োগ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাতে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে দেশে টাইলস শিল্পের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০০ শতাংশ। আগামী ২০ বছরে নির্মাণ শিল্পের প্রবৃদ্ধি হবে দুই অংকের। এ প্রেক্ষাপটে বড় কোম্পানিগুলো সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে বলেই বিনিয়োগ করেছে। সক্ষমতার শক্তিতেই তারা বড় আকারে বিনিয়োগ করতে পারছে। বড় সক্ষমতার শিল্পে মাথাপিছু ব্যয়টা অনেক কমে যায়। ইকোনমি অব স্কেল বিবেচনায় বড় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসা করা বেশ সহজ। বড় বিনিয়োগে মাথাপিছু ব্যয় কম।

আকিজ সিরামিকসের পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বার্তাকে বলেন, আমার বিশ্লেষণে টাইলসের বাজারের আকার ১০ হাজার কোটি টাকার। আর এ বাজারে ভলিউম বিবেচনায় আকিজ সিরামিকস এক নম্বর। আবার একক ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় আকিজ সিরামিকস। ক্রয় সক্ষমতা ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া এবং মানুষের সচেতনতা—এসব কারণেই টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে। এখন পর্যন্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও চাহিদার মধ্যে একটা ভারসাম্য আছে। কোনো কারখানা উৎপাদন করেছে, পণ্য বিক্রি করতে পারছে না, এমন পরিস্থিতি হয়নি। বরং প্রথম সারির কোম্পানিগুলোকে লড়াই করতে হচ্ছে বাজার চাহিদা মেটাতে। গুণগত মানের উন্নয়ন ও নতুন নতুন ডিজাইনের প্রাপ্যতার কারণেই দেশী টাইলসের চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েছে।

পণ্যের কম দাম ছোট কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে মুনাফার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এমন তথ্য উল্লেখ করে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আরো বলেন, নতুন নতুন কোম্পানি সিরামিক টাইলস ব্যবসায় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। কেননা চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা বাড়লেও তা অসম পরিস্থিতির দিকে এখনো ধাবিত হয়নি। তবে বড় বড় কোম্পানি আসার ফলে শিল্পে মূল্যসংবেদশীল হয়ে উঠছে। অতিসম্প্রতি চীনে হাজারেরও বেশি টাইলস কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের উচিত এ সুযোগে বিদেশের বাজারমুখী হওয়া। যদিও এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাইলস এখন লাইফস্টাইল পণ্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্মুক্ত। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত—বিশ্বের কোথায় কী হচ্ছে তা খুব সহজেই জানা সম্ভব হচ্ছে। ফলে টাইলসের ব্যবহার এখন সাধারণ মানুষ শিখে গেছে। আগে মোজাইক দেখা যেত বাসাবাড়িতে। কিন্তু টাইলস অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন। এ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে গিয়েই এখন টাইলসের ব্যবহার অনেক বেড়েছে, যা ছড়িয়ে গেছে গ্রামেগঞ্জেও।

জানতে চাইলে মীর সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, মানুষের লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়েছে। আগে মেঝে হতো মোজাইকের, যা এখন হারিয়ে গেছে। দৃষ্টিনন্দনের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্যও বেশি। ফিক্স করাও খুব সহজ। যেকোনো সাধারণ ভবনও টাইলসের ব্যবহারে দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, ফলে চাহিদাও বেড়েছে। যার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে উৎপাদনও বেড়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে শিল্পটির ভিত শক্তিশালী হচ্ছে।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021